একই পদে দীর্ঘদিন কর্মরত আধিকারিকদের বদলি বাধ্যতামূলক করা সহ এবার নিজের জেলায় পোস্টিংয়ের ক্ষেত্রেও কড়া বদলি নীতি কার্যকর করল রাজ্য সরকার। প্রশাসনিক সংস্কার দপ্তরের নির্দেশিকা মেনে স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ দপ্তর একটি সার্কুলার জারি করেছে।
স্বাস্থ্য দপ্তরের জারি করা বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, কোনও আধিকারিক বা কর্মচারী সাধারণ নিয়মে নিজের জেলায় পোস্টিং পাবেন না। অবসরের আগের দু'বছর প্রশাসনিক সুবিধার কথা মাথায় রেখে এই নিয়মে খানিকটা ছাড় দেওয়া যেতে পারে। এ ছাড়া দীর্ঘদিন ধরে একই পদে কাজ করার প্রবণতা রুখতে কড়া নিষেধাজ্ঞা জারি হয়েছে। নতুন নীতিতে অনুযায়ী, কোনও আধিকারিক বা কর্মী নির্দিষ্ট পদে একটানা তিন বছর হয়ে গেলেই তাঁকে বদলির কথা বিবেচনা করতে হবে। একই পদে চার বছরের বেশি সময় থাকতে পারবেন না বলে উল্লেখ করা হয়েছে বিজ্ঞপ্তিতে।
স্বাস্থ্য দপ্তরের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, স্বাস্থ্য অধিকর্তা, স্বাস্থ্য-শিক্ষা অধিকর্তা, আয়ুষ, হোমিওপ্যাথি, ড্রাগ কন্ট্রোল-সহ স্বাস্থ্য দপ্তরের সব বিভাগে এই নীতি কঠোরভাবে কার্যকর করতে হবে। তবে প্রশাসনিক স্বার্থে বা বিশেষ পরিস্থিতিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ প্রয়োজন মনে করলে এই নিয়ম শিথিল করতে পারবেন।
স্বাস্থ্য দপ্তরের নতুন নিয়ম অনুযায়ী, রাজস্ব আদায়, কর সংগ্রহ ও অন্য সংবেদনশীল ফিল্ড পোস্টিংয়ের ক্ষেত্রেও আরও কড়াকড়ি করা হয়েছে নিয়ম। দায়িত্বে থাকা কর্মীদের দু'বছর পূর্ণ হলেই বদলির প্রক্রিয়া শুরু করার সুপারিশ করা হয়েছে। কোনওভাবেই ৩ বছরের বেশি একই দায়িত্বে রাখা যাবে না। স্বাস্থ্য দপ্তরের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, স্বাস্থ্য অধিকর্তা, স্বাস্থ্য-শিক্ষা অধিকর্তা, আয়ুষ, হোমিওপ্যাথি, ড্রাগ কন্ট্রোল-সহ স্বাস্থ্য দপ্তরের সব বিভাগে এই নীতি কঠোরভাবে কার্যকর করতে হবে। তবে প্রশাসনিক স্বার্থে বা বিশেষ পরিস্থিতিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ প্রয়োজন মনে করলে এই নিয়ম শিথিল করতে পারবেন।
প্রশাসনিক মহলের একাংশের মতে, দীর্ঘদিন একই পদে কর্মরত আধিকারিকদের রদবদল হলে প্রশাসনিক স্থবিরতা কমবে, কাজের গতি বাড়বে এবং স্বজনপোষণ বা অনিয়মের সুযোগও কমবে বলে মনে করা হচ্ছে। সেই লক্ষ্যেই রাজ্য সরকারের এই নতুন বদলি নীতিকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহলের একাংশ।
