shono
Advertisement
Sikkim Tunnel Collapse

সিকিমে সুড়ঙ্গ ধসে মৃত বেড়ে ২০, এখনও আটকে কত? শুভেন্দুর নির্দেশে তড়িঘড়ি ঘটনাস্থলে ২ বিধায়ক

উদ্ধারকাজে নেমে সুড়ঙ্গের ভিতরে আরও পাঁচ-ছ'জনের মৃতদেহ পাওয়া গিয়েছে, তবে তাদের বের করা এখনও সম্ভব হয়নি। এখনও পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা বেড়ে ২০ বলে মনে করছে সিকিম প্রশাসন।
Published By: Arpita MondalPosted: 12:29 PM Jul 22, 2026Updated: 02:10 PM Jul 22, 2026

সিকিমে নির্মীয়মাণ সুড়ঙ্গে আচমকা বিস্ফোরণে মৃত্যুমিছিল। যত সময় এগোচ্ছে, মৃতের সংখ্যা ততই বাড়ছে। সিকিম প্রশাসন সূত্রে খবর, জল-কাদায় ভরা সুরঙ্গে উদ্ধারকাজ রীতিমতো চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে এনডিআরএফের সদস্যদের কাছে। প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, উদ্ধারকাজে নেমে সুড়ঙ্গের ভিতরে আরও পাঁচ-ছ'জনের মৃতদেহ পাওয়া গিয়েছে, তবে তাদের বের করা এখনও সম্ভব হয়নি। এখনও পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা বেড়ে ২০ বলে মনে করছে সিকিম প্রশাসন। এদিকে সিকিমে টানেল বিপর্যয়ে বাংলার শ্রমিক মৃত্যুর খবরে উদ্বিগ্ন মুখ্যমন্ত্রী। তড়িঘড়ি দু'জন বিধায়ককে ঘটনাস্থলে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী।

Advertisement

সিকিমের বিপর্যয় নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী জানান, "ইতিমধ্যেই সিকিমের ঘটনাস্থলে নাগরাকাটার বিধায়ক পুনা ভেংরা ও কালচিনির বিধায়ক বিশাল লামাকে পাঠিয়েছি। ওঁরা সম্পূর্ণভাবে পরিস্থিতির উপর নজর রাখবেন। সমস্ত আপডেট আমি চেয়েছি। উদ্ধারকাজের জন্য সিকিমের মুখ্যমন্ত্রী প্রেম সিং তামাংয়ের সঙ্গেও যোগাযোগ করেছি।প্রয়োজনে উদ্ধারকাজের সুবিধার্থে সিকিমে আমাদের সরকারি বিমান পাঠাব বলে জানিয়েছি।"

শেষ পাওয়া খবর অনুযায়ী, সিকিমে নির্মীয়মাণ সুড়ঙ্গ দুর্ঘটনায় মৃত শ্রমিকদের মধ্যে ১১ জনই বাংলার। তাঁদের বাড়ি জলপাইগুড়ি জেলায়। ৯ জনই মালবাজার এলাকার বাসিন্দা। আটকে থাকাদের মধ্যেও থাকতে পারেন বাংলার অনেকে! সিকিমের দুর্ঘটনা নিয়ে আগেই সোশাল মিডিয়ায় উদ্বেগপ্রকাশ করে বার্তা দিয়েছিলেন। এদিন বিধানসভায় দাঁড়িয়ে সিকিমের বিপর্যয় নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী জানান, "ইতিমধ্যেই সিকিমের ঘটনাস্থলে নাগরাকাটার বিধায়ক পুনা ভেংরা ও কালচিনির বিধায়ক বিশাল লামাকে পাঠিয়েছি। ওঁরা সম্পূর্ণভাবে পরিস্থিতির উপর নজর রাখবেন। সমস্ত আপডেট আমি চেয়েছি। উদ্ধারকাজের জন্য সিকিমের মুখ্যমন্ত্রী প্রেম সিং তামাংয়ের সঙ্গেও যোগাযোগ করেছি।" সেই রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীকে 'সম্রাজ্ঞী' বলে খোঁচা দিয়ে শুভেন্দু বলেন, "আগে তো রাজ্য সরকারের প্লেন শুধু একজন সম্রজ্ঞী ব্যবহার করতেন। আমরা প্রয়োজনে উদ্ধারকাজের সুবিধার্থে সিকিমে আমাদের সরকারি বিমান পাঠাব বলে জানিয়েছি।" পাশাপাশি তিনি এও জানান, "মৃত শ্রমিকদের ফিরিয়ে আনা হচ্ছে। পরিবারকে আর্থিক সাহায্য দেওয়া হবে। আর্থিক ক্ষতিপূরণ কোনও মৃত্যুর পরিপূরক যদিও নয়। আর্থিক ক্ষতিপূরণ ছাড়াও মৃতের পরিবারের একজনকে সিভিক ভলাস্টিয়ারের কাজ দেওয়া হবে।"

সোমবার সিকিমের নামচি জেলার সামারদুং এলাকার তিস্তা জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের নির্মীয়মাণ টানেলে ধস নামে। প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে, মিথেন গ্যাস লিক করার কারণেই বিষাক্ত গ্যাস লিক করার পরেই সুড়ঙ্গের ভিতরে বিস্ফোরণ হয়। ধসে নেমে সুরঙ্গের মুখ বন্ধ হয়ে যায়।ইতিমধ্যেই সিকিমের মুখ্যমন্ত্রী প্রেমসিং তামাং অর্থ সাহায্য ঘোষণা করেছেন মৃত ও আহত শ্রমিকদের পরিবারের জন্য। মৃতদের পরিবারকে ৪ লক্ষ টাকা ও আহতদের জন্য ৫০ হাজার টাকা ঘোষণা করেছে সিকিম সরকার। কেন্দ্রের তরফেও পরিবারকে ২ লক্ষ টাকা দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। আহতদের দেওয়া হবে ৫০ হাজার টাকা। প্রশাসন সূত্রে খবর, গোটা সুরঙ্গে মিথেন গ্যাস ভরে থাকায় অক্সিজেন মাস্ক ছাড়া উদ্ধারকারীরা ভিতরে ঢুকতেই পারছেন না বলে জানা গিয়েছে। আটকে থাকা শ্রমিকদের উদ্ধারে নেমে কয়েক জন উদ্ধারকারী মিথেন গ্যাসের কারণে অসুস্থ হয়ে পড়েন বলে প্রশাসনিক সূত্রে খবর। তাঁদের উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

হাইলাইটস

Highlights Heading
Advertisement