সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বই পড়ার আগ্রহ কমছে। বর্তমান প্রজন্ম পড়াশোনার কাজেও বইয়ের তুলনায় মোবাইল, ট্যাবলেট ব্যবহারেই বেশি স্বাচ্ছন্দ্য। ফলে সময় যত এগোচ্ছে বইয়ের সঙ্গে বাড়ছে দূরত্ব। এই সমস্যা সমাধানে উদ্যোগী রাজ্য সরকার। এবার প্রতিটি স্কুলে ব্যবস্থা করা হচ্ছে রিডিং কর্নারের।
বিষয়টা ঠিক কী? পশ্চিমবঙ্গ সমগ্র শিক্ষা মিশনের তরফে বলা হয়েছে, এবার থেকে সব সরকারি স্কুলে রিডিং কর্নার বাধ্যতামূলক। সাধারণত সব স্কুলেই লাইব্রেরি থাকে। তবে যেখানে নেই সেখানে অবিলম্বে গ্রন্থাগার তৈরির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে জেলা স্কুল পরিদর্শকদের। সরকারের নয়া বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, জাতীয় শিক্ষানীতি ২০২০ বই পড়ার অভ্যাস তৈরিতে জোর দিচ্ছে। আর এই অভ্যাস তৈরি করতে হবে স্কুলস্তর থেকেই। তাই এবার স্কুলে বসে বই পড়ার আদর্শ পরিবেশ তৈরি করতে হবে। লাইব্রেরিতে রাখতে হবে গল্পের বই, অভিধান, বিজ্ঞান সংক্রান্ত নানা বই। পাশাপাশি মানচিত্র রাখা বাধ্যতামূলক। এখানেই শেষ নয় বই পড়ার জন্য নির্দিষ্ট সময় বরাদ্দ করতে হবে। লাইব্রেরিতে সাধারণত শান্ত পরিবেশ থাকে। কিন্তু পড়ুয়ারা যাতে জোরে জোরে পড়তে পারে সেই রকম পরিবেশ তৈরির নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।
জানা গিয়েছে, রিডিং কর্নার ও গ্রন্থাগার তৈরির নির্দেশ দেওয়া হলেও এর জন্য কোনও অর্থ বরাদ্দ করা হয়নি। স্কুলের নিজস্ব তহবিল থেকেই এই নির্দেশ কার্যকর করতে হবে। প্রয়োজনে সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষের থেকে বই সংগ্রহ করতে পারে স্কুল। এপ্রসঙ্গে রাজ্যের গ্রন্থাগার মন্ত্রী বলেন, "গ্রামাঞ্চলের সরকারি ও সরকারপোষিত স্কুলে বহু দরিদ্র পরিবারের ছেলেমেয়েরা পড়াশোনা করে। তাঁরা অনেকে ভাল বই কিনতে পারে না। সব ছাত্রছাত্রীদের স্বার্থে এই কাজ করা হচ্ছে। আশা করি সকলে উপকৃত হবে। একাজে আমি সাধ্য মতো সাহায্য করব।" সরকারি উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন শিক্ষকদের একাংশ।
