পুর-নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় ইডি স্ক্যানারে গোটা মিত্র পরিবার। স্ত্রী-পুত্রদের পর বুধবার ইডি দপ্তরে হাজিরা দেন কামারহাটির তৃণমূল বিধায়ক মদন মিত্র। পরনে সাদা পাজামা-পাঞ্জাবি, চোখে সানগ্লাস। গাড়ি থেকে নেমেই সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে মদন বললেন, "তদন্তে সম্পূর্ণ সহযোগিতা করব। যা নথি আনতে বলেছে, সব এনেছি। আমি কোনও দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত নই। ইডি যাকে মনে করবে, ডাকতে পারে।" বুধবার বেলা ১১টা নাগাদ কলকাতার বাড়ি থেকে বের হতে দেখা যায় বিধায়ককে। সেখান থেকেই সোজা পৌঁছে যান সিজিও কমপ্লেক্সে।
গত সপ্তাহের বুধ ও বৃহস্পতিবার হাজিরা দিয়েছেন মদন মিত্রের দুই ছেলে। গত শুক্রবার ইডি দপ্তরে হাজিরা দেন মদন মিত্রের স্ত্রী অর্চনা মিত্র।কয়েকদিন আগেই পুর নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় মদন মিত্রের স্ত্রী-পুত্রদের তলব করে নোটিস পাঠিয়েছিল এনফোস্টমেন্ট ডিরেক্টরেট। এই নোটিস পাওয়ার পরেই মমতার হাত ছেড়ে ঋতব্রত শিবিরের সঙ্গে হাত মেলান মদন মিত্র। এই নিয়ে বিতর্ক হতেই মদন জানিয়েছিলেন, ইডির থেকে এবি (অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়) বেশি ভয়ের। শিবির বদলের পরই তদন্তে সবরকম সাহায্যের বার্তা দেন তিনি। সেই মতো বুধবার তাঁর ছোটো ছেলে শুভরূপ মিত্র সিজিও কমপ্লেক্সে হাজিরা দেন। সেখানে তাঁকে প্রায় ৯ ঘণ্টা ধরে জিজ্ঞাসাবাদ করেন আধিকারিকরা। ছোটো ছেলের পর বৃহস্পতিবার মদনের বড় ছেলে স্বরূপ মিত্র হাজিরা দেন ইডি দপ্তরে। তাঁকেও জিজ্ঞাসাবাদ করেন তদন্তকারীরা। ইডির তলবে শুক্রবার তাঁর মা সিজিও কমপ্লেক্সে হাজির হন মদনের স্ত্রী অর্চনা। তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করছে ইডি আধিকারিকরা। এবার পুর-নিয়োগ মামলার দুর্নীতি প্রসঙ্গে মদনকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে চান ইডি আধিকারিকরা।
ইডির দাবি, টিটাগড় পুরসভায় মোটা অঙ্কের বিনিময়ে চাকরি পেয়েছিলেন ১২৫ জন। সেই তদন্তের সূত্রেই ইডির হাতে কামারহাটির বিধায়ক মদন মিত্রের নাম উঠে আসে। এরপরই তাঁর একাধিক ঠিকানায় তল্লাশি চালায় কেন্দ্রীয় এই তদন্তকারী সংস্থা। তল্লাশি চলে বিধায়কের অফিস, বাড়ি-সহ একাধিক জায়গায় তল্লাশি চালায় ইডি। আগেও মদন মিত্রকেও এই মামলায় জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। ইডি সূত্রে খবর, বুধবার নিয়োগের বিনিময়ে অবৈধ কোনও লেনদেন হয়েছিল কি না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এই বিষয়ে আরও জানতে ব্যাঙ্কের নথি-সহ বেশ কিছু তথ্য কামারহাটির বিধায়কের পরিবারের কাছ থেকে চাওয়া হয়েছে বলে খবর। এখন দেখার, ইডির জিজ্ঞাসাবাদে কতখানি সহযোগিতা করেন কামারহাটির 'কালারফুল' বিধায়ক।
