একসময় ছিলেন ডাকাবুকো নেতা। তৃণমূল বিজেপির কাছে পর্যুদস্ত হওয়ার পর সেই নেতাই যেন ভিজে বেড়াল। রবিবাসরীয় বিকেলে ডিম হামলারও শিকার হয়েছেন। সেই সব্যসাচী দত্তের ফ্ল্যাটে তল্লাশি চালিয়ে চোখ কপালে বিধাননগর উত্তর থানার পুলিশের। ফ্ল্যাট থেকে উদ্ধার হয়েছে ৭৬ কোটি টাকার সোনা কেনার রসিদ। বিপুল সম্পত্তির উৎস কী, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে ধোঁয়াশা।
তদন্তের স্বার্থে রবিবার সব্যসাচীকে নিয়ে বিধাননগর পুরসভার ৩১ নম্বর ওয়ার্ডের নিজের অফিসে একটি অভিযানে যায় পুলিশ। অফিসের অদূরে একটি ক্লাবেও নিয়ে যান তদন্তকারীরা। সেই তল্লাশিতে কিছু সামগ্রী উদ্ধার হয়েছে বলে খবর। এরপর বিকেল চারটে নাগাদ নিয়ে যাওয়া হয় রাজারহাটে। সেখানে বিলাসবহুল আবাসনে দু'টি ফ্ল্যাট রয়েছে তাঁকে। সেখানে জিজ্ঞাসাবাদের পর সব্যসাচীকে ১৩ তলার ফ্ল্যাটে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানেও বেশ কিছুক্ষণ জেরা করা হয় তাঁকে। ম্যারাথন তল্লাশিও চলে। জানা গিয়েছে, তল্লাশিতে ৭৬ কোটি টাকার সোনা কেনার রসিদ পাওয়া গিয়েছে। বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ নথিও উদ্ধার করা হয়েছে। এই বিপুল সম্পত্তির উৎসের খোঁজ এখনও পাওয়া যায়নি। তার খোঁজে তৎপর তদন্তকারীরা।
উল্লেখ্য, গত কয়েকদিন আগে সল্টলেকের এক ব্যবসায়ী তৃণমূলের প্রাক্তন এই বিধায়কের বিরুদ্ধে বিধাননগর কমিশনারেটে অভিযোগ জানান। যেখানে তোলাবাজি-সহ দিনের পর দিন হুমকি দেওয়া হত বলেও অভিযোগ জানান। শুধু তাই নয়, বিভিন্ন সময় ওই ব্যবসায়ীকে সব্যসাচী দত্ত টাকা দেওয়ার জন্য চাপ দিতেন বলেও অভিযোগ। অভিযোগের ভিত্তিতে ঘটনার তদন্তে নামে পুলিশ। এরপরেই গত ৯ জুন গভীর রাতে রাইগাছি এলাকার একটি অভিজাত আবাসনে হানা দেয় পুলিশের বিশাল একটি দল। সেখানে হাতেনাতে সল্টলেক-রাজারহাট এলাকার দাপুটে এই নেতাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
গত ২০১১ সাল থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত তৃণমূলের রাজারহাট নিউটাউন কেন্দ্রের তৃণমূলের বিধায়ক ছিলেন সব্যসাচী দত্ত। এরপর ২০১৯ সালে বিজেপিতে যোগ দেন তিনি। এমনকী দলবদল করেই ২০২১ এ বিধাননগর বিধানসভার বিজেপি প্রার্থী হন। যদিও সুজিত বসুর কাছে বিপুল ভোটে হেরে যান তিনি। এরপর ২০২১ সালে আবার তৃণমূলে কামব্যাক! ২০২২ এর বিধাননগর পুরসভা নির্বাচনে ৩১ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর নির্বাচিত হন। পুরবোর্ডের চেয়ার পার্সন করা হয় সব্যসাচীকে। এবারের বঙ্গ ভোটে বারাসত বিধানসভা কেন্দ্র থেকে তাঁকে প্রার্থীও করেছিল তৃণমূল। কিন্তু গেরুয়া ঝড়ের সামনে দাঁড়াতে পারেননি সব্যসাচী। এরপর বারাসতের সংসদীয় জেলার চেয়ারম্যান হন তিনি।
