কালিয়াগঞ্জে মৃত্যুঞ্জয় বর্মন খুনের ঘটনা থেকে কাকদ্বীপের সূর্যনগরে মা কালীর মূর্তি প্রিজন ভ্যানে তোলা! একের পর এক ঘটনায় কড়া পদক্ষেপ মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর। শুধু তাই নয়, এই সমস্ত ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে এক আইপিএস-সহ পাঁচ পুলিশকর্মীকে সাসপেন্ডের নির্দেশও এদিন দেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর স্পষ্ট বার্তা, পূর্বতন তৃণমূল সরকারের সময় বিভিন্ন জায়গায় পুলিশের ক্ষমতার অপব্যবহার করা হয়েছে। বিশেষত মা কালীকে যেভাবে প্রিজন ভ্যানে তোলা হয়েছে তা সনাতন ধর্মের আস্থার প্রতি আঘাত। সেদিকেই নজর রেখেই এহেন সিদ্ধান্ত বলে এদিন জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
কড়া বার্তা দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ''এদের ব্যবস্থা হবে, আরও অন্যায়ের প্রতিকার হবে। আমার উপর আস্থা রাখুন''
শনিবার বিধানসভা অধিবেশনে বক্তব্য রাখেন মুখ্যমন্ত্রী। সেখানেই একের পর এক ঘটনার কথা তুলে ধরে শুভেন্দু অধিকারী জানান, এদিন স্বরাষ্ট্রদপ্তর বেশ কিছু সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তা বিধানসভায় তুলে ধরা হবে। এরপরই উত্তর দিনাজপুরের কালিয়াগঞ্জের প্রসঙ্গে তুলে ধরে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ''কালিয়াগঞ্জে এক ছাত্রীকে শারীরিক অত্যাচার করে খুন করা হয়। পরবর্তীকালে দেহ ভেসে ওঠে পুকুরে। স্থানীয় পঞ্চায়েত উপপ্রধানের ছেলেকে গ্রেপ্তার করা হয়। ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তাল হয় এলাকা। অভিযুক্তের কড়া শাস্তির দাবিতে শান্তিপূর্ণ অবস্থান করেন স্থানীয়রা। সেই ঘটনায় শুরু হয় ধরপাকড়।'' মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ''আন্দোলনে গেছিলেন বলে পুলিশের টিম রাত ২ টায় মৃত্যুঞ্জয় বর্মনের বাড়ি পৌঁছায়। তিনি দরজা খুললে থানার আধিকারিকরা সরাসরি বুকে গুলি করেন। আমি তাঁর স্ত্রীকে অ্যাটেনডেন্টের কাজ দি। ক্ষমতায় আসার পর তদন্ত করেছি। এএসআই মোয়াজ্জেম হোসেনকে সাসপেন্ড করা হল।'' একইসঙ্গে ওই পুলিশকর্তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্তেরও নির্দেশ দেন।
পাশাপাশি এদিন বিধানসভায় প্রাক্তন আইপিএস অফিসার, পঙ্কজ দত্তের মৃত্যুর ঘটনাও তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী। ঘটনায় পুলিশের বিরুদ্ধে প্রাক্তন পুলিশকর্তার উপর মানসিক চাপ তৈরির অভিযোগ ওঠে। ঘটনায় প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী অর্থাৎ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে তোপ দেগে শুভেন্দু বলেন, ''প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী, আমার কাছে দুবার হেরেছেন। তাঁর নির্দেশে বড়তলা থানায় ডেকে পঙ্কজ দত্তকে হ্যারাস করা হয়। সকাল ১০ টায় ডাকা হতো, রাত ১০ টায় ছাড়া হতো। চা দূরের কথা, জল পর্যন্ত দেওয়া হত না। আমি থানার বাইরে বিক্ষোভ দেখিয়েছিলেন। এই ঘটনায় আইও সাধন দাসকে সাসপেন্ড করলাম।'' একইসঙ্গে বড়তলা থানার আইসি সুবর্ন দত্ত চৌধুরীকেও এদিন সাসপেন্ড করার নির্দেশ দেন মুখ্যমন্ত্রী।
এছাড়াও গতবছর জগদ্ধাত্রী পুজোর বিসর্জনকে ঘিরে উত্তাল হয়ে ওঠে কৃষ্ণনগর। পুলিশের বিরুদ্ধে স্থানীয়দের উপর ব্যাপকভাবে লাঠিচার্জের অভিযোগ ওঠে। শুধু তাই নয়, ঘটনাস্থলে কর্তব্যরত ইন্সপেক্টর অমলেন্দু বিশ্বাসের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। এমনকী অশালীন শব্দ প্রয়োগ করেন বলেও অভিযোগ ওঠে। সেই ঘটনায় ইন্সপেক্টর অমলেন্দু বিশ্বাসকে সাসপেন্ড করার নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। শুধু তাই নয়, বিচারবিভাগীয় তদন্তেরও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি কাকদ্বীপের সূর্যনগরে মা কালীর মূর্তির ভাঙাকে কেন্দ্র করে উত্তাল হয়ে উঠেছিল গত বছর। সেই ঘটনাতেও এদিন পদক্ষেপ করা হয়েছে। শুভেন্দু অধিকারী জানান, ''কাকদ্বীপের সুর্যনগরে মা কালীর মূর্তি ভাঙা হয়। মানুষ প্রতিবাদ করেন। আইপিএস কোটেশ্বর রাওয়ের নেতৃত্বে জনতার উপর চলে লাঠিচার্জ। তারপর মা কালীকে প্রিজন ভ্যানে তুলে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। যা সনাতন ধর্মের আস্থার প্রতি আঘাত।'' এরপরই ঘটনায় কোটেশ্বর রাওকে সাসপেন্ড করার ঘোষণা করেন শুভেন্দু অধিকারী। এরপরই কড়া বার্তা দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ''এদের ব্যবস্থা হবে, আরও অন্যায়ের প্রতিকার হবে। আমার উপর আস্থা রাখুন''
