ভরসন্ধ্যায় বেপরোয়া ভাবে গাড়ি চালিয়ে তিনজনকে পিষে দিয়ে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা! কিন্তু তা সফল হল না। পালানোর আগেই পাটুলি থানার তৎপরতায় গ্রেপ্তার দুই। ধৃত দুই যুবকের নাম স্বপ্ননীল ঘোষ আর নীলাব্জ ঘোষ। পুলিশ সূত্রে খবর, ধৃত দুজনই ঘটনার সময় মদ্যপ অবস্থায় ছিলেন। এমনকী গাড়িতে লাগানো ছিল সরকারি স্টিকারও। ইতিমধ্যে ধৃত দুজনকে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে পুলিশ। জেরায় ধৃত দুজন জানিয়েছেন, তাঁরা নাকি একটি নামী সংস্থায় ম্যানেজার পদে কর্মরত। তাহলে কীভাবে সরকারি স্টিকার লাগানো গাড়ি তাঁরা পেলেন, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এমনকী স্টিকারটি ভুয়ো কিনা তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, সোমবার সন্ধ্যায় নেশাগ্রস্ত অবস্থায় গাড়ি চালাচ্ছিলেন স্বপ্ননীল। পাশেই বসে ছিলেন নীলাব্জ ঘোষ। অভিযোগ, নরেন্দ্রপুর থেকে বাইপাস ধরে দ্রুতগতিতে গাড়ি নিয়ে পাটুলি থানা এলাকায় ঢোকে ওই দুজন। সেখানে প্রথমে বাঘাযতীন রেল গেটের সামনে একটি বাইক আরোহীকে ধাক্কা মারেন ওই মদ্যপ যুবক। অভিঘাত এতটাই ছিল যে দুর্ঘটনার পরেই একেবারে রাস্তায় ছিটকে পড়েন ওই বাইক আরোহী। ঘটনায় গুরুতর জখম হন তিনি। আর তা দেখে দ্রুতগতিতে পালানোর চেষ্টা করেন চালক। সেই সময় পাটুলি থানা এলাকার ঘোষপাড়া বলে একটি এলাকায় আরও এক পথচারীকে ধাক্কা মারে ওই অভিশপ্ত গাড়িটি। ঘটনা দেখতে পেয়েই স্থানীয় মানুষজন ছুটে আসে এবং গাড়িটিকে আটকানোর চেষ্টা করে। কিন্তু অভিযুক্ত গাড়ি থামাননি। উলটে পালানোর ছক করছিল অভিযুক্তরা। সেই সময় কিছুটা দূরে আরও এক স্কুটার চালককে ধাক্কা মারে। ঘটনায় রীতিমতো গুরুতর জখম অবস্থায় ওই স্কুটার চালককে স্থানীয় একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
এদিকে ঘটনার খবর পৌঁছায় স্থানীয় পাটুলি থানায়। সঙ্গে সঙ্গে অভিশপ্ত গাড়িটিকে ট্র্যাক করা শুরু করেন পুলিশ আধিকারিকরা। শেষমেশ বাইপাসের একটি জায়গায় গাড়িকে আটক করা হয়। হাতেনাতে গ্রেপ্তার করা হয় স্বপ্ননীল ঘোষ আর নীলাব্জ ঘোষকে। ইতিমধ্যে তিনটি ঘটনাতেই পুলিশ পৃথক মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু করেছে। ধৃতদের বিরুদ্ধে গাড়িতে ধাক্কা দিয়ে অনিচ্ছাকৃত খুনের চেষ্টা-সহ একাধিক ধারায় মামলা রুজু করেছে পাটুলি থানার পুলিশ। জানা যাচ্ছে, আজ মঙ্গলবার ধৃত দুজনকে আদালতে তোলা হবে।
