৪ মে, ২০২৬। ঘড়ির কাঁটা ১২ টা পেরতেই বোঝা গিয়েছিল তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ছে তৃণমূল সাম্রাজ্য। রাজ্যের রাশ যাচ্ছে পদ্মশিবিরের হাতে। ফল ঘোষণার দিন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করেছিলেন, তিনি হারেননি। তাঁকে হারানো হয়েছে। এই যুক্তিতে মুখ্যমন্ত্রী পদ থেকে নিজে থেকে ইস্তফাও দেননি তিনি। তারপর পেরিয়েছে ২৭ দিন। মুখ্যমন্ত্রীর কুর্সিতে বসেছেন বিজেপির শুভেন্দু অধিকারী। রাজ্যের নানা নীতিতে বদল এসেছে। তবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আজও নিজের অবস্থানে অনড়। সোমবার বিকেলে কালীঘাট থেকে ফেসবুক লাইভ করেন মমতা। এদিন ফের তাঁর মুখে শোনা গেল রিগিং তত্ত্ব। আবারও দাবি করলেন, তিনি হারেননি। ১৭৭ টি আসনে বিজেপি কারচুপি করে জিতেছে বলেই দাবি তাঁর।
ছাব্বিশের নির্বাচনে রাজ্যে কার্যত গেরুয়া ঝড় বয়ে গিয়েছে। ২০৮ টি আসনে জিতেছে বিজেপি। নিজের গড় ভবানীপুরেও জিততে পারেননি তৃণমূল সুপ্রিমো। ফলে রাজ্য় তো হাতছাড়া হয়েছেই, এইমুহূর্তে বিধায়কও নন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু এই পরাজয় মেনে নিতে রাজি নন তিনি। বারবার দাবি করছেন, তিনি হারেননি। ফল ঘোষণার ২৭ দিন পরও জনগণের রায়কে মানতে পারছেন না তিনি। এদিন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, " বাংলাকে টার্গেট করে হারিয়েছে। প্রায় ১৭৭ টা সিটে আপনারা রিগ করেছেন, আমার কাছে সব খবর আছে। আমাকে মারতে মারতে কাউন্টিং সেন্টার থেকে বের করেছেন। তখন আমি এগিয়েছিলাম। তারপর আমাকে হারিয়ে দেওয়া হয়েছে। আমাদের তাপস চট্টোপাধ্যায় জিতে গিয়েছিল। পরেরদিন জোর করে রিকাউন্টিং করা হল। তারপর দেখানো হল ৩০০ ভোটে হেরে গিয়েছে।" তবে এভাবে তৃণমূলকে দমিয়ে রাখা যাবে না বলেই মন্তব্য মমতার। তিনি বললেন, "তৃণমূলকে ভাঙতে পারবেন না এভাবে। আমরা আরও শক্তিশালী হব।"
এদিন হকার উচ্ছেদ থেকে অভিষেকের উপর হামলা, জেলায় জেলায় কর্মীদের হেনস্তা-সব ইস্যুতেই বিজেপিকে আক্রমণ করলেন মমতা। বলেন, "অভিষেককে যেভাবে অ্যাটাক করলেন, যারা ওকে বাঁচাতে গেল তাঁদের গ্রেপ্তার করা হল। ছোট্ট গলি ছিল, যদি হেলমেটটা না পেত। স্পট ডেথ হয়ে যেত পারত। তারপর বিজেপির সভাপতি বলছেন, বেঁচে তো আছে! আপনারাও তো বেঁচে ছিলেন। আপনাদের দুধে ভাতে রেখেছিলাম। আপনারা যা করছেন, লোকে ধিক্কার দিচ্ছে। আয়নায় নিজেদের মুখ দেখুন। মিটিং মিছিলের পারমিশন দিচ্ছেন না।" হুংঙ্কার ছেড়ে মমতা বললেন, "এভাবে দমিয়ে রাখা যাবে না।"
