আশঙ্কা সত্যি করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রতিষ্ঠিত তৃণমূল কংগ্রেস কি ভাঙছেই? গত কয়েকদিন ধরে রাজ্য রাজনীতিতে যে জল্পনা তৈরি হয়েছিল, সেই জল্পনা কি বাস্তব হওয়ার পথে আরও একধাপ এগিয়ে গেল? মঙ্গলবারই কি নতুন তৃণমূলের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় (Ritabrata Banerjee)? তৃণমূলের বহিষ্কৃত বিধায়কের কার্যকলাপে সেই সম্ভাবনাই যেন উজ্জ্বল হচ্ছে।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ঘুরে দাঁড়ানোর লক্ষ্যে আজই নতুন করে যখন রাস্তায় নামার চেষ্টায়, তখনই ঋতব্রত কিছু গুরুত্বপূর্ণ নথি নিয়ে বিধানসভায় পৌঁছে গিয়েছেন। কী আছে ওই গুরুত্বপূর্ণ নথিতে? শোনা যাচ্ছে, ঋতব্রত ৫০ জন বিধায়কের সই সম্মিলিত একটি চিঠি নিয়ে বিধানসভার স্পিকারের দপ্তরে জমা দিতে চলেছেন। যদিও মঙ্গলবার স্পিকার নেই। তাঁকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে আচমকা দিল্লি যেতে হয়েছে। স্পিকারের অনুপস্থিতিতে ঋতব্রত ওই চিঠি জমা দিতে পারেন বিধানসভার সচিবের কাছে। শোনা যাচ্ছে, ৫০ বিধায়কের সই সম্মিলিত চিঠিতে নতুন তৃণমূলের ভিত্তিপ্রস্তরের কথা বলা হয়েছে। দাবি করা হয়েছে, তৃণমূল কংগ্রেসের নাম ও জোড়াফুল প্রতীকের আসল মালিক তাঁরাই। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নন।
এই জল্পনা আরও খানিকটা উসকে দিয়েছেন রাজ্যের মন্ত্রী তাপস রায়। সোশাল মিডিয়ায় ইঙ্গিতপূর্ণ পোস্টে তিনি বলেন, 'তৃণমূল কংগ্রেস ভেঙে চুরমার। মহারাষ্ট্রের মতন অবস্থা হলো তৃণমূলের বিধানসভার স্পিকার এর কাছে প্রায় ৫০ জন টিএমসির বিধায়ক নিয়ে পৌঁছে গেছে ঋতব্রত (Ritabrata Banerjee)। খেলা হবে।'
বস্তুত দু'দিন ধরেই জল্পনা শোনা যাচ্ছে, মহারাষ্ট্রের একনাথ শিণ্ডে বা অজিত পওয়ার মডেল অনুসরণ করে বাংলায় তৃণমূলে আড়াআড়ি ভাঙন ধরতে পারে। তৃণমূলের পরিষদীয় দল যে একজোট নয় সেটা বোঝা গিয়েছিল, দিন দুই আগে নেত্রীর বাড়িতে বিধায়কদের বৈঠকে ৮০ জনের মধ্যে মোটে জনা ২০ হাজির হন। সেদিন একপ্রকার বাধ্য হয়ে ওই বৈঠক বাতিল করতে হয় দলনেত্রীকে। শোনা যাচ্ছে, এই অনুপস্থিত ৬০ বিধায়কের অধিকাংশই ঋতব্রতর নেতৃত্ব মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করতে চলেছেন। ঠিক যে মডেলে মহারাষ্ট্রে উদ্ধব ঠাকরের হাত থেকে শিব সেনার প্রতীক হাতছাড়া হয়েছিল, সেভাবেই মমতার হাত থেকে তৃণমূল কেড়ে নেওয়ার ছক সাজিয়ে ফেলেছেন ঋতব্রতরা। যদিও প্রকাশ্যে এ নিয়ে কেউই মুখ খুলছেন না।
