shono
Advertisement
Edible oil

দামের চমকে 'ঠকাচ্ছে' ভোজ্য তেল সংস্থাগুলি, পরিমাণ কমলেও ধরতে পারছে না জনতা!

দাম বাড়েনি। বরং কোনও কোনও ক্ষেত্রে কমেছে। সঙ্গে কমেছে পরিমাণও। বিভিন্ন সংস্থার ভোজ্য তেলের 'কারচুপি'তে হেঁশেলে খরচ বেড়েছে মধ্যবিত্তের।
Published By: Subhankar PatraPosted: 11:03 AM Feb 25, 2026Updated: 01:32 PM Feb 25, 2026

দাম বাড়েনি। বরং কোনও কোনও ক্ষেত্রে কমেছে। সঙ্গে কমেছে পরিমাণও। বিভিন্ন সংস্থার ভোজ্য তেলের (Edible Oil) 'কারচুপি'তে হেঁশেলে খরচ বেড়েছে মধ্যবিত্তের। খুচরো বাজারে সরষের তেল, সওয়াবিন, সূর্যমুখী তেল-সবেরই দাম গত বছরের মাঝামাঝি সময় থেকেই বেড়েছিল। তার সঙ্গে অভ্যস্তও হয়ে গিয়েছিলেন বাড়ির গিন্নিরা।

Advertisement

কিন্তু আচমকাই এক লিটারের (আগে থাকত ৯৫০ মিলিলিটার) প্যাকেট হয়ে গিয়েছে ৯১০ মিলিলিটারের। কোনও কোনও প্যাকেটের দাম তো আবার কিছুটা কমিয়ে তেলের পরিমাণ কমে ৭৫০ মিলিলিটার করে দেওয়া হয়েছে। দাম কম দেখে সেই প্যাকেট কিনে ঠকছেন সাধারণ মানুষ। ফলে যে তেলের প্যাকেটে এক মাস রান্না করতে পারা যেত, সেই প্যাকেটই পাঁচ-সাত দিন আগেই শেষ হয়ে যাচ্ছে। ফলে খরচ বাড়ছে মধ্যবিত্তের।

ক্রেতাদের দাবি, "আগে পরিবারে এক প্যাকেট তেলে এক মাস ১০ দিন চলত। এখন এক মাস যেতে না যেতেই তা শেষ হয়ে যাচ্ছে। প্রথম দু'-তিন মাস বুঝিনি, ভাবতাম বেশি তেল খরচ করছি হয়তো। কিন্তু গতমাসে প্যাকেটের দাম দেখতে গিয়ে দেখি, তাতে পরিমাণ কমে গিয়েছে অনেকটাই। এভাবেই মানুষকে বোকা বানানো হচ্ছে।"

হালিশহরের গৃহবধূ পেশায় স্কুল শিক্ষিকা তাপসী ভট্টাচার্যর কথায়, যেভাবে এই তেল সংস্থাগুলো চোখের আড়ালে কারচুপি চালাচ্ছে, যা সাধারণ মানুষের বোঝার বাইরে। অনলাইনে অর্ডার দিতে গিয়ে দেখছি, ১৮০ টাকা লিটার যে তেল ছিল তার দাম ১৬০ টাকা হয়ে গিয়েছে। খুশি মনে অর্ডার করলাম। কিন্তু প্যাকেট আসতে খুলে দেখি, তেলের পরিমাণ ৭৫০ মিলিলিটার। আমি তো হতবাক!"

গত বছরই খুচরো বাজারে সরষের তেলের দাম কেজি ২০ থেকে ৩০ টাকা বেড়েছে। সরষের তেলের দাম বাড়ার কারণে অন্য ভোজ্য তেলগুলিরও দামও বেড়েছে। পোস্তা বাজারে খোঁজ নিয়ে জানা গেল, এবার সরষের উৎপাদন কম হয়েছে বাংলায়। আর সেই কারণে দাম বেড়েছে।

তবে, দেশে পাম তেল আমদানি করা হয় ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া বা থাইল্যান্ড থেকে। সূর্যমুখী ও সয়াবিন তেল আসে ব্রাজিল, ইউক্রেন, রাশিয়া ও আর্জেন্টিনা থেকে। তাই আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বাড়লে, এদেশেও তার প্রভাব পড়ে। সরষের তেলের দাম বেড়ে গেলে সয়াবিন, পাম-সহ অন্য ভোজ্য তেলের দর বেড়ে যায় নিজস্ব নিয়মেই।

কলকাতার পোস্তা পাইকারি বাজারে সরষের তেলের ১৫ কেজির টিন বিক্রি হচ্ছে ২৭০০ টাকায়, কেজি প্রতি হিসাবে ১৮০ টাকা দরে। এরপর সেই তেল নিয়ে যাওয়া ও অন্য খরচ রয়েছে। তাই খুচরো বাজারে তেল বিক্রি হচ্ছে ১৯৫ থেকে ২০০ টাকা কেজি। প্রিমিয়াম কোয়ালিটির তেলের দাম আরও বেশি।

খুচরো ব্যবসায়ীদের দাবি, গত দু' বছরে সরষের তেলের দাম কেজিতে ৩০-৪০ টাকা বেড়েছে। ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে ভোজ্য তেলের উপর ২০ শতাংশ বেসিক কাস্টমস ডিউটি চাপায় কেন্দ্র। গত বছর মে মাসে যদিও ডিউটি কমিয়ে ১০ শতাংশ করা হয়। তা আরও কমানো হতে পারে। তবে পোস্তা বাজারে লো কোয়ালিটির তেল বিক্রি হচ্ছে ১৩০-১৪০ টাকা কেজি। ওয়েস্ট বেঙ্গল ভেন্ডার অ্যাসোসিয়েশনের সদস্য চন্দন চক্রবর্তী বলেন, "দাম একবার বাড়লে তা আর কমে না। এখন দাম এক রেখে তেলের পরিমাণ অধিকাংশ সংস্থাই কমিয়ে দিয়েছে।"

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

হাইলাইটস

Highlights Heading
Advertisement