দল যখন বিরোধী আসনে ছিল তখন পার্টির সংগঠনের সঙ্গে দলের বিধায়কদের মধ্যে যে সমন্বয়ের অভাব ছিল তা এবার কাটাতে চাইছে বঙ্গ বিজেপি। এখন দল ক্ষমতায়। তাই পার্টি এবং বিধায়করা সমন্বয় রেখে কাজ করবে, যাতে নাগরিক পরিষেবা, প্রশাসনিক কাজের পাশাপাশি দল চালাতে কোনওরকম অসুবিধা না হয়। আর সেই লক্ষ্যেই জুন মাস থেকে জেলায় জেলায় বিজেপির কোর কমিটি কাজ শুরু করছে। কোনও সিদ্ধান্ত নিতে গেলে বিধায়কদের কোর কমিটির সঙ্গে আলোচনা করেই নিতে হবে। শুধু তাই নয়, জেলা সভাপতিও এককভাবে কোনও সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন না। সংগঠনের ক্ষেত্রেও বিধায়কদের মতামতকে গুরুত্ব দিতে হবে।
গত ১৫ মে দলীয় বৈঠকে কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষক সুনীল বনশল জেলায় জেলায় দলের কোর কমিটি গঠনের কথা বলেছিলেন। উন্নয়নের বিষয়ে কোনও সিদ্ধান্ত, পার্টিগত বিষয় সব এই কোর কমিটির মাধ্যমে করতে হবে। জেলা সভাপতি একা কোনও সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন না বলে জানিয়ে দিয়েছিলেন বনশল। ২৫ মে-র মধ্যে এই কোর কমিটি তৈরি করে নিতে হবে। কোর কমিটির সদস্য ১৫ জনের মধ্যে রাখতে হবে। যদিও সর্বত্র কোর কমিটি এখনও গঠন করা হয়নি। জেলা সভাপতি, জেলা পর্যবেক্ষক, জেলা সাধারণ সম্পাদকরা কমিটিতে থাকছেন।
এছাড়াও থাকছেন ওই সাংগঠনিক জেলার বিজেপি সাংসদ ও বিধায়করা। বর্তমানে দল ক্ষমতায় এসেছে। শাসকদল হিসেবে জেলায় জেলায় বিজেপি পার্টির দায়িত্ব নাগরিকরা পরিষেবা ঠিকঠাক মতো পাচ্ছে কি না তা দেখা। বিভিন্ন ওয়ার্ডে পার্টির নেতা-কর্মীদের দায়িত্ব জনসংযোগ বজায় রাখা। জনগণের অভাব-অভিযোগের কথা শোনা। ফলে পার্টির দায়িত্ব বহুগুণ বেড়ে গিয়েছে। আবার বিধায়ক তহবিলের কাজ এলাকায় ঠিক মতো হচ্ছে কি না, সাধারণ নাগরিকরা বিধায়কের পরিষেবা সঠিকভাবে পাচ্ছেন কি না সেটাও নজর রাখতে হবে পার্টিকেও। আর এ ক্ষেত্রে পার্টির সঙ্গে বিধায়কের সমন্বয় থাকাটা জরুরি। আবার পার্টির সাংগঠনিক দায়িত্ব কে কীভাবে সামলাবে, সাংগঠনিকভাবে কী কর্মসূচি থাকবে, সেটাও বিধায়কদের সঙ্গে জেলা সভাপতিকে কথা বলে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। আর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে কোর কমিটিতে। বিধায়কের সাংগঠনিক পদে নেই। কারণ, আগেই বলা হয়েছিল যাঁরা ভোটে টিকিট পাবেন তাঁরা দলীয় পদে থাকবেন না। বাকিরা সংগঠনের দায়িত্বে থাকবেন। সে ক্ষেত্রে বিধায়কদের সঙ্গে পার্টির পদাধিকারীদের সমন্বয় যাতে ঠিক থাকে সেটা দেখা হবে। এ ছাড়া, এলাকায় এলাকায় প্রশাসনিক গতিবিধির উপরে বিজেপির স্থানীয় নেতৃত্বের নজরদারিও থাকবে।
