টাকি পুরসভা এলাকায় বেআইনি নির্মাণ ভাঙার নোটিস। ইছামতী নদীর ধারে অবৈধ হোটেল ভাঙার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সেই নোটিসকে চ্যালেঞ্জ করে আবার মামলা দায়ের কলকাতা হাই কোর্টে। এ দিকে এতো বছর বাদে ঘুম ভাঙায় পুরপ্রশাসনের ভূমিকায় প্রশ্ন। শুধু তাই নয়, যে চেয়ারম্যানের অনুমতিতে এই সমস্ত বেআইনি নির্মাণ, তাঁর চিহ্নিতকরণের কাজে পক্ষপাতদুষ্টের অভিযোগও তোলা হয়েছে।
গত ১৫ মে পুর ও নগরোন্নয়ন দপ্তরের তরফে জারি করা এক বিজ্ঞপ্তিতে স্থানীয় পুর প্রশাসনকে অবিলম্বে এক্তিয়ার বহির্ভূত বেআইনি নির্মাণ চিহ্নিত করে কড়া পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। সেই মতো পুর প্রশাসনের তরফে ইছামতী নদীর বাঁধ সংলগ্ন এলাকায় অবস্থিত একটি বেসরকারি হোটেল কর্তৃপক্ষকে ডেমোলিশন নোটিস জারি করা করেছে।। পুরসভার দাবি, সংশ্লিষ্ট ভবনের নির্মাণকাজ অনুমোদিত নকশার বাইরে বা নকশার বাইরে গিয়ে কাজ করা হয়েছে। পরিদর্শন ও নথিপত্র যাচাইয়ের পর দেখা গিয়েছে, ভবনের কিছু অংশ অনুমোদিত বিল্ডিং প্ল্যানের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়।
সেই কারণেই পশ্চিমবঙ্গ পুর আইন, ১৯৯৩ ও পশ্চিমবঙ্গ মিউনিসিপ্যাল (বিল্ডিং) রুলস, ২০০৭ অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নোটিসে হোটেল কর্তৃপক্ষকে সাত দিনের মধ্যে অননুমোদিত অংশ ভেঙে ফেলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে, নির্দেশ কার্যকর করার পর তার রিপোর্ট পুরসভায় জমা দেওয়ার কথাও বলা হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নির্দেশ পালন না করা হলে পুরসভা নিজ উদ্যোগে ভাঙার কাজ করতে পারে। তার ব্যয় সংশ্লিষ্ট মালিকের কাছ থেকে আদায় করা হতে পারে বলেও নোটিসে উল্লেখ রয়েছে। এই নোটিস ঘিরেই বিতর্ক। মামলা দায়ের হয়েছে হাই কোর্টে।
এ দিকে স্থানীয় বাসিন্দাদের প্রশ্ন, এক সময় যে চেয়ারম্যান বা নির্মাণের অনুমতি দিয়েছেন, তারাই আবার বেআইনি নির্মাণ চিহ্নিত করবেন! আইনি পদক্ষেপ নেবে! বিজ্ঞপ্তি কতটা সঠিক কার্যকর হবে, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। বাসিন্দাদের দাবি, মহকুমা শাসকের নেতৃত্বে কমিটি গঠন করে তদন্ত হোক।
