শিল্প দপ্তরের দায়িত্ব পেয়েই রাজ্যে টাটাকে ফেরানোর আশ্বাস দিলেন মন্ত্রী তাপস রায়। মন্ত্রীর এই আশ্বাসে আশাবাদী সিঙ্গুরবাসী। তবে সিঙ্গুরেই টাটা গোষ্ঠী বিনিয়োগ করবে কি না সেই বিষয়ে নিশ্চিত কিছু জানাননি তাপস। শিল্প ও বাণিজ্য দপ্তরের দায়িত্ব নিয়েই তিনি জানান, তাঁর মূল কাজ হবে বিনিয়োগকারীদের পশ্চিমবঙ্গমুখী করা। একে একে যেসব বিনিয়োগকারী রাজ্য ছেড়ে চলে গিয়েছে তাদের ফেরাতে হবে। সেই তালিকায় রয়েছে টাটাও। একটি শিল্পবান্ধব রাজ্য গড়ার চ্যালেঞ্জ হাতে নেন তিনি।
পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতায় আসার পর রাজ্য বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যও টাটা গোষ্ঠীকে রাজ্যে ফেরানোর কথা বলেছিলেন। এবার সেই সুরেই সুর মেলালেন শিল্পমন্ত্রী তাপস রায় (Tapas Roy)। তিনি বলেন, "টাটাকে রাজ্যে আনতেই হবে। আজকে রতন টাটা বেঁচে থাকলে তাঁর কাছে ছুটে গিয়ে হাত জোর করে অনুরোধ করতাম, তিনি যেন বাংলায় বিনিয়োগ করেন। টাটাকে ফিরিয়ে আনতে তাদের হেডকোয়ার্টারে গিয়ে দেখা করব। টাটা ছাড়াও যেসব বিনিয়োগকারী রয়েছেন তাঁদের হাতে -পায়ে ধরে রাজ্যে শিল্প আনব।"
তাপসের অভিযোগ, আগের সরকারের আমলে তোলাবাজি ছাড়াও বিভিন্ন কারণে বিনিয়োগকারীরা রাজ্য ছেড়ে চলে গিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে তাঁদের বিনিয়োগকারীদের রাজ্যে ফেরানোই প্রধান কাজ হবে বলে জানান তাপস। তিনি জানান, "নিজেদের শিল্প বাড়ানো এবং একটি পরিবারের বৈভব বাড়ানোর দিকেই নজর ছিল আগের সরকার। পশ্চিমবঙ্গের দিকে কোনও নজর ছিল না সরকারের।"
উল্লেখ্য, বাম আমলে সিঙ্গুরে ন্যানো কারখানা তৈরির জন্য এসেছিল টাটা গোষ্ঠী। কৃষকদের জমি নিয়ে কারখানা তৈরির বিষয়ে প্রশ্ন তুলে আন্দোলন করেছিলেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শেষপর্যন্ত টাটারা রাজ্য ছেড়ে চলে যায়। বাংলার শিল্প সম্ভাবনা নিয়ে সেইসময় থেকেই প্রশ্ন উঠে গিয়েছিল। সিঙ্গুরের জমি সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে চাষিদের ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে তৃণমূল আমলে। কিন্তু এখনও সেই জমি চাষযোগ্য হয়ে ওঠেনি বলে খবর। সেই জমিতেই কি টাটাদের ফিরিয়ে আনা হবে? যদিও তাপসের তরফে তা স্পষ্ট করা হয়নি। তবে তিনি জানিয়ে দেন, রাজ্যে তিনি টাটাকে ফিরিয়ে আনবেনই। এই পরিস্থিতিতে আশাবাদী সিঙ্গুরবাসী।
