অধিবেশন চলুক বা না চলুক, সপ্তাহে একদিন বিধায়কদের সঙ্গে দেখা করতে হবে রাজ্যের মন্ত্রীদের। বিধায়কদের এলাকার সমস্যার কথা শুনতে হবে। এবং দ্রুত তা সমাধান করতে হবে। নাগরিক স্বার্থে উন্নয়নের কাজে কোনও ঢিলেমি নয়। তাই বিজেপি পার্টি থেকে মন্ত্রীদের কাছে নির্দেশ গিয়েছে, সপ্তাহে একদিন টাইম করতে হবে বিধায়কদের কথা শোনার জন্য। নাগরিক সমস্যা, এলাকার মানুষের পরিষেবা সংক্রান্ত বিষয় শুনতে হবে। আর সেই মতোই এবার সপ্তাহে বিধানসভাতেই একদিন করে সময় দিতে চলেছেন মন্ত্রীরা। সপ্তাহের কবে কোন দপ্তরের মন্ত্রীরা বিধানসভায় বসবেন বিধায়কদের কথা শুনতে তা দ্রুত মন্ত্রীদের জানাতে বলা হয়েছে বলে খবর। এ প্রসঙ্গে সরকারি মুখ্যসচেতক অম্লান ভাদুড়ী জানিয়েছেন, সপ্তাহে নির্দিষ্ট একদিন মন্ত্রীরা এবার থেকে কথা বলবেন বিধায়কদের সঙ্গে।
বিধানসভার আগের অধিবেশনের শেষদিনে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেছিলেন, বিধানসভায় মন্ত্রীদের ঘরগুলি শুধু নেমপ্লেট লাগানোর জন্য নয়। ওই ঘরে বসে বিধায়কদের সঙ্গে দেখা করে তাঁদের এলাকার সমস্যা শুনে ব্যবস্থা নিতে হবে। আর মুখ্যমন্ত্রীর এই বার্তার পরই দলের তরফে 'বিধায়ক মিট' শুরু করার জন্য নির্দেশ গেল রাজ্যের মন্ত্রীদের কাছে। শুধু তাই নয়, নাগরিক পরিষেবা ও এলাকার সমস্যা নিয়ে বিভিন্ন দপ্তরের কাছে বিধায়কদের যে যে প্রশ্ন থাকবে সেই সব প্রশ্নের উত্তর সংশ্লিষ্ট দপ্তরের মন্ত্রীকে লিখিতভাবে বিধায়কদের জানিয়ে দিতে হবে।
কাজের ব্যস্ততা থাকায় মন্ত্রীদের সবসময় সাক্ষাৎ পাচ্ছিলেন না বিধায়করা। এ ক্ষেত্রে এলাকার সমস্যা সরাসরি জানানো এবং দ্রুত তা সমাধানের ক্ষেত্রেও সমস্যা থাকছিল। তা ছাড়া, নতুন সরকারের মাত্র তিন মাস হয়েছে। ফলে বিধানসভার অধিবেশনে এখনও প্রশ্নোত্তর পর্ব শুরু হয়নি। আগামী অধিবেশনে এই প্রশ্নোত্তর পর্ব শুরু হবে। বাংলায় নতুন সরকারের বয়স হয়েছে তিন মাস। এলাকায় নাগরিক পরিষেবা সচল রেখে উন্নয়নের কাজে নজর সরকারের। দলের বিধায়কদেরও পার্টির তরফে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে জনসংযোগ বাড়ানোর পাশাপাশি সাধারণ মানুষের সমস্যার কথা নিয়মিত শোনার। পুরসভাগুলির কাজ ঠিকমতো চলছে কি না, তা দেখতে সরাসরি কমিশনারদের সঙ্গে বৈঠকও করছেন বিধায়করা। আর উন্নয়নের কাজের গতিকে অব্যাহত রাখতে মন্ত্রী ও বিধায়কদের মধ্যে সমন্বয় আরও বাড়াতে চাইছে বিজেপি।
