ভুলের দায় ঘাড় থেকে ঝেড়ে ফেলার রোগ যাচ্ছে না রাজ্যের সিইওর। এসআইআরের কাজে কোনও গোলমাল ধরা পড়ে গেলেই ইআরও-এইআরওদের ঘাড়ে সেই দোষ বরাবর চাপিয়ে আসছেন সিইও মনোজ আগরওয়াল। বিশ্বকাপজয়ী ভারতীয় মহিলা দলের সদস্য রিচা ঘোষের নাম ভোটার তালিকায় বিবেচনাধীন হওয়া এবং তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠায় সেই দায় সিইও দপ্তর ঠেলে দেয় ইআরও-এইআরওদের দিকে। তাতে রাজ্যের ডব্লুবিসিএস অফিসাররা পাল্টা সরব হতেই তাঁদের লক্ষ্মণরেখা স্মরণ করিয়ে এক্স হ্যান্ডলে পোস্ট করে সিইও দপ্তর। তাতেই আগুনে ঘি পড়ে! সিইও আগরওয়ালের স্ত্রীর নামে অভিযোগ ঘিরে পুরনো মামলা ঘেঁটে সমাজমাধ্যমে সেই পোস্ট করতে শুরু করে দিল তৃণমূল কংগ্রেস। যদিও এহেন পোস্টের পালটা জবাব দিয়েছে সিইও অর্থাৎ রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক (সিইও) মনোজ আগরওয়ালের দপ্তর। ভোটের মুখে এহেন পোস্ট পালটা পোস্ট ঘিরে শুরু হয়েছে জোর বিতর্ক।
সম্প্রতি রাজ্যের মন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য সরাসরি সিইওকে নিশানা করে অভিযোগ করেন, সিবিআইয়ের একটি চার্জশিটে তাঁর স্ত্রীর নামে ৩০টি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট এবং বিভিন্ন রাজ্যে সম্পত্তির হদিশের কথা রয়েছে। সেই সংক্রান্ত খবরের স্ক্রিনশট দিয়ে চন্দ্রিমা লেখেন, 'উনিই আবার লক্ষ্মণরেখা সার্ভিস রুল বুকের কথা মনে করাচ্ছেন! যখন তাঁর স্ত্রী ও শ্বশুরের বিরুদ্ধে সিবিআই চার্জশিটে ৩০টি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের উল্লেখ করে তখন তাঁর নৈতিকতা কোথায় থাকে?' চন্দ্রিমার সুরেই সিইওকে নিশানা করেছেন তৃণমূলের আইটি সেলের চেয়ারম্যান দেবাংশু ভট্টাচার্য, সুদীপ রাহারা।
তাঁদের বক্তব্য, অন্যকে শিক্ষা দেওয়ার আগে মনোজ যেন নিজের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়টি প্রকাশ্যে আনেন। না হলে দায়িত্ব থেকে সরে যান। দেবাংশু আবার নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের প্রসঙ্গ টেনে আনেন। ২০০৬ সালে কেরলে রাস্তা কেলেঙ্কারি এবং সেই কারণে মালয়েশিয়ার একটি সংস্থার এক মহিলার আত্মঘাতী হওয়ার ঘটনা সামনে এনেছেন তিনি। ভোটের আগে শাসকদলের এহেন পোস্ট ঘিরে শুরু হয় বিতর্ক। যদিও এহেন পোস্টের পালটা জবাব দেয় সিইও দপ্তর।
সমাজমাধ্যমে করা একটি টুইটে দাবি করা হয়, 'বিশেষ আদালতের বিচারক চার্জশিটের অভিযোগ থেকে সম্মানজনক ভাবে মুক্তি দিয়েছিলেন। বিয়ের আগে থেকেই মিসেস আগরওয়াল তাঁর সম্পত্তির মালিক। শুধু তাই নয়। ১৯৮৩ সাল থেকে নিয়মিতভাবে আয়কর রিটার্ন দাখিল করে আসছেন। পুরো বিষয়টিই স্বচ্ছ এবং আইনসিদ্ধ বলেও দাবি করা হয়েছে ওই টুইটে।
