'দাবাং' দিলীপ ঘোষ এবার গায়কের ভূমিকায়। রেকর্ডিংয়ের সময় থেকে ভাইরাল হয়ে যায় তাঁর গাওয়া গান। শনিবার সকালে প্রতীক্ষার অবসান। নিউটাউনের ইকো পার্কে সেই বহু প্রতীক্ষিত 'ঝালমুড়ি' গানটির রিলিজ করলেন মন্ত্রী। যা নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই রাজ্য রাজনীতিতে জোর শোরগোল।
‘আম আচারে টক মিলবে, অল্প দাও হে ভাই’, ‘চামচে নাড়ানাড়ি’, ‘জিভে জল আনে ঝালমুড়ি’ হালকা মেজাজের গান। 'ঝালমুড়ি' গানটির লেখক ও সুর দিয়েছেন শিল্পী লোকেশ গিরি এবং তাঁর স্ত্রী রিমাশ্রী। এদিন ঝালমুড়ি খেতে খেতে গান রিলিজ করে রাজ্যের মন্ত্রী বলেন, "পার্কে কোনও না কোনও ইভেন্ট চলে। আজ ঝালমুড়ি স্পেশাল হল। ঝালমুড়ির উপরে গান হয়েছে। ভিডিও এবং অডিও রিলিজ হল। সেই উপলক্ষে ঝালমুড়িও খাওয়া হল।" এই গানটি কাদের জন্য গাইলেন দিলীপ? তিনি বলেন, "একজন গান লিখেছেন। তিনি ভেবেছেন আমাকে দিয়ে গাওয়াবেন। আমি শুধু চেষ্টা করেছি গায়ক হওয়ার। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বাংলায় এসে ঝালমুড়ি খেয়ে গিয়েছেন। তারপর এত পপুলার হয়ে গিয়েছে। যেটা পপুলার হয় তাকে নিয়ে অনেক জায়গায় অনেক কিছু হয়। ঝালমুড়ি পপুলার হয়েছে, ভোটের ইস্যু হয়েছে। সেটা নিয়ে একটা গান হওয়ার প্রয়োজন ছিল, সেটাও হল।"
ভোটপ্রচারে পুরুলিয়া সফরে এসে সকলকে চমকে দেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ফুটপাথের এক দোকান থেকে ঝালমুড়ি খান। যা ছাব্বিশের রুখাশুখা রাজনীতির মাটিতে অন্য মেজাজ আনে তা বলাই বাহুল্য। তারপর থেকেই বাংলার সুস্বাদু, সস্তা খাবার ঝালমুড়ি রাতারাতি হয়ে ওঠে আন্তর্জাতিক। নেদারল্যান্ডে দাঁড়িয়েও মোদির মুখে শোনা যায় ঝালমুড়ির কথা। বর্তমানে বিজেপির সাংগঠনিক বৈঠক-সহ যেকোনও অনুষ্ঠানে ঝালমুড়ি মেনুতে থাকেই।
এবার সংগঠন গড়তে ওস্তাদ, জনসংযোগে চোস্ত সেই দিলীপের কণ্ঠে এবার শোনা যাবে সেই 'ঝালমুড়ি' গান। ২০১৯-এ বাংলার প্রায় প্রতিকূল মাটিতেও তিনি পদ্ম ফুটিয়েছিলেন। ১৮টি সিট পেয়ে বাংলার রাজনৈতিক মানচিত্রে বিজেপিকে তীব্রভাবে প্রাসঙ্গিক করে তুলেছিলেন। চব্বিশের নির্বাচনে বর্ধমান-দুর্গাপুর কেন্দ্রে হেরে যান। তারপর দল থেকে যেন কিছুটা দূরে সরে যান। দলীয় কোনও সভা-সমাবেশে আর সেভাবে দেখা যেত না। বছর দুয়েক আগে শৈত্য কাটে। ছাব্বিশের ভোটে টিকিট পান। বিধানসভা নির্বাচনে লড়ে জয়ও পেয়েছেন। মন্ত্রিত্বও পেয়েছেন তিনি। সমস্ত দায়িত্ব সামলানোর পরেও দিলীপ ঘোষকে নয়া ভূমিকায় দেখে আপ্লুত তাঁর অনুগামীরা।
শুনুন 'ঝালমুড়ি' গান:
