বিজেপি ক্ষমতায় আসার আগে নেতাজি অন্তর্ধানের ফাইল প্রকাশের কথা বলেছিল! কিন্তু ক্ষমতায় এসে সেই সুভাষচন্দ্র বসুকেই অসম্মান করা হচ্ছে! এমনই অভিযোগ তুললেন কালীঘাট তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শুধু তাই নয়, বিজেপিকে বিঁধে নেতাজি ফাইলস খোলার দাবিও তুললেন। নেতাজিকে যারা অসম্মান করছে, তাঁদের বিরুদ্ধে আন্দোলনে নামার ডাক দিলেন নেত্রী।
নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু বাংলার আবেগ, লড়াইয়ের মুখ। কিন্তু বিজেপির জনা কয়েক নেতা নেতাজিকেই অসম্মান করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। সম্প্রতি রাজ্য রাজনীতিতে সেই নিয়ে জোর চর্চাও শুরু হয়। এবার সেই নেতাজি ইস্যুতেই সুর চড়ালেন মমতা। এদিন সামাজিক মাধ্যমে নিজের কর্মী-সমর্থকদের উদ্দেশ্যে বার্তা দিলেন নেত্রী। নিজের রাজ্যেই নেতাজিকে অপমানিত হতে হবে? সেই প্রশ্ন তুলেছেন মমতা।
এদিন নেত্রী বলেন, "ইন্ডিয়ান ন্যাশনাল আর্মি তৈরি করেছিলেন সুভাষচন্দ্র বসু। প্ল্যানিং কমিশন করেছিলেন তিনি। স্বাধীনতা আন্দোলনে আন্দামান-নিকোবরে স্বাধীন দ্বীপের ঘোষণা করেছিলেন তিনি। জয়হিন্দ স্লোগান আজও মুখে মুখে। এখন দেশ থেকে নেতাজি, রবীন্দ্রনাথ বাদ! কলঙ্কের ভূষণ চাপানো হচ্ছে। নোংরা রাজনৈতিক খেলা চলছে।" মমতা এদিন ফের আন্দোলনের ডাক দিয়েছেন। তাঁর কথায়, "যাদের বিবেক আছে, ক্ষমতার চেয়ারের কাছে মাথানত করে না, তারা তাকান। প্রতিবাদ করুন।" বিজেপি একসময় জানিয়েছিল, ক্ষমতায় আসার পর নেতাজির ফাইল খোলা হবে। কিন্তু এখন আর কোনও কথা বলা হচ্ছে না বলে অভিযোগ তুলে মমতা নেতাজি ফাইলস খোলার দাবি তুলেছেন।
তাঁকে কোনও রাজনৈতিক কর্মসূচির অনুমতি দেওয়া হচ্ছে না। আদালতে গিয়ে অনুমতি নিতে হচ্ছে। আরও একবার সেই অভিযোগ করেন মমতা। বিজেপি শাসনে গণতান্ত্রিক অধিকার, সাংবিধানিক অধিকার খর্ব হচ্ছে! সেই কথাও এদিন বলেছেন নেত্রী। তাঁর দলের নিচুতলার কর্মীদের মামলা দেওয়া হচ্ছে বলেও তাঁর অভিযোগ। কিন্তু আগামী দিনে আন্দোলন করেই তিনি ফিরে আসবেন। সেই কথা জোর গলায় বলেন প্রত্যয়ী মমতা।
শুধু তাই নয়, জনগণনা শুরুর বিষয় নিয়েও সন্দিহান কালীঘাট তৃণমূলের নেত্রী। জনগণনার কাজে কোনও রাজনৈতিক দলকে সঙ্গে নেওয়া হয়নি! সেই অভিযোগও করেন। মমতার কথায়, "জনগণনায় কার নাম থাকবে, কার নাম বাদ যাবে? আবার যে একটা পালটা এসআইআর হচ্ছে না! এমনিতেই তো ৩২ লক্ষ মানুষের নাম ওঠেনি। সুপ্রিম কোর্টেও বিচারের জন্য গিয়েছিলাম। এজন্য গণআন্দোলন হওয়া উচিত।"
