কংগ্রেসের পতাকা লাগানো বিধানভবনে। 'চুরি' করছেন কংগ্রেসেরই কয়েকজন কর্মী। 'পতাকা চোর'দের ধরলেন মধ্য কলকাতা জেলা সভাপতি মানস সরকার। ধরতেই দেখলেন 'চোর' তাঁর চেনা। কেন বিধানভবন থেকে পতাকা খুললেন তাঁরা। না পাশের পাড়ায় কংগ্রেসের ছোট মিছিল আছে। দরকার পতাকা। তাই বিধানভবন থেকে খুলে নিয়ে যাচ্ছিলেন। মিছিল শেষে পতাকাগুলি ফের যথাস্থানে রেখে যাওয়ারও কথা দিয়েছেন 'চোর'।
ঘটনাটি প্রদেশ কংগ্রেসের অফিস বিধানভবনের সামনে। বুধবার বিধানচন্দ্র রায়ের জন্ম ও মৃত্যু বার্ষিকীতে অনুষ্ঠান হয়েছে। প্রচুর পতাকায় সাজানো হয়েছিল ভবন। ওই পাড়াতেই বৃহস্পতিবার একটি মিছিল রয়েছে কংগ্রেসেরই। কিন্তু পতাকা নেই! অগত্যা বিধানভবন থেকে তা খুলে নিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত। ঘটনাটি সামাজিক মাধ্যমে পোস্ট করে মানস সরকারের দাবি, কংগ্রেস জাগছে। আগামিদিন শুধুই কংগ্রেস থাকবে। তিনি লিখেছেন, 'গভীর রাতে কংগ্রেসের পতাকা চুরি হচ্ছে প্রদেশ কংগ্রেসের কার্যালয় থেকে। সভাপতি শুভঙ্কর সরকার মহাশয় রাত সাড়ে বারোটায় ফোন করে ছবি সমেত প্রমাণ দিলেন। চোরকে ধরেও ফেললাম। কিন্তু খুশিতে দু'জনেই হেসে ফেললাম। আগামিকাল মিছিলের জন্য পতাকা চুরি। ভাবুন কংগ্রেস কোন দিকে এগোচ্ছে। আগামিদিন শুধুই কংগ্রেস। চোর কথা দিয়েছে মিছিল শেষ করে পতাকা লাগিয়ে দেবে। জয় কংগ্রেস।'
বিধানভবন থেকে পতাকা খুলে নিয়ে যাচ্ছেন কংগ্রেসকর্মীরা। ছবি: সংগৃহীত।
বাংলায় কংগ্রেস ক্ষমতায় নেই কয়েক যুগ। ২০১৪ সালে কেন্দ্রেও ক্ষমতা হারিয়েছে তারা। তৃণমূল কংগ্রেস রাজ্যে ক্ষমতায় আসার পর বঙ্গে কংগ্রেসে প্রায় 'লুপ্ত'। মিছিল, মিটিংও হয় অনেক কম। ছাব্বিশের নির্বাচনের পর তৃণমূল গদিচ্যুত। দলের কোন্দল, মহাবিদ্রোহ, 'কালীঘাট ও ঋতব্রত' তৃণমূলে বিভক্ত ঘাসফুল শিবির। সব মিলিয়ে কোণঠাসা তৃণমূল। এই আবহে নিজেদের পুরনো জমি পুনরুদ্ধারে নেমেছে কংগ্রেস। কতটা পারছে তা সময় বলবে। কিন্তু বুধবার রাতের ঘটনা মজার হলেও কংগ্রেস মরিয়া চেষ্টা চালাচ্ছে তা প্রমাণিত বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
