ব্যক্তি স্বার্থে দলকে ব্যবহার করা হচ্ছে বলে রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিমের বিরুদ্ধে সরব হয়ে দল ছেড়ে বেরিয়ে গিয়েছেন প্রতীক উর রহমান। মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায়কে হুগলির উত্তরপাড়ায় প্রার্থীপদের আগাম আভাস দিয়ে দিয়েছেন সেলিম। আর বাকিরা? প্রথম প্রথম প্রতীকের দল ছাড়া নিয়ে পালটা সরব হলেও ব্যক্তিস্বার্থের যে অভিযোগ, তার চেহারাটা ক্রমে স্পষ্ট হচ্ছে দলের বাকি ছাত্র-যুবদের মধ্যে। যার জেরে দলের মধ্যেই দাবি উঠে গেল বাকি প্রার্থীদেরও কেন্দ্র বলে দেওয়া হোক। অন্তত মীনাক্ষীর মতো তার ইঙ্গিত দেওয়া হোক। একটি মহল থেকে দাবি, পরিস্থিতি বেগতিক বুঝে মীনাক্ষীও দলের এই দলের থেকে কিছুটা আলাদা থাকাই শ্রেয় বলে মনে করছেন।
মীনাক্ষী ইতিমধ্যেই একাধিক কর্মী বৈঠক করে নিয়েছেন। একটা দিক পরিষ্কার যে, সেলিম এবং তাঁর গোষ্ঠী এবারও মীনাক্ষীকে দলের মুখ করে এগিয়ে রাখতে চাইছে। কিন্তু দলের মধ্যে বিদ্রোহের আঁচ পেয়ে মীনাক্ষীকেই যে মুখ করে দল নামতে চাইছে তেমন স্পষ্ট ঘোষণা করছে না সিপিএম। এখানে আরও একটি ক্ষোভের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
বিগত লোকসভা ভোটে শ্রীরামপুর কেন্দ্রে প্রার্থী হয়েছিলেন দীপ্সিতা ধর। দীপ্সিতা সব থেকে বেশি ভোট পেয়েছিলেন উত্তরপাড়া বিধানসভায়। সেদিক থেকে এই আসন তুলনামূলকভাবে সিপিএমের কাছে ভালো। এই প্রশ্নও উঠেছে, দীপ্সিতাকে সেই আসনের জন্য না ভেবে মীনাক্ষীকে কেন ভাবা হল! স্বাভাবিকভাবে পক্ষপাতদুষ্ট এবং ব্যক্তিস্বার্থের অভিযোগ উঠেছে এখানেই। সেলিমের গুডবুকে থাকা মীনাক্ষীকে কেন সব ক্ষেত্রে ‘অ্যাডভান্টেজ’ দেওয়া হচ্ছে, বাকিদের কেন অন্ধকারে রাখা হচ্ছে তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ‘চুপি-চুপি’ গোপনে তাঁকে বলে দেওয়া হল ‘উত্তরপাড়ায় তুমি দাঁড়াবে’।
একটি সূত্রে জানা গিয়েছে, গত দু’-তিনদিনে এ নিয়ে এসআফআই রাজ্য কমিটির দপ্তর দীনেশ মজুমদার ভবনে ছোট ছোট দলে ব্যক্তিগত স্তরে কিছু চর্চাও চলেছে। সেসব চর্চায় এই ধরনের ক্ষোভের কথাই উঠেছে। যদিও এ নিয়ে প্রকাশ্যে কেউ মুখ খুলছেন না। এমনকী, দলের শাসক-গোষ্ঠীর কানেও বিষয়টি গিয়েছে। তারা এ নিয়ে খোঁজখবর করলেও সেভাবে কোনও পক্ষই প্রকাশ্যে কিছু জানাননি। এ নিয়ে চাপা ক্ষোভেরও জন্ম হচ্ছে বলে খবর। স্বাভাবিকভাবেই যার প্রভাব নির্বাচনে পড়তে বাধ্য।
