shono
Advertisement
Taratala Warehouse Collapse

টাকা নিয়ে তারাতলার ত্রুটিযুক্ত প্ল্যান পাশ! মাথায় 'ক্যামাক স্ট্রিটে'র হাত? পুলিশ হেফাজতে কালী

তারাতলা বিপর্যয়ে বৃহস্পতিবার বিধানসভায় বিবৃতি জারি করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সেখানেই রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধানের মুখে শোনা যায় কালী নামে এক ব্যক্তির কথা। তারপরই গ্রেপ্তার হয় কালীচরণ বন্দ্যোপাধ্য়ায়।
Published By: Sayani SenPosted: 05:53 PM Jun 26, 2026Updated: 07:00 PM Jun 26, 2026

কালীচরণ বন্দ্যোপাধ্যায় (Kalicharan Banerjee) একা নন। তারাতলার বিপর্যস্ত গুদামের (Taratala Warehouse Collapse) ত্রুটিযুক্ত প্ল্যান পাশের নেপথ্যে ছিল আরও অনেকে। হয়তো ছিলেন কোনও প্রভাবশালী ব্যক্তিও। কালীর মাথায় হাত ছিল কার, সেই তথ্যের খোঁজে সিট। সরকারি আইনজীবীর এই যুক্তিতে তারাতলা কাণ্ডে ধৃত কালীকে পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দিলেন আলিপুর আদালতের বিচারক। আগামী ৪ জুলাই পর্যন্ত শ্রীঘরে থাকতে হবে কালীকে।

Advertisement

সরকারি আইনজীবী সৌরীন ঘোষাল শুক্রবার আদালতে জানান, টাকার বিনিময়ে ত্রুটিযুক্ত প্ল্যান পাশ করাতেন কালী। অনুমোদনের যোগ্য না হলেও সেই প্ল্যান পাশ করে দেওয়া হত। গলদে ভরা নকশা পাশ করানোর ক্ষেত্রে যেকোনও নথিপত্র তৈরি করতে টিম গড়েছিল কালী। কালীর টিমেই বা ছিলেন কারা, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সরকারি আইনজীবীর আরও দাবি, কালীর মাথায় কোনও প্রভাবশালী ব্যক্তির হাত ছিল। সে কারণে তাঁকে জামিন দিলে তদন্ত প্রভাবিত হতে পারে। তদন্তের স্বার্থে কালীর পুলিশ হেফাজতের আর্জি জানান তিনি।

তারাতলা বিপর্যয়ে বৃহস্পতিবার বিধানসভায় বিবৃতি জারি করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সেখানেই রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধানের মুখে শোনা যায় কালী নামে এক ব্যক্তির কথা। সেই সূত্র ধরেই তারাতলা বিপর্যয়েও জড়িয়ে গেল ‘কালীঘাট তৃণমূলে’র সেকেন্ড ইন কম্যান্ড অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম।

পালটা কালীর আইনজীবী দাবি করেন, অভিযুক্তকে বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। কীসের এত জটিলতা? তাঁর বিরুদ্ধে কোনও তথ্যপ্রমাণ নেই। সমস্ত তথ্য পুরসভার ওয়েবসাইটে গেলেই পাওয়া যাবে। লুকনোর কিছু নেই। তাহলে আরও জিজ্ঞাসাবাদের কীসের প্রয়োজনীয়তা? যদিও দু'পক্ষের সওয়াল জবাব শোনার পর আলিপুর আদালতের বিচারক আগামী ৪ জুলাই পর্যন্ত কালীচরণকে পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছে।

তারাতলা বিপর্যয়ে বৃহস্পতিবার বিধানসভায় বিবৃতি জারি করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সেখানেই রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধানের মুখে শোনা যায় কালী নামে এক ব্যক্তির কথা। সেই সূত্র ধরেই তারাতলা বিপর্যয়েও জড়িয়ে গেল ‘কালীঘাট তৃণমূলে’র সেকেন্ড ইন কম্যান্ড অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “ক্যামাক স্ট্রিটের নির্দেশেই পুরসভায় নিয়োগ করা হয়েছিল কালীকে। আর কালী জানে না এমন কোনও বিল্ডিং কলকাতায় নেই। সব বিল্ডিংয়ের অনুমোদন হত ওর কথায়।” বিধানসভায় দাঁড়িয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “কালীকে ধরলেই সব সামনে চলে আসবে।” তারপর থেকেই চর্চায় কালী।

জানা গিয়েছে, ২০০৩ সালে ওয়েস্ট বেঙ্গল সিভিল সার্ভিস পরীক্ষায় পশ্চিমবঙ্গ থেকে দ্বিতীয় হন কালীচরণ বন্দ্যোপাধ্যায়। যোগ দেন ভূমি রাজস্ব দপ্তরে। এরপর ২০০৬ সালে ওয়েস্ট বেঙ্গল পুলিশ সার্ভিস পরীক্ষায় বসেন। তাতে প্রথম হয়ে ২০০৮ সালে রাজ্য পুলিশে যোগ দেন। কিন্তু প্রশিক্ষণের সময় তা ছেড়ে দেন বিশেষ কারণে। ওই বছরই ফের ভূমি রাজস্ব দপ্তরে ফিরে যান তিনি। সূত্রের খবর, ২০১০ সাল থেকে পুরসভায় কাজ শুরু কালীচরণের। সেই সময় মেয়র পারিষদ ছিলেন ফিরহাদ। কালীচরণ ছিলেন ফিরহাদের আপ্ত সহায়ক। ২০১৮ সালে কলকাতা পুরনিগমের মেয়র হন ফিরহাদ হাকিম। শোনা যায়, ক্যামাক স্ট্রিটের নির্দেশেই সেই সময় ফিরহাদ হাকিম কালীচরণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিজের ওএসডি পদে নিয়ে আসেন। তারপর সময় যত এগিয়েছে উত্তরোত্তর বেড়েছে কালীর দাপট। কালীর মাথায় কে, তার খোঁজেই সিট।

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

হাইলাইটস

Highlights Heading
Advertisement