অর্ণব আইচ: কলকাতায় ফিরল ‘স্টোনম্যান’ (Stoneman) আতঙ্ক? খাস কলকাতায় (Kolkata) রাতের অন্ধকারে থেঁতলে দেওয়া হল যুবকের মাথা। গুরুতর জখম অবস্থায় হাসপাতালে ভরতি যুবক। ঘটনাস্থলে মিলেছে রক্তমাখা পাথর। যার জেরেই স্টোনম্যান আতঙ্ক দানা বাঁধতে শুরু করেছে। দুষ্কৃতীর খোঁজে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।
উত্তর কলকাতার বিকে পাল অ্যাভিনিউ। সেখানেই রাস্তার ধারে খাটিয়ায় ঘুমোতেন জগৎপ্রকাশ নামে ওই যুবক। পেশায় তিনি হোটেল কর্মী। তাঁর থেকে খানিকটা দূরেই শুয়ে ছিলেন তাঁর বাবাও। অভিযোগ, রাতে কেউ বা কারা জগতের মাথা থেঁতলে দেয়। কিন্তু কোনও চিৎকার শুনতে পাননি তাঁর বাবা। এদিন সকালে উঠে রক্তাক্ত অবস্থায় ছেলেকে পড়ে থাকতে দেখে আঁতকে ওঠেন তিনি। আশপাশের লোকেদের ডেকে আনেন। এর পর খবর যায় পুলিশের কাছে। তদন্তে নেমেছে জোড়াবাগান থানার পুলিশ। এলাকা ঘিরে রেখে চলছে জিজ্ঞাসাবাদ।
[আরও পড়ুন: একটানা ৫ মাস ধরে আনন্দপুরে বাড়িতেই বোনকে ‘ধর্ষণ’ দাদার, গ্রেপ্তার গুণধর]
এদিকে মাথায় গুরুতর জখম নিয়ে মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভরতি জগৎপ্রকাশ। তদন্তে নেমে ঘটনাস্থল থেকে রক্তমাখা পাথর উদ্ধার করেছে পুলিশ। কে কী উদ্দেশে এই ঘটনা ঘটিয়েছে তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। জগতের সঙ্গে কারওর ব্যক্তিগত শত্রুতা রয়েছে কি না তাও খতিয়ে দেখছে পুলিশ। তবে জগতের বাবা কাছাকাছি শুয়ে থাকলেও কেন কোনও চিৎকার তিনি শুনতে পাননি, তাও জানার চেষ্টা করছে পুলিশ।
কিন্তু কী এই স্টোনম্যান আতঙ্ক? সালটা ১৯৮৯। জুন মাসের শুরুর দিক। পাথর হাতে একের পর ভয়ঙ্কর খুন করে চলে দুষ্কৃতী। ৬ মাসে ১২ জনকে খুন করা হয়। আতঙ্কে কেঁপে উঠেছিল গোটা শহর। পুলিশের অনুমান, অত্যন্ত ভারী পাথর দিয়ে মাথায় আঘাত করে খুনি শিকারদের হত্যা করত। মাথায় আঘাতের ধরন দেখে পুলিশের ধারণা হয়েছিল, পাথরগুলো বেশ উঁচু থেকে ফেলে তাঁদের মাথায় আঘাত করা হত। এছাড়াও পাথরগুলোর ওজন ছিল প্রায় ৩০-৩৫ কেজি করে। তবে সেই খুনিকে কোনওদিনও ধরতে পারেনি কলকাতা পুলিশ। এ প্রসঙ্গে বলে রাখা ভাল, মুম্বইতেও প্রথম হানা দিয়েছিল এই স্টোনম্যান। কলকাতা ও মুম্বইয়ের দুই আততায়ী এক কি না তা নিয়ে ধন্দ ছিল। মঙ্গলবার রাতের বিকে পাল অ্যাভিনিউয়ের এই ঘটনায় শহরবাসীর মনে সেই স্টোনম্যান আতঙ্ক আবার ফিরে এল বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।।
[আরও পড়ুন: ‘চা খেতে চলে আসুন!’ চায়ের দোকান খুলে নিমন্ত্রণ জানালেন ভাইরাল সেই চা-কাকু]