গত কয়েকদিন ধরে সংবাদ শিরোনামে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংঘর্ষ। গেরুয়াপন্থী ও বামপন্থী ছাত্র সংগঠনের মধ্যে অশান্তি, প্রতিবাদ মিছিল ঘিরে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে দেশের নামী এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। বিশেষ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রবেশদ্বারে বিশিষ্ট শিল্পী নন্দলাল বসুর আঁকা এমব্লেম ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া নিয়ে বিতর্ক আরও বাড়তে থাকে। এনিয়ে আরও একবার মুখ খুললেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর স্পষ্ট হুঁশিয়ারি, ''যাদবপুরে কিষেনজি রেড স্যালুট চলবে না। সব ডকুমেন্ট আছে। ব্যবস্থা নেওয়া হবে।'' এমনকী আগামী ২৮ আগস্ট অর্থাৎ রাখির দিন দেশপ্রেম দিবস পালন করা হবে বলেও জানান শুভেন্দু অধিকারী।
আজ, সোমবার নবান্নে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সেখানেই যাদবপুর ইস্যুতে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, ''যাদবপুরে কিছু হয়নি। সব স্বাভাবিক রয়েছে। আজও ক্লাস হয়েছে। কোনও সমস্যা নেই।'' তবে আর্টস হস্টেলের কিছু ছবি-ভিডিয়ো তাঁদের হাতে এসেছে বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী। তবে সেই ছবিতে কি আছে তা স্পষ্টভাবে কিছু জানাননি তিনি। তবে এই প্রসঙ্গে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, ''বেশ কয়েকজন ছাত্র সিএমওতে আর্টস হস্টেলের বেশ কিছু ভিডিও পাঠিয়েছেন। তা ভিসিকে যাচাইয়ের জন্য পাঠানো হয়েছে। অপেক্ষা করুন, এই সব মেনে নেওয়া হবে না।'' কার্যত এই ইস্যুতে রাজ্য সরকার কড়া ব্যবস্থা নেবে সেই ইঙ্গিতও দিয়ে রাখেন মুখ্যমন্ত্রী।
পাশাপাশি যাদবপুর ইস্যুতে এদিন মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, ''পুলওয়ামার ঘটনা নিয়ে চুপ থাকেন। অপারেশন সিঁদুরের বিরুদ্ধে আওয়াজ তোলেন। কিন্তু এখন বিজেপি শাসিত রাজ্যে তা চলবে না।'' শুভেন্দু অধিকারী স্পষ্ট বুঝিয়ে দেন, দেশই সবার উপরে। আর সেই নীতি নিয়েই সরকার চলবে। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, এবার রাখির দিন দেশপ্রেম দিবসের ঘোষণা করেছে সরকার। গোটা পশ্চিমবঙ্গে চার হাজার অনুষ্ঠান হবে। এমনকী সেদিন যাদবপুরে সম্পূর্ণ বন্দেমাতরম গাওয়া হবে বলেও জানান।
বলে রাখা প্রয়োজন, এর আগেও যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে মুখ খুলেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সেই সময় তিনি বলেন, ‘‘যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় বন্দে মাতরম গাইতে দেয় না। জাতীয় পতাকা ওড়ে না এখানে। শিক্ষাদপ্তরকে ঢুকতে দেয়নি, সিসিটিভি লাগাতে দেয় না। কিন্তু আমরা যাদবপুরের ভিতরে ও বাইরে জাতীয়তাবাদ প্রতিষ্ঠা করবই। যাদবপুর নিয়ে অনেকেই দেখেছি সোশাল মিডিয়ায় কাঁদছেন। তাঁরা শুনে রাখুন, এরাজ্যে থাকতে গেলে বন্দে মাতরম গাইতে হবে। দেশপ্রেম, জাতীয়তাবাদ, রাষ্ট্রবাদের সঙ্গে কোনও আপস নয়। যারা 'কাশ্মীর মাঙ্গে আজাদি' স্লোগান তুলছে, তাদের মুখ সেলাই করে দেওয়ার দায়িত্ব আমাদের।'' তাৎপর্যপূর্ণভাবে এদিনও যাদবপুর ইস্যুতে কড়া বার্তা শোনা গেল মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যে।
