shono
Advertisement
Ritabrata Banerjee

'সব রাস্তা ক্যামাক স্ট্রিটে...', ভবানীভবনে অভিষেকের আপ্তসহায়ককে জেরা নিয়ে বললেন ঋতব্রত

শনিবার সকাল প্রায় ১০টা থেকে সিআইডি-র জেরার মুখে অভিষেকের আপ্ত সহায়ক সুমিত রায়।
Published By: Sucheta SenguptaPosted: 03:47 PM Aug 08, 2026Updated: 03:47 PM Aug 08, 2026

'লুকোচুরি' আর বেশিদিন চলল না। অবশেষে সিআইডি-র ডাকে আড়াল থেকে বেরিয়ে ভবানীভবনে নিজেকে ধরা দিতে হল তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আপ্ত সহায়ক সুমিত রায়। একাধিক তোলাবাজি মামলায় শনিবার সকাল প্রায় ১০টা থেকে রাজ্য গোয়েন্দা সংস্থার আধিকারিকরা তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করছেন। আর এই জিজ্ঞাসাবাদের সুদূরপ্রসারী প্রভাব যে পড়বে ক্যামাক স্ট্রিটের উপর, তেমনই আশা প্রকাশ করলেন 'আসল' তৃণমূলের বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। শনিবার বিধানসভায় সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ঋতব্রতর মন্তব্য, ‘‘যথাযথ তদন্ত হলে অল রোড লিডস টু রোমের মতো সব রাস্তা গিয়ে পৌঁছবে ক্যামাক স্ট্রিটে। দেখা যাক, সুমিত রায়ের কাছ থেকে তদন্তকারীরা কী কী তথ্য বের করতে পারেন।''

Advertisement

ঋতব্রত বললেন, ‘‘অন্তর্ধান রহস্য মিটল তবে। আসলে ক্যামাক স্ট্রিটের চার্টার্ড মাফিয়ার সমস্ত অপারেশন তো সুমিত রায়ের মাধ্যমে হতো। উনিই ছিলেন মূল কমিউনিকেটর। আমাকে ৪ মে-র পর একবার ফোন করে বলেছিলেন, 'বস ফোন করতে বলেছেন।' এখন তাঁকে জেরা করে কী কী তথ্য বের করতে পারেন তদন্তকারীরা, সেটা দেখতে হবে। আমার মনে হয়, যথাযথ তদন্ত হলে সব রাস্তা ক্যামাক স্ট্রিটেই পৌঁছবে।''

অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আপ্তসহায়ক সুমিত রায়ের বিরুদ্ধে হাজারও অভিযোগ রয়েছে। ছাব্বিশের ভোটে টিকিট পাইয়ে দেওয়ার নামে লক্ষ লক্ষ টাকা আদায় করেছে। এছাড়া শালবনিতে একটি জমি দুর্নীতি মামলাতেও অভিযুক্ত হিসেবে নাম রয়েছে সুমিতের। ভোটের ফলাফলের পর থেকে সুমিতের খোঁজ পাওয়া যায়নি। পরবর্তীকালে তাঁর খোঁজে অভিষেকের কালীঘাটের বাড়িতেও তল্লাশি চালায় পুলিশ। না পেয়ে পুলিশের আবেদনের ভিত্তিতে মেদিনীপুর আদালত সুমিতের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ও লুকআউট নোটিস জারি করা হয়। আদালতের দ্বারস্থ হয়ে সুমিতের আইনজীবী আগাম জামিন নেন। তবে এসবের পরও শুক্রবার রাতে তাঁর বাড়িতে নোটিস দিয়েছিলেন তদন্তকারীরা। সিআইডি-র ডাকে ভবানীভবনে আসতেই হয়েছে সুমিতকে।

মাঝে সুমিতের খোঁজ না পাওয়ায় ঋতব্রত আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন, তাঁকে খুন করা হয়নি তো? তবে শনিবার তিনি কিছুটা আশ্বস্ত। বললেন, ‘‘অন্তর্ধান রহস্য মিটল তবে। আসলে ক্যামাক স্ট্রিটের চার্টার্ড মাফিয়ার সমস্ত অপারেশন তো সুমিত রায়ের মাধ্যমে হতো। উনিই ছিলেন মূল কমিউনিকেটর। আমাকে ৪ মে-র পর একবার ফোন করে বলেছিলেন, 'বস ফোন করতে বলেছেন।' আমি জিজ্ঞাসা করেছিলাম, 'কোন বস?' শুনেছি, এভাবেই উনি সবাইকে ফোন করে হুমকি-টুমকি দিতেন। এখন তো খবরে টুলু মণ্ডল। শুনেছি, তাঁরও ব্যবসায় বাড়বাড়ন্তের পর নাকি সুমিত ফোন করে হুমকি দিয়েছিলেন। যাই হোক, এখন তাঁকে জেরা করে কী কী তথ্য বের করতে পারেন তদন্তকারীরা, সেটা দেখতে হবে। আমার মনে হয়, যথাযথ তদন্ত হলে সব রাস্তা ক্যামাক স্ট্রিটেই পৌঁছবে।''

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

হাইলাইটস

Highlights Heading
Advertisement