রেকর্ড ভোট। নির্বিঘ্নে ভোট (West Bengal Assembly Election 2026)। নিজেদের ভোট নিজে দিয়েছেন মানুষ। ভোটদানের স্বতঃস্ফূর্ততা এবং উৎসাহ, দুটোই রীতিমতো ঈর্ষনীয়। এই বিপুল ভোটদানে লাভ কার? ইতিমধ্যেই অঙ্ক কষা শুরু করে দিয়েছে রাজনৈতিক দলগুলি।
তৃণমূল অবশ্য প্রথম দফার ভোটের পরই রীতিমতো হুঙ্কার দিচ্ছে। খোদ দলের সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্য, "আজকেই আমরা জিতে বসে আছি, পরের দফায় দুরমুশ করব! দুরমুশ!" সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও একই কথা বলছেন। তাঁর বক্তব্য, "প্রথম দফাতেই বিজেপির দফারফা করে দিয়েছি।"
প্রথম দফার ভোটের দিনও একাধিক কর্মসূচি ছিল মমতার। ভোটের (West Bengal Assembly Election 2026) শেষে অভিষেকও সভা করেন। মমতার সাফ কথা, "তৃণমূল হারতে পারে না। আমরা জিতে বসে আছি। ভোটটা পুলিশ দেবে না। মিলিটারিও দেবে না। ভোটটা মানুষ দেবে। আমি মানুষকে বিশ্বাস করি।" মমতার সাফ কথা, "বিজেপির পতন শুরু হয়ে গিয়েছে। ২০২৬ সামলাতে পারবে কি না, আই অ্যাম ইন ডাউট। বাংলাকে টার্গেট করলে আমরা দিল্লিকে টার্গেট করি, এটা মনে রাখবেন।’’ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়েরও একই সুর। তিনি বলছেন, "ভোর পাঁচটা থেকে প্রতিটা বুথের কন্ট্রোল রুম আমার অফিসের সঙ্গে কানেক্টেড ছিল। প্রথম দফার ভোটেই ওদের দফারফা করে দিয়েছি। তৃণমূলের বেলেঘাটার প্রার্থী কুণাল ঘোষ আরও এক কাঠি এগিয়ে গিয়েছেন। তিনি দাবি করছেন, প্রথম দফাতেই ১৩২-১৩৩ আসন পাবে তৃণমূল।
বিভিন্ন জেলায় ভোটচিত্র বলছে, ভোটের হার বাড়ার মূল কারণ যদি SIR হয়, তাহলে অনুঘটক পরিযায়ী শ্রমিকদের প্রত্যাবর্তন। স্রেফ উত্তরবঙ্গের জেলাগুলিতে প্রায় ২২ লক্ষ পরিযায়ী শ্রমিকের সিংহভাগ ভোট দিতে ফিরেছেন। সাধারণত, পঞ্চায়েত ভোটে এই পরিযায়ীদের নিজেদের উদ্যোগে ফেরান পঞ্চায়েতের প্রার্থীরা। বিধানসভা বা লোকসভা ভোটে এই পরিযায়ীদের একটা বড় অংশ ফেরেন না। কিন্তু এবার এসআইআরের ভয়ে অনেকে নিজেরাই এসেছেন ভোট দিতে। এই পরিযায়ী শ্রমিকদের একটা বড় অংশ মুসলিম, এবং এঁরা তৃণমূলের ভোটার। শাসক দল প্রত্যয়ী, মানুষ তাঁদের পক্ষে ভোট দিয়েছেন। তৃণমূল বলছে, এই বিপুল ভোট আসলে এসআইআর হেনস্তার প্রতিবাদ। কমিশন ও বিজেপির যোগসাজশের বিরুদ্ধে স্বতঃস্ফূর্তভাবে ভোট দিয়েছেন মানুষ। কাদের দাবি সত্যি? সেটা অবশ্য জানা যাবে ৪ মে।
