নিজেদের অধিকার প্রয়োগ করতে ভোট (WB Assembly Election 2026) দিলেন এত মানুষ। প্রথম দফায় রেকর্ড ভোটদানের হার নিয়ে এমনই ব্যাখ্যা করল এসইউসিআই (SUCI) নেতৃত্ব। তবে অশান্তি রুখে ভোট করাতে পারেনি কমিশন, এমন কথাও শোনা গেল। যেখানে ছাব্বিশের প্রথম দফার ভোট অন্যান্য বারের তুলনায় অনেক শান্তিপূর্ণ বলে নানা মহলে আলোচ্য বিষয় হয়ে উঠেছে, সেখানে কেন উলটো সুর এই বামপন্থী দলটির? তার যুক্তিও অবশ্য দিয়েছেন রাজ্য সম্পাদক চণ্ডীদাস ভট্টাচার্য।
চণ্ডীদাসবাবুর জারি করা বিবৃতি অনুযায়ী, ‘‘প্রধানমন্ত্রী বলছেন, তাঁর ৫০ বছরের রাজনৈতিক জীবনে প্রথম এত কম হিংসার ভোট দেখলেন এবং শান্তিপূর্ণ ভোট পরিচালনার জন্য কমিশনকে অভিনন্দন জানালেন। তখন রাজ্যবাসী শান্তির ভোটের নমুনা দেখলেন। বিভিন্ন কেন্দ্রে প্রার্থীরা পুলিশের সামনে মার খেয়েছেন, প্রার্থীর এজেন্টদের মেরে বুথ থেকে বের করে দেওয়া হয়েছে, প্রার্থীর গাড়ি ভাঙচুর করা হয়েছে, তার প্রতিবাদে প্রার্থীদের রাস্তায় বসে পড়ে দেখতে পাওয়া গিয়েছে।’’ সবথেকে বেশি গোলমাল হয়েছে যে মুর্শিদাবাদে, সেখানে বাহিনী সবচেয়ে বেশি ছিল।
বৃহস্পতিবার যে বিপুল পরিমাণ ভোট পড়ল তা নিয়ে দলের রাজ্য সম্পাদক চণ্ডীদাস ভট্টাচার্যের ব্যাখ্যা, মানুষ নাগরিকত্ব হারানোর আতঙ্কে অধিকার রক্ষার ভোট দিয়েছেন। তাঁর কথায়, “ভোটটা সকলে দিতে চেয়েছেন বলে প্রাথমিকভাবে দেখে মনে হচ্ছে। তাই ভোটের শতাংশ বেশি। সকলে হয়তো ভাবছেন নাম বাদ চলে যাবে, তাই ভোটটা বেশি করে দিতে চেয়েছিলেন।” যদিও সার্বিকভাবে বাংলার চিরকালের চরিত্র মেনে তার আন্দোলনের, প্রতিবাদের গৌরবের কথা বলেছেন তিনি। সেই চরিত্র থেকেই বাংলার প্রথম দফার ভোটকে ব্যাখ্যা করেছেন বামপন্থী দলটির রাজ্য সম্পাদক।
সাঁজোয়া গাড়ি, দফায় দফায় বাহিনী এনে নির্বাচন কমিশন চেয়েছিল অশান্তিমুক্ত ভোট করতে। এসইউসিআই নেতৃত্বের কথায়, “তৃণমূল আর বিজেপি দুজনেই বেশি ভোট পড়েছে বলে বলছে তারা জিতবে। আর কেন্দ্রীয় বাহিনী, এত প্রচার করে যা হল তা তো ঢক্কানিনাদ। তার মধ্যেও বিজেপির দুই শীর্ষ নেতা (নরেন্দ্র মোদি আর অমিত শাহ) নির্বাচন কমিশন আর বাহিনীর প্রশংসা বাধ্য হয়ে করেছেন।”
চণ্ডীদাসবাবুর জারি করা বিবৃতি অনুযায়ী, ‘‘প্রধানমন্ত্রী বলছেন, তাঁর ৫০ বছরের রাজনৈতিক জীবনে প্রথম এত কম হিংসার ভোট দেখলেন এবং শান্তিপূর্ণ ভোট পরিচালনার জন্য কমিশনকে অভিনন্দন জানালেন। তখন রাজ্যবাসী শান্তির ভোটের নমুনা দেখলেন। বিভিন্ন কেন্দ্রে প্রার্থীরা পুলিশের সামনে মার খেয়েছেন, প্রার্থীর এজেন্টদের মেরে বুথ থেকে বের করে দেওয়া হয়েছে, প্রার্থীর গাড়ি ভাঙচুর করা হয়েছে, তার প্রতিবাদে প্রার্থীদের রাস্তায় বসে পড়ে দেখতে পাওয়া গিয়েছে।’’ সবথেকে বেশি গোলমাল হয়েছে যে মুর্শিদাবাদে, সেখানে বাহিনী সবচেয়ে বেশি ছিল। তারপরও সেখানে এত অশান্তি, এর জন্য শাসকদল তৃণমূলকে দায়ী করেছে এসইউসিআই। আর সেই অশান্তি সামলাতে ব্যর্থ হওয়ার জন্য নির্বাচন কমিশনের ব্যর্থতাকেই দায়ী করলেন দলের রাজ্য সম্পাদক।
এসআইআরে ভোটারদের নাম বিবেচনাধীন, তাতে হস্তক্ষেপ করতে হয়েছে বিচারব্যবস্থাকে। বিষয়টাকে গ্রহণযোগ্য করিয়ে নেওয়া হয়েছে। তার জন্যও সরাসরি বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব ও নির্বাচন কমিশনকে একযোগে বিঁধেছে এসইউসিআই। ট্রাইব্যুনাল নিয়ে হইচইয়ের পর যা হল তাকে ‘লঘু ক্রিয়া’ বলে মনে করেন দলের রাজ্য সম্পাদক। তাঁর কথায়, “৬ আর ৯ এপ্রিল একটা বিষয় স্থির করে দেওয়া হচ্ছিল। শীর্ষ আদালতও তাতে সায় দিয়েছিল। কিন্তু জনমত, প্রাক্তন বিচারপতি, প্রাক্তন নির্বাচন কমিশনার আর বরিষ্ঠ আইনজীবীদের প্রতিবাদেই আদালতের রায়ে সিদ্ধান্ত পরিবর্তন হয়। এতে মানুষের প্রতিবাদের ভূমিকা আছে।”
