shono
Advertisement
Bidhannagar

একের পর এক তৃণমূল কাউন্সিলর গ্রেপ্তারে জনপ্রিতিনিধিহীন একাধিক ওয়ার্ড, ভোগান্তিতে সাধারণ মানুষ

বুধবার সন্ধ্যায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে সল্টলেকের ৩৪ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর তথা বরো চেয়ারম্যান সুজিত বসু ‘ঘনিষ্ঠ’ রঞ্জন পোদ্দারকে।
Published By: Kousik SinhaPosted: 09:44 PM May 20, 2026Updated: 09:51 PM May 20, 2026

রাজ্যে পালাবদল হওয়ার পর থেকে একের পর এক অভিযোগে গ্রেপ্তার একাধিক তৃণমূল নেতা-কর্মী। সেই তালিকায় রয়েছেন বিধাননগরের একাধিক কাউন্সিলরও। তোলাবাজি, হুমকি, মারধর-সহ একের পর এক অভিযোগে পুলিশের জালে তৃণমূল কাউন্সিলর এবং তাঁদের শাগরেদদের। এই পরিস্থিতিতে বিধাননগর পুরসভার কোনও কোনও ওয়ার্ড একেবারে জনপ্রতিনিধিহীন হয়ে পড়েছে বলে খবর। এই পরিস্থিতিতে চরম সমস্যার মধ্যে পড়ে ভোগান্তর শিকার সাধারণ মানুষ। তাঁদের দাবি, ভোটের পর কাউন্সিলরদের অনুস্থিতির কারণে বহু জায়গায় পুর ব্যবস্থা কার্যত ভেঙে পড়েছে। জঞ্জাল পরিস্কার, সাফাই, আলো ইত্যাদি রোজকার নাগরিক পরিষেবা বিঘ্নিত হচ্ছে। 

Advertisement

দেবাশীষ রায় নামে এক বাসিন্দার বক্তব্য, সদ্য মাধ্যমিক–উচ্চমাধ্যমিকের ফল ঘোষনা হয়েছে। বহু ক্ষেত্রে জনপ্রতিনিধিদের সার্টিফিকেট জোগাড় করতে রীতিমতো হিমশিম খেতে হচ্ছে। যদিও এ প্রসঙ্গে পুরসভার মেয়র কৃষ্ণা চক্রবর্তী বলেন, ''পুর পরিষেবার কাজে কোনও খামতি রাখছি না। কাউন্সিলরদের অনুপস্থিতি স্বত্ত্বেও পুর কর্মীরা নিয়মিত কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। সবটাই আমি নজর রাখছি।''

পুরসভার মেয়র কৃষ্ণা চক্রবর্তী বলেন, ''পুর পরিষেবার কাজে কোনও খামতি রাখছি না। কাউন্সিলরদের অনুপস্থিতি স্বত্ত্বেও পুর কর্মীরা নিয়মিত কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। সবটাই আমি নজর রাখছি।''

বিধাননগর পুরসভার রাজারহাট এবং সল্টলেক অংশ মিলিয়ে মোট ৪১ টি ওয়ার্ড। বিধানসভা ভোট পরবর্তীতে ইতিমধ্যে বিধাননগর পুরসভার তৃণমূলের তিন কাউন্সিলর পুলিশের জালে। বুধবার সন্ধ্যায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে সল্টলেকের ৩৪ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর তথা বরো চেয়ারম্যান সুজিত বসু ‘ঘনিষ্ঠ’ রঞ্জন পোদ্দারকে। তোলাবাজির অভিযোগে তাঁকে এদিন গ্রেপ্তার করা হয়। ঠিক এর আগে রাজারহাট বাগুইআটি এলাকার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর সমরেশ চক্রবর্তী ওরফে চিন্টু, কেষ্টপুর ২৬ নম্বর ওয়ার্ডের পৌরপ্রতিনিধি সুশোভন মণ্ডল ওরফে মাইকেল গ্রেপ্তার হয়েছে। এক ব্যক্তিকে হুমকির অভিযোগে মহিষবাথান ২৮ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রবীর সর্দারের বিরুদ্ধে বিধাননগর দক্ষিণ থানায় এফআইআরও দায়ের হয়েছে। জানা গেছে, সেই থেকে ওই কাউন্সিলর বেপাত্তা। দত্তাবাদ ৩৮ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর আলো দত্ত চিকিৎসার জন্য কয়েকদিন বাইরে রয়েছেন বলে খবর। আবার রাজারহাট ২০ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রসেনজিৎ নাগকে এলাকায় ফিরে নাগরিক পরিষেবা দেওয়ার আর্জি জানিয়ে সমাজ মাধ্যমে বার্তা দিয়েছে বিজেপি। 

ধৃত সুজিত বসু ‘ঘনিষ্ঠ’ রঞ্জন পোদ্দার।

এহেন পরিস্থিতিতে নাগরিক পরিষেবা বজায় রাখার আহ্বয়ানে বিধাননগরের বিজেপি বিধায়ক শারদ্বত মুখোপাধ্যায় বলেন, ‘‘বহু কাউন্সিলররা এলাকা ছাড়া। কেউ দিঘা ঘুরে বেড়াচ্ছেন। কেউ ফেসবুক লাইভ করছেন। তাঁরা সকলেই ফিরে আসুন। মানুষের কাজে নামুন। ভাববেন না মানুষের কাজে বিজেপি বাধা হচ্ছে।’’

অন্যদিকে, ধৃত রঞ্জনের পাশাপাশি শনিবার করুণাময়ী এলাকা থেকে তোলাবাজির অভিযোগে ধৃত কাউন্সিলর ঘনিষ্ঠ তৃণমূল কর্মী রানা হালদারকেও গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। একইসঙ্গে বিধাননগর পুরসভার মেয়র পারিষদ সদস্য তুলসী সিনহা্ ঘনিষ্ঠ দুই তৃণমূল কর্মী সৌমিক দাস ও বিজয় রাজবংশী পাকড়াও হয়েছে। পুলিশ সূত্রে খবর, ধৃত দু’জনের বিরুদ্ধে সিটি সেন্টার এলাকা থেকে তোলাবাজির অভিযোগ রয়েছে। এরই আগে বিধাননগরের মেয়র পারিষদ সদস্য দেবরাজ চক্রবর্তী ঘনিষ্ঠ অমিত চক্রকর্তীকে ওরফে ননিকে গ্রেপ্তার করেছে বাগুইআটি থানার পুলিশ। একের পর এক ধরপাকড়ে রীতিমতো ত্রাহি রব বিধাননগর জুড়ে।

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

হাইলাইটস

Highlights Heading
Advertisement