তোলা না দেওয়ায় দমদমে এক প্রোমোটারকে বন্দুকের বাট দিয়ে মেরে মাথা ফাটিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠল দুষ্কৃতীদের বিরুদ্ধে। সোমবার রাতে দমদম থানা এলাকার পি কে গুহ রোডে এই ঘটনাটি ঘটে। প্রোমোটারের মোবাইল, সোনার চেন ও নগদ অর্থও ছিনতাইয়ের অভিযোগ উঠেছে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে। তোলা না দেওয়ায় তারা ওই প্রোমোটারকে প্রাণনাশের হুমকিও দিয়েছে বলে খবর। এই ঘটনায় দল ও রং না দেখে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপের বার্তা দিয়েছেন স্থানীয় বিধায়ক অরিজিৎ বক্সী। তিনি জানান, তোলাবাজির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্সের বার্তা দিয়েছে সরকার। এক্ষেত্রেও কঠোরতম শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে। বিধায়কের আশ্বাসের পরই গ্রেপ্তার করা হয় মূল অভিযুক্তকে।
অভিযোগ, বেশ কয়েকদিন ধরে অমরনাথ সিং নামে ওই প্রোমোটারের কাছে 'তোলা' বা চাঁদা চেয়ে ফোন আসছিল। তাঁর থেকে পাঁচ লক্ষ টাকা চাওয়া হচ্ছিল। কিন্তু তিনি সেই টাকা দিতে অস্বীকার করেন। এরপরই সোমবার রাতে তাঁর অফিসে ৪-৫ জন দুষ্কৃতী জোরপূর্বক ঢুকে ব্যাপক তাণ্ডব চালায়। তোলা না দেওয়ায় তাঁকে বন্দুকের বাট দিয়ে ব্যাপক মারধর করা হয়। হামলায় তাঁর মাথা ফেটে যায়। ঘটনার পর দমদম থানায় অভিযোগ দায়ের করা হলে পুলিশ দ্রুত তদন্তে নামে। এরপরই মূল অভিযুক্ত বিশ্বজিৎ রায় ওরফে টিকটিকি রাজুকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
বিধায়ক বলেন, "তোলাবাজির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্সের বার্তা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তোলা চাওয়া হলে কোনও পার্টি বা রং না দেখে সবার আগে প্রশাসনিক পদক্ষেপ নিতে হবে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে। প্রোমোটারকে মারধরের অভিযোগ সামনে আসার পর নিজে আইসিকে ফোন করে অবিলম্বে পদক্ষেপ করতে বলি। কঠোরতম শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে। কোনও ভয়ভীতির পরিবেশ যাতে না থাকে। যেই অন্যায় করুক শাস্তি পেতেই হবে।"
রাজ্যে পালাবদলের পর তোলাবাজি, সিন্ডিকেট রাজের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি নিয়েছে শুভেন্দু অধিকারীর সরকার। তবে এখনও সক্রিয় রয়েছে তৃণমূল আমলের তোলাবাজরা! তাঁরাই এবার বিজেপির পতাকার আড়ালে থেকে বেআইনি কাজ চালানোর চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ। যদিও দলের শীর্ষ নেতৃত্ব প্রথম থেকে নেতা কর্মীদের সাবধান করে দিয়েছেন। এই আবহে দমদমে প্রোমোটারকে বেধড়ক মারধরের অভিযোগ সামনে এল। যদিও তড়িঘড়ি পদক্ষেপ করেছে প্রশাসন।
