shono
Advertisement
Dipak Barman

পাঠ্যক্রম প্রণয়নে রাজনৈতিক 'চাপ' নয়, সিলেবাস কমিটির প্রথম বৈঠকে বার্তা মন্ত্রীর

মঙ্গলবার বিদ্যাসাগর ভবনে নবগঠিত সিলেবাস কমিটির প্রথম বৈঠকের পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন স্কুলশিক্ষামন্ত্রী দীপক বর্মণ।
Published By: Jaba SenPosted: 05:29 PM Aug 04, 2026Updated: 08:41 PM Aug 04, 2026

পাঠ্যক্রমের গৈরিকীকরণ নয়! রাজ্যের নতুন সিলেবাস প্রণয়নের ক্ষেত্রে কোনও রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ বা মন্ত্রকের চাপ থাকবে না বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন স্কুলশিক্ষামন্ত্রী দীপক বর্মণ (Dipak Barman)। মঙ্গলবার বিদ্যাসাগর ভবনে নবগঠিত সিলেবাস কমিটির প্রথম বৈঠকের পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি বলেন, বিশেষজ্ঞদের সুপারিশের ভিত্তিতেই নতুন পাঠ্যক্রম তৈরি হবে। সরকার বা মন্ত্রক কোনও নির্দিষ্ট বিষয় অন্তর্ভুক্ত বা বাদ দেওয়ার নির্দেশ দেবে না।

Advertisement

রাজ্যে পালাবদলের পর রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেছিলেন, রাজ্যে মুঘল-পাঠানদের নাম নিশান থাকবে না। সিলেবাসে থাকবে না সিঙ্গুর আন্দোলন, মোঘল সাম্রাজ্য। জুড়বে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের ইতিহাস। এরপরই পাঠ্যক্রমে ব্যাপক পরিবর্তন হবে বলে মনে করা হচ্ছিল। মঙ্গলবার নতুন সিলেবাস কমিটির প্রথম বৈঠকের পর স্কুল শিক্ষামন্ত্রী জানিয়ে দেন, "সিলেবাস কমিটির উপরে কোনও প্রকারের রাজনৈতিক চাপ বা মন্ত্রকের চাপ নেই। তারা সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে তাদের মতামত দিতে পারবেন।" তিনি আরও জানান, সরকার আগে থেকে কোনও সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দিতে চায় না। বিশেষজ্ঞ কমিটি যা সুপারিশ করবে, সেটাই সরকার বিবেচনা করবে। তিনি বলেন, "আগে থেকে বলে দিতে চাই না কী থাকবে, কী থাকবে না। আমরা সিলেবাস কমিটির উপর পূর্ণ আস্থা রাখছি।" মন্ত্রী জানিয়ে দেন, সিলেবাস কমিটির নেতৃত্বে রয়েছেন অধ্যাপক দেবাশিস চট্টোপাধ্যায়। ২০২৭ শিক্ষাবর্ষে বড় ধরনের পরিবর্তন আনা হচ্ছে না। বর্তমানে যে সিলেবাস রয়েছে, তা শুধুমাত্র পর্যালোচনা করে প্রয়োজন অনুযায়ী সীমিত কিছু সংশোধন করা হবে। সরকারি বই আগের মতোই ছাত্রছাত্রীদের দেওয়া হবে এবং নতুন কোনও বই আপাতত যুক্ত করা হচ্ছে না। তবে ২০২৮ শিক্ষাবর্ষ থেকে সম্পূর্ণ নতুন কারিকুলাম চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।

এদিনের অনুষ্ঠানে বিভিন্ন স্কুল কলেজের অধ্যাপকরা এবং শিক্ষাবিদরা এসেছিলেন। তাঁরা বিভিন্ন প্রস্তাব দেন। তেমনই আমন্ত্রিত হিসেবে এসেছিলেন তথাগত রায়। সিলেবাসে রাজনীতির প্রভাব সম্পূর্ণভাবে দূর করার পক্ষে মত দেন তিনি। তাঁর দাবি, ছাত্রছাত্রীদের সামনে রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের পাশাপাশি অরাজনৈতিক মনীষীদের জীবন ও কর্ম তুলে ধরা উচিত। তিনি বলেন, "সত্যেন্দ্রনাথ বসু, জগদীশচন্দ্র বসু, হাজি মহম্মদ মহসিন, ঠাকুর পঞ্চাননের মতো ব্যক্তিত্বদের জীবনী পাঠ্যসূচিতে অন্তর্ভুক্ত করা প্রয়োজন।" পাশাপাশি, পশ্চিমবঙ্গ সৃষ্টির ইতিহাসে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের ভূমিকা ইতিহাসের অংশ হিসেবে অবশ্যই পড়ানো উচিত বলেও মত দেন তিনি।

তথাগত রায়ের অভিযোগ, অতীতে ইতিহাসের পাঠ্যক্রমে অনেক সত্য গোপন করা হয়েছে এবং অর্ধসত্য শেখানো হয়েছে। তাঁর মতে, দেশভাগ, পূর্ববঙ্গে হিন্দুদের উপর অত্যাচার, উদ্বাস্তুদের পশ্চিমবঙ্গে আগমন এবং সেই সময়ের ঐতিহাসিক ঘটনাগুলি পাঠ্যক্রমে স্থান পাওয়া উচিত। একইসঙ্গে তিনি বলেন, সিঙ্গুরের মতো গত কয়েক দশকের রাজনৈতিক ঘটনাকে ইতিহাস বলা যায় না, তাই সেগুলি পাঠ্যসূচিতে থাকা উচিত নয়। তাঁর বক্তব্য, রাজনীতির পরিবর্তে প্রকৃত ইতিহাস এবং সমাজকে প্রভাবিত করা ঘটনাগুলিকেই পাঠ্যক্রমে গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

হাইলাইটস

Highlights Heading
Advertisement
toolbarHome ই পেপার toolbarup মহানগর toolbarvideo শোনো toolbarshorts রোববার