ঝা চকচকে হবে মল্লিকঘাট ফুলবাজার। সেখানেই গড়ে তোলা হবে বিশ্বমানের বাণিজ্যকেন্দ্র। এরকমই পরিকল্পনা নিয়েছে রাজ্য সরকার। হাওড়া ব্রিজের পাদদেশে অবস্থিত এই বাজার এশিয়ার বৃহত্তম ফুলের মার্কেট। আর এই ফুলবাজারের পরিকাঠামো আধুনিক করতে তৎপরতা শুরু করেছে রাজ্য সরকার। পরিকাঠামো উন্নয়নের পাশাপাশি উন্নত বিপণন ব্যবস্থা চালু এবং আন্তর্জাতিক বাজারে পশ্চিমবঙ্গের ফুলচাষ শিল্পের অবস্থান আরও শক্তিশালী করতে উদ্যোগী হল রাজ্য। ইতিমধ্যেই এই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে রূপরেখা তৈরি করেছে রাজ্যের খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ ও উদ্যানপালন দপ্তর।
সম্প্রতি খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ ও উদ্যানপালনমন্ত্রী ডা. কল্যাণ চক্রবর্তীর সভাপতিত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের পর্যালোচনা বৈঠক হয়। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন জোড়াসাঁকোর বিধায়ক বিজয় ওঝা, কলকাতা পুরসভার কাউন্সিলর সন্তোষ পাঠক, আইনজীবী দেবজিৎ সরকার, খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ ও উদ্যানপালন দফতরের প্রধান সচিব ওঙ্কার সিং মীনা, শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় বন্দর কর্তৃপক্ষের আধিকারিক, কলকাতা পুরসভার প্রতিনিধি-সহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধিরা। এই বৈঠকে বাজারের উন্নয়ন, ফুল সংরক্ষণের আধুনিক ব্যবস্থা, রপ্তানিমুখী উৎপাদন এবং ফুলচাষিদের আয় বৃদ্ধির বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়। চাষিরা যাতে রপ্তানিযোগ্য ফুল চাষে বেশি আগ্রহী হয় সেই দিকে নজর দেবে রাজ্য। মন্ত্রী জানান, আন্তর্জাতিক বাজারে চাহিদা রয়েছে এরকম ফুলের উৎপাদন বাড়ানো গেলে যেমন বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন সম্ভব হবে অন্য়দিকে চাষিদের আয়ও বাড়বে। এর ফলে উৎপাদন থেকে বিপনণ পর্যন্ত গোটা ব্যবস্থাকে আরও আধুনিক ও কার্যকর করে তোলার পরিকল্পনা নিয়েছে রাজ্য। ফুল দীর্ঘ সময় পর্যন্ত সংরক্ষণের জন্য মল্লিকঘাট ফুলবাজারে অত্যাধুনিক শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত সংরক্ষণাগার গড়ে তোলা হবে। মন্ত্রী জানিয়েছেন, পশ্চিমবঙ্গকে দেশের অন্যতম প্রধান ফুল উৎপাদন ও রপ্তানিকারক রাজ্য হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার লক্ষ্যেই কাজ করছে রাজ্য।
দপ্তরের এক শীর্ষ আধিকারিক জানান, বর্তমানে পর্যাপ্ত সংরক্ষণ ব্যবস্থার অভাব হয়েছে। এর ফলে বিপুল পরিমাণ ফুল দ্রুত নষ্ট হয়ে যায়। আধুনিক সংরক্ষণাগার তৈরি হলে দীর্ঘ সময় পর্যন্ত ফুল সতেজ থাকবে। এর ফলে ফুলের অপচয় কম হবে। বিক্রির সম্ভাবনা আরও বাড়বে এবং চাষি ও ব্যবসায়ীরা লাভবান হবেন। বাজারের সামগ্রিক উন্নয়নের পাশাপাশি পরিচ্ছন্নতার উপরও নজর রাখবে রাজ্য। পাশাপাশি পরিবহণ ব্যবস্থা, রপ্তানির উপযোগী পরিষেবা গড়ে তোলার বিষয়েও পরিকল্পনা করছে রাজ্য। এর মাধ্যমে মল্লিকঘাট ফুলবাজারকে আন্তর্জাতিক মানের ফুল বাণিজ্যকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলাই সরকারের লক্ষ্য।
