মেসিকাণ্ডে স্বস্তি বহাল থাকছে রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসের (Aroop Biswas)। হাই কোর্টের একক বেঞ্চ আগেই রক্ষাকবচ দিয়েছিল তাঁকে। সেই রক্ষাকবচই আপাতত বহাল থাকছে। অরূপের রক্ষাকবচ বাতিলের দাবিতে শতদ্রু দত্তর করা মামলায় এখনই কোনও হস্তক্ষেপ করল না হাইকোর্টের ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তীর ডিভিশন বেঞ্চ। তাৎপর্যপূর্ণভাবে রাজ্যের তরফেও আদালতে জানিয়ে দেওয়া হল, তদন্তে সবরকম সহযোগিতা করছেন প্রাক্তন ক্রীড়ামন্ত্রী।
হাই কোর্টের একক বেঞ্চের রক্ষাকবচ-নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে উচ্চতর বেঞ্চের দ্বারস্থ হন যুবভারতী-কাণ্ডে অন্যতম অভিযুক্ত শতদ্রু দত্ত। মঙ্গলবার ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি চক্রবর্তী এবং বিচারপতি পার্থসারথি চট্টোপাধ্যায়ের ডিভিশন বেঞ্চে মামলাটি ওঠে। শতদ্রুর আইনজীবীদের দাবি, অরূপ বিশ্বাসকে হাই কোর্টের একক বেঞ্চ রক্ষাকবচ দিয়েছে ঠিকই কিন্তু অরূপের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। অথচ ওই ঘটনায় পুলিশ কোনও পদক্ষেপ করছে না। স্রেফ এফআইআর দায়ের হয়েছে। তদন্তে কোনও অগ্রগতি নেই বলে এজলাসে দাবি করেন শতদ্রুর আইনজীবী।
যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে মেসির সঙ্গে অরূপ বিশ্বাস। ফাইল ছবি
অন্যদিকে অরূপের হয়ে আদালতে সওয়াল করেন আইনজীবী কিশোর দত্ত। শতদ্রুর মামলার গ্রহণযোগ্যতা নিয়েই প্রশ্ন তোলেন তিনি। রাজ্যের প্রাক্তন অ্যাডভোকেট জেনারেলের সওয়াল, আদালত কোনও নির্দেশ দিলে তদন্ত নিয়ে আর কিছু বলার অধিকার থাকে না অভিযোগকারীর। ফলে এই মামলা খারিজ হওয়া উচিত। দু’পক্ষের বক্তব্য শোনার পরে ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি জানতে চান, অরূপ তদন্তে সহযোগিতা করছেন কি না? প্রাক্তন মন্ত্রী আগাম জামিনের আবেদন করেছেন কিনা এবং তদন্তকারী আধিকারিকের কাছে হাজিরা দিচ্ছেন কি না? উত্তরে রাজ্যের আইনজীবী জানান, অরূপ তদন্তে সহযোগিতা করছেন। হাজিরাও দিচ্ছেন। রাজ্যের বক্তব্য শোনার পরে মামলার শুনানি মুলতুবি রাখে আদালত। আগামী ২ জুলাই এই মামলার পরবর্তী শুনানি। অন্যদিকে বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের একক বেঞ্চের নির্দেশ অনুযায়ী, আগামী ১৭ অগস্ট পর্যন্ত রক্ষাকবচ রয়েছে অরূপের। ফলে রক্ষাকবচ মামলায় আপাতত আগামী ২ জুলাই পর্যন্ত স্বস্তি প্রাক্তন মন্ত্রীর।
গত ডিসেম্বরে ভারত সফরে এসেছিলেন লিওনেল মেসি। স্বাভাবিকভাবেই তাঁকে সামনে থেকে একঝলক দেখার জন্য উদগ্রীব হয়েছিলেন ফুটবলপ্রেমীরা। মোটা টাকা খরচ করে টিকিটও কেনেন। কিন্তু চূড়়ান্ত বিশৃঙ্খলার কারণে সময়ের আগেই যুবভারতী ছাড়েন মেসি। তারপর ক্ষোভে ব্যাপক ভাঙচুর চালান দর্শকরা। এই ক্ষোভের কারণ ছিলেন প্রাক্তন ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস। কারণ, ঘটনার দিন শুরু থেকে মেসির সঙ্গে দেখা গিয়েছিল তাঁকে। সোশাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ে মেসির সঙ্গে তাঁর একাধিক ছবি-ভিডিও। তাঁর পরিবার ও ঘনিষ্ঠদের সঙ্গেও মেসির ছবি দেখা যায়। কিন্তু অব্যবস্থার অভিযোগে ঘটনার দিনই গ্রেপ্তার করা হয় মেসির ভারত সফরের উদ্যোক্তা শতদ্রু দত্তকে। তিনি ছাড়া পেতেই অরূপের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ করেন। বলেন, গা জোয়ারি করে, প্রভাব খাটিয়ে মেসির কাছাকাছি চলে গিয়েছিলেন অরূপ। সেই ঘটনার জল গড়িয়েছে আদালত পর্যন্ত। তবে এখনও আদালতেও বিশেষ সুরাহা পাননি তিনি।
