জেলের ভিতর থেকে আফতাব আনসারির মতো কুখ্যাত অপরাধী কাদের সঙ্গে হোয়াটসঅ্যাপ ও টেলিগ্রাম কলে যোগাযোগ রাখত, তা নিয়ে উঠেছে প্রশ্ন। এমনকী, পাকিস্তানে সে ফোন করত কি না, সেই তথ্যও পুলিশ জানার চেষ্টা করছে। আমেরিকান সেন্টারে হামলার মূল চক্রী প্রেসিডেন্সি জেলের বন্দি আফতাব আহমেদ আনসারির সেলে তল্লাশি চালিয়ে উদ্ধার হয়েছে দুটো স্মার্ট মোবাইল ফোন, একটি আইফোন। এ ছাড়াও মিলেছে দুটি রাউটার, একটি হটস্পট ডিভাইস, ১২৮জিবির এক পেন ড্রাইভ, ওটিজি অ্যাডাপ্টার, কার্ড রিডার। পাওয়া গিয়েছে ৩১ হাজার নগদ টাকাও। কোথা থেকে এসব এল, তা জানতে মামলা রুজু তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।
জেলে বসে কোন ষড়যন্ত্র চালানো হচ্ছিল, কার সঙ্গে দেখা করতেন আফতাব আনসারি, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তদন্তকারীদের অনুমান, জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে মিলে কোনও ছক কষেছিলেন আফতাব। কাদের সঙ্গে ফোনে কথা বলতেন তা তদন্তকারীরা খতিয়ে দেখছেন। পাকিস্তানের নম্বরে ফোন গিয়েছে বলে মনে করছেন গোয়েন্দারা। ইতিমধ্যে উদ্ধার হওয়া ফোনগুলি ফরেনসিক পরীক্ষা করতে পাঠানো হয়েছে। সূত্র মারফত খবর, আফাতাবের কাছে উদ্ধার হওয়া মোবাইল ও আইফোনে হোয়াটসঅ্যাপ, টেলিগ্রাম-সহ একাধিক অ্যাপ রয়েছে যেগুলি যোগাযোগের মাধ্যম হিসাবে ব্যবহার করা হয়। এতেই স্পষ্ট যে কুখ্যাত এই জঙ্গি জেলে বসে বড় ষড়যন্ত্র করছিলেন। এদিকে আফতাবের সেলে নিরাপত্তা আরও আঁটসাঁট করা হয়েছে। সেলের মধ্যে তাঁকে তদন্তকারীরা জেরা করছেন বলে জানা গিয়েছে।
জানা গিয়েছে, জেলে নানা আবদার করত আফতাব। এর আগে কম্পিউটার চেয়েছিলেন কুখ্যাত এই জঙ্গি। যদিও তাঁর সেই আবদার নাকচ করে দেওয়া হয়েছিল। জেলের ভিতরে দুটি রাউটার, হটস্পট দিয়ে ইন্টারনেট ব্যবহার করতেন। শুধুমাত্র পরিবারের সঙ্গে কথোপকথনের জন্য যে এগুলি সঙ্গে রেখেছিলেন এমন যে নয় তদন্তকারীরা নিশ্চিত। ইতিমধ্যে তাঁর সঙ্গে এতদিন পর্যন্ত জেলে কারা দেখা করতে এসেছিলেন তাঁদেরও গতিবিধি কী ছিল সেগুলি খতিয়ে দেখছেন গোয়েন্দারা। জেলে আফতাব কোন কোন বন্দির সঙ্গে কথা বলতেন তাদেরও চিহ্নিত করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে বলে জানা গিয়েছে। জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে মিলে নাশকতা ঘটনার ছক কষছিলেন, নাকি জেল থেকে পালিয়ে যাওয়ার ছক কষছিলেন তাও খতিয়ে দেখছেন গোয়েন্দারা। যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত আফতাব। আমেরিকান সেন্টারে হামলার পাশাপাশি খাদিম কর্তা অপহরণেও নাম জড়িয়েছিল তাঁর। এহেন অপরাধী জেল থেকে পালিয়ে যাওয়ার ছক কষবেন না তা তদন্তকারীরা উড়িয়ে দিচ্ছেন না। পুলিশের অনুমান, হয়তো জেল থেকে পালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করছিল। পালিয়ে পাকিস্তান বা দুবাইয়ে গা ঢাকা দেওয়ার ছক ছিল।
