সাংসদ হওয়ার সুবাদে ভুরি ভুরি আর্থিক দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার করে টাকা নয়ছয়ের অভিযোগ। এমনকী ক্যাগ রিপোর্টে তার প্রমাণ মিলেছে। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কালো টাকা কোথায় কোথায় পাচার হয়েছে, সেসব তথ্যসূত্রও দিয়েছে ক্যাগ রিপোর্ট। ডায়মন্ড হারবারের সাংসদের বিরুদ্ধে এত বড় বড় অভিযোগ স্রেফ শাসক শিবিরের হাতিয়ার নয়, বাড়তি অক্সিজেন জুগিয়েছে 'বিদ্রোহী' ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরকেও। সূত্রের খবর, অভিষেকের বিরুদ্ধে সেসব অভিযোগের প্রমাণও নাকি হাতে এসেছে। তা নিয়ে দিল্লিতে নালিশ করতে যাবেন ঋতব্রতরা।
সেবাশ্রয়ের দুর্নীতির সঙ্গে 'কেরল লবি'র নাম জুড়ল! ওই বেআইনি অর্থ কেরলের উপনির্বাচনে ব্যবহার করা হয়েছে বলে সম্প্রতি অভিযোগ তুলেছেন 'আসল' তৃণমূলের ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। এখানেই তিনি থেমে থাকেননি। তাঁর আরও অভিযোগ, কেরলে প্রার্থী দেওয়া থেকে শুরু করে একটি বিচ রিসর্টে বিশেষ বৈঠক হয় এবং তারপরই কালো টাকার নিরাপদ স্থান হিসেবে পরিচিত ইউরোপের কুখ্যাত কেম্যান আইল্যান্ডে তা পাঠানো হয়। এমনই সব বিস্ফোরক অভিযোগ ঋতব্রতর।
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্যোগে প্রান্তিক এলাকার জনগণের চিকিৎসার সুবিধায় 'সেবাশ্রয়' শিবির শুরু করেছিলেন। ডায়মন্ড হারবার সংসদীয় এলাকার সাতটি বিধানসভা কেন্দ্রেই এই স্বাস্থ্য শিবির হয়েছে বছর দুই ধরে। পরবর্তী সময় জানা যায়, সেবাশ্রয়ের নামে আসলে বিপুল আর্থিক নয়ছয় হয়েছে। ঠিকমতো চিকিৎসা হয়নি অনেকেরই। সেবাশ্রয়ের দুর্নীতির সঙ্গে 'কেরল লবি'র নাম জুড়ল! ওই বেআইনি অর্থ কেরলের উপনির্বাচনে ব্যবহার করা হয়েছে বলে সম্প্রতি অভিযোগ তুলেছেন 'আসল' তৃণমূলের ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। এখানেই তিনি থেমে থাকেননি। তাঁর আরও অভিযোগ, কেরলে প্রার্থী দেওয়া থেকে শুরু করে একটি বিচ রিসর্টে বিশেষ বৈঠক হয় এবং তারপরই কালো টাকার নিরাপদ স্থান হিসেবে পরিচিত ইউরোপের কুখ্যাত কেম্যান আইল্যান্ডে তা পাঠানো হয়। এমনই সব বিস্ফোরক অভিযোগ ঋতব্রতর।
এর আগে অবশ্য তাঁর শিবিরে বিধায়ক, প্রাক্তন আইপিএস প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায়ও কেম্যান আইল্যান্ডে তৃণমূলের কালো টাকা পাচারের অভিযোগে মুখ খুলেছিলেন। তদন্তের দাবিও তুলেছিলেন। এবার ঋতব্রত তৃণমূলের 'কেরল লবি'র যোগসূত্র সামনে নিয়ে এলেন। ঘনিষ্ঠ মহলে ঋতব্রত দাবি করেছেন, এই দুর্নীতি সংক্রান্ত নথিও তাঁর হাতে এসে গিয়েছে। চলতি সপ্তাহে তার অনেকটা প্রকাশ্যে আনার প্রস্তুতি নিচ্ছেন তিনি। তবে এসব 'হাতেগরম প্রমাণ' নিয়ে তিনি পাড়ি দেবেন দিল্লিতে। নির্দিষ্ট জায়গায় এই সংক্রান্ত নালিশ জানাবেন। সূত্রের খবর, বৃহস্পতিবার তিনি ঋতব্রত দিল্লি যেতে পারেন।
উল্লেখ্য, এই মুহূর্তে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতীক নিয়ে 'কালীঘাট' ও 'আসল' শিবিরের মধ্যে ব্যাপক দড়ি টানাটানি চলছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নির্বাচন কমিশনকে চিঠি লিখে জানিয়েছেন, ঋতব্রত শিবিরকে নথিপত্র দাখিলের জন্য বাড়তি সময় না দিতে। এই পরিস্থিতিতে অভিষেকের দুর্নীতির প্রমাণ দাখিল করে কি নিজেদের পালেই হাওয়া টানতে মরিয়া উলুবেড়িয়া পূর্বের বিধায়ক? প্রশ্ন উঠছে।
