সিআইডি অফিসার সেজে ভরা রাস্তায় অস্ত্র দেখিয়ে ব্যবসায়ীকে অপহরণ এবং পরে লুটপাট। ফুলবাগানের কাছে সেই রোমহর্ষক ঘটনার কিনারা করে ফেলল পুলিশ। ওই ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে দু'জনকে গ্রেপ্তার করেছে ফুলবাগান থানা। তাদের নাম মহম্মদ আলি মোল্লা এবং আসরাফুল মোল্লা। ধৃতদের জেরা করে পুলিশ প্রাথমিকভাবে জানতে পেরেছে, ব্যবসার পাওনা টাকা আদায় করতে এই পরিকল্পনা করেছিল তারা। তবে এই ঘটনায় শুধু মহম্মদ আলি বা আসরাফুল মোল্লাই নয়, মহিলা-সহ ১২ থেকে ১৪ জন জড়িত বলে জানতে পেরেছেন তদন্তকারীরা। তাঁদেরও খোঁজ চলছে।
ঘটনা দিন দুই আগের। পুলিশ সূত্রে, উত্তর ২৪ পরগনার বাদুড়িয়ার এক বাসিন্দা আমদানি-রপ্তানির ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত। তিনি ফুলবাগানের একটি শপিং মলে এসেছিলেন দুই সঙ্গীকে নিয়ে। সেখানে তাঁরা অন্য এক ব্যবসায়ীর সঙ্গে বৈঠক করেন। মল থেকে বেরিয়ে বাড়ি ফেরার পথে তাঁদের উপর চড়াও হন কয়েকজন। নিজেদের সিআইডি আধিকারিক বলে পরিচয় দিয়ে তল্লাশির নামে ওই ব্যবসায়ীকে একটি কালো রঙের স্করপিও গাড়িতে তুলে নেওয়া হয়। তাঁকে বাঁচাতে গেলে সঙ্গীরাও আক্রান্ত হন। তাঁদের মারধর করা হয় বলে অভিযোগ। এরপর ওই চলন্ত স্করপিও গাড়িতে ব্যবসায়ীর মাথায় পিস্তল ঠেকিয়ে এক কোটি টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়।
এতক্ষণে ব্যবসায়ী বুঝতে পারেন, তিনি প্রতারণার শিকার হয়েছেন। দুষ্কৃতীদের দাবিমতো এক কোটি টাকা দিতে না পারায় চলন্ত গাড়িতেই তাঁকে বেধড়ক মারধর করা হয় বলে অভিযোগ। এরপর তাঁর কাছ থেকে নগদ ৭০ হাজার টাকা ও তিন লক্ষ টাকা দামের সোনার চেন লুট করে। এরই মধ্যে ব্যবসায়ীর সঙ্গীরা পুলিশের সাহায্য চান। তা জানতে পেরে দুষ্কৃতীরা উত্তর ২৪ পরগনার মধ্যমগ্রামের কাছে ব্যবসায়ীকে গাড়ি থেকে ঠেলে ফেলে পালিয়ে যায়। মাত্র কিছুটা সময়ের মধ্যে এমন একটা ঘটনা ঘটে যাওয়ায় আতঙ্কগ্রস্ত অবস্থায় তিনি হাসপাতালে ভর্তি হন। পরে ফুলবাগান থানায় অভিযোগ দায়ের করেন ওই ব্যবসায়ী।
ফুলবাগানের শপিং মলের কাছে বসানো সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ খতিয়ে দেখে অভিযুক্তদের খোঁজ শুরু হয়। অবশেষে বসিরহাট ও ন্যাজাট থেকে গ্রেপ্তার করা হয় দু'জনকে। জানা গিয়েছে, ব্যবসার বকেয়া টাকা পেতে তারা ওই ষড়যন্ত্র করেছিল। জানা যাচ্ছে, মহিলা-সহ ১২ থেকে ১৪ জন অভিযুক্ত এই ঘটনায়। বাকিদের খোঁজে তল্লাশি চলছে।
