ভোটে ভরাডুবির একমাসের মধ্যেই ছত্রভঙ্গ তৃণমূল কংগ্রেস! মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ডাকে কালীঘাটের বৈঠকে ৮০ জন বিধায়কের মধ্যে এলেন মাত্র ১৯ জন। বাধ্য হয়েই রবিবারের বৈঠক বাতিল করে দিলেন তৃণমূল সুপ্রিমো। যদিও সূত্রের খবর, এত কম সংখ্যক বিধায়ক আসায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বেশ ক্ষুব্ধ হন, তিনি বৈঠকের ঘরেই আসেননি। বিরোধী দলনেতা শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের মাধ্যমে খবর পাঠান যে বৈঠক আপাতত বাতিল।
দলের বিধায়ক তথা অন্যতম মুখপাত্র কুণাল ঘোষ জানালেন, শনিবার সোনারপুরে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের এবং রবিবার কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপর ভয়ংকর হামলার পর থেকে বিভিন্ন এলাকার বিধায়করা প্রতিবাদে নেমেছেন। তাঁদের অনেককেক পুলিশ আটক করে থানায় বসিয়ে রাখে। তাই অনেকে ফোন করে অনুরোধ জানিয়েছিলেন, আজকের বৈঠক পিছিয়ে দেওয়া হোক। এলাকায় না থাকলে কর্মীদের উপর হামলা হচ্ছে, কটা দিন সময় দেওয়া হোক। সেই অনুরোধ মেনে সাময়িকভাবে স্থগিত রাখা হল এদিনের দলীয় বৈঠক। তবে সোম ও মঙ্গলবার দু'দিন ধরে প্রতিবাদে নামছে তৃণমূল। সেই ঘোষণাও করেছেন কুণাল ঘোষ।
কালীঘাটের বাড়ি থেকে বেরিয়ে দলের বিধায়ক তথা অন্যতম মুখপাত্র কুণাল ঘোষ জানালেন, শনিবার সোনারপুরে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের এবং রবিবার কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপর ভয়ংকর হামলার পর থেকে বিভিন্ন এলাকার বিধায়করা প্রতিবাদে নেমেছেন। তাঁদের অনেককেক পুলিশ আটক করে থানায় বসিয়ে রাখে। তাই অনেকে ফোন করে অনুরোধ জানিয়েছিলেন, আজকের বৈঠক পিছিয়ে দেওয়া হোক। এলাকায় না থাকলে কর্মীদের উপর হামলা হচ্ছে, কটা দিন সময় দেওয়া হোক। সেই অনুরোধ মেনে সাময়িকভাবে স্থগিত রাখা হল এদিনের দলীয় বৈঠক। তবে সোম ও মঙ্গলবার দু'দিন ধরে প্রতিবাদে নামছে তৃণমূল। সেই ঘোষণাও করেছেন কুণাল ঘোষ।
বিধানসভায় বিরোধী দলনেতা বাছাইয়ের প্রস্তাবনায় তৃণমূল বিধায়কদের সই জাল নিয়ে যে অভিযোগ উঠেছে, তার ভিত্তিতে সিআইডি তদন্তে নেমে একের পর এক বিধায়ককে নোটিস ধরিয়েছে, এবং ভোটের পর থেকে বিভিন্ন এলাকায় যেভাবে তৃণমূল কর্মীরা আক্রান্ত হয়েছেন, সেসব নিয়ে রবিবার বৈঠকের ডাক দিয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তার ঠিক আগেই, শনিবার দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ও রবিবার সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় জনরোষের মুখে পড়েছেন। দু'জনই আহত। এই ঘটনায় ভয়ের পরিবেশ বিরোধী দল তৃণমূলের অন্দরে। তা কাটিয়ে কতজন আজকের বৈঠকে আসবেন, তা নিয়ে সংশয় ছিলই। মনে করা হচ্ছিল, ৮০ বিধায়কের মধ্যে ২৫ জন এলেও অনেক।
কিন্তু ঘটনাচক্রে দেখা গেল, ২৫ জনও নয়, মাত্র ২০ জন বিধায়ক হাজির হলেন কালীঘাটের বাড়িতে। তালিকাটা এরকম -
ফিরহাদ হাকিম
কুণাল ঘোষ
শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়
নয়না বন্দ্যোপাধ্যায়
গুলশান মল্লিক
পুলক রায়
বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়
বীণা মণ্ডল
রহিম বক্সি
রুকবানুর রহমান
অসীমা পাত্র
সমীর জানা
অশোক দেব
আবদুল খালেক মোল্লা
জেবের শেখ, চাপড়ার বিধায়ক
মতিবুর রহমান
মদন মিত্র
আলিফা আহমেদ
তৌসিফ রহমান
মোশারফ হোসেন
এছাড়া ছিলেন চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য, ডেরেক ও ব্রায়েন। কিন্তু এত কম বিধায়কের উপস্থিতিতে বৈঠক বাতিল করে দেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। যদিও কুণাল ঘোষের দাবি, ''এই মুহূর্তে অভিষেক ও কল্যাণদার (কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়) উপর হামলার ঘটনায় দলীয় কর্মীদের সুরক্ষার স্বার্থে নিজ নিজ এলাকায় বিধায়কদের থাকা প্রয়োজন। তাই তাঁদের অনুরোধে এখনকার মতো বৈঠকটি স্থগিত করা হল। পরে কবে হবে, তা পরিস্থিতি বুঝে ঠিক হবে।''
