মালদহের কালিয়াচকের মোথাবাড়িতে বিডিও অফিসে বিচারক আটকে রাখার ঘটনায় ধৃত আইনজীবী মোফাক্কেরুল ইসলামকে হেফাজতে চেয়ে আদালতে আবেদন জানিয়েছিল জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা এনআইএ। বৃহস্পতিবার এনআইএ-র আবেদনে সায় দেয় কলকাতার নগর দায়রা আদালত। ২৭ এপ্রিল পর্যন্ত মোফাক্কেরুল ইসলাম ও তাঁর সহযোগী আকরামূল বাগানিকে এনআইএ হেফাজতের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সুজাপুরে রাস্তা অবরোধের মূল পাণ্ডা মোফাক্কেরুল ও আকরামূল। এই মামলাতেই এবার এনআইএ হেফাজতে রাখার নির্দেশ ধৃত দু'জনকে।
আগের নির্দেশ মতোই, বৃহস্পতিবার আদালতের মুখ্য বিচারক সুকুমার রায়ের এজলাসে হাজির করা হয়েছিল মোথাবাড়িকাণ্ডের ধৃত মোফাককেরুল ইসলাম ও একরামূল বাগানিকে। আদালতে ধৃতদের পেশ করে এনআইএ জানায়, সুজাপুরে জাতীয় সড়ক অবরোধের নেপথ্যে মূলচক্রী হিসেবে কাজ করেছেন মোফাক্কেরুল। বিশৃঙ্খলায় সরাসরি উসকানি দেওয়ার পাশাপাশি সরকারি সম্পত্তি ভাঙচুরেও অভিযুক্ত তাঁরা। তদন্তকারীদের অভিযোগ, পুলিশের ঘেরাটোপ উপেক্ষা করেই মোফাক্কেরুলের ইন্ধনে অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল মোথাবাড়িতে। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার তরফের আইনজীবী শ্যামল ঘোষ জানান, আসল সত্য উদঘাটনের জন্য ধৃত দুজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করার দরকার। মোবাইল ফোন পুলিশের কাছে আছে। সেগুলিও পরীক্ষা করার দরকার বলেও আদালতে জানায় এনআইএ।
এদিকে ধৃতদের তরফে আইনজীবী ইমতিয়াজ আহমেদ জামিনের আবেদন করে বলেন, 'মোফাককেরুল ইসলাম একজন আইনজীবী, তাঁর পালানোর সম্ভাবনা নেই। শর্তসাপেক্ষে হলেও তাঁকে জামিন দেওয়া হোক।' মোফাক্কেরুলের সহযোগী আকরামুলের জামিনের আবেদনও করা হয় আদালতে। যদিও সেই আবেদন খারিজ করে এনআইএ-র বিশেষ আদালত। ২৭ এপ্রিল পর্যন্ত দু'জনকেই এনআইএ হেফাজতের নির্দেশ দেওয়া হয়।
প্রসঙ্গত, গত ১ এপ্রিল এসআইআরের বিরোধিতায় মোথাবাড়িতে সাতজন বিচারপতিকে দীর্ঘক্ষণ আটকে করে রাখার ঘটনায় তোলপাড় গিয়েছিল রাজ্য রাজনীতি। অশান্তির জল গড়িয়েছিল সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত। শীর্ষ আদালতের নির্দেশেই বর্তমানে ঘটনার তদন্ত চালাচ্ছে এনআইএ। এখনও পর্যন্ত এই ঘটনায় মোট ৪৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে ও ১২টি মামলা নথিভুক্ত হয়েছে এনআইএর খাতায়।
