সব জল্পনার অবসান। মমতাকে ছাড়লেন মদন মিত্রও (Madan Mitra)। আজ বিধানসভায় বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Ritabrata Banerjee) পাশে বসে 'কালীঘাট তৃণমূলে'র সব পদ থেকে ইস্তফা দেন তিনি। মমতার দেওয়া সব পদ ছেড়েই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে বিঁধলেন মদন। তিনি জানান, অভিষেকের জন্যই দলের এই পরিণতি হয়েছে। তাঁর জন্য়ই ধ্বংস হয়েছে তৃণমূল। দলের নৌকাডুবি হয়েছে।
ফিরহাদ হাকিম, জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক, চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যের পর এবার মমতার হাত ছাড়লেন মদন মিত্রও। ২১ জুলাই নিয়ে টানাপোড়েনের মধ্যেই এদিন বিধানসভায় গিয়ে তৃণমূলের বিদ্রোহী শিবিরে নাম লেখান তিনি। তাঁকে দলের গুরুত্বপূর্ণ পদে বসিয়েছিলেন মমতা। কালীঘাট তৃণমূলের জাতীয় কর্মসমিতির সদস্য ছিলেন তিনি। তাঁকে রাজ্য সাধারণ সম্পাদকও করা হয়েছিল। কিন্তু এদিন সব পদ থেকে ইস্তফা দেওয়ার কথা ঘোষণা করেন কামারহাটির বিধায়ক। আজ নিজে গাড়ি চালিয়ে বিধানসভায় আসেন তিনি। তারপর ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়, সন্দীপন সাহা, আখরুজ্জামানদের সঙ্গে বৈঠক করেন। ঋতব্রতর পাশে বসেই তিনি মমতার সঙ্গ ছাড়ার কথা ঘোষণা করেন। তিনি জানান, একজনের জন্যই দলের এই অবস্থা হয়েছে। তাঁর নাম অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর জন্যই ধ্বংস হয়েছে দল।
নিজে গাড়ি চালিয়ে বুধবার বিধানসভায় আসেন তৃণমূল বিধায়ক মদন মিত্র। নিজস্ব ছবি।
রাজ্যে পালাবদলের পর তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়েছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দীর্ঘদিনের লড়াইয়ের ফসল তৃণমূল। এর নেপথ্যে যদি মূল দুজনের নাম করা হয়, তাঁরা হলেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় ও সন্দীপন সাহা। মঙ্গলবার দুপুরে স্ত্রী ও পুত্রদের ইডি তলবের পর রাতেই সন্দীপন সাহার তালতলার বাড়িতে হাজির হন মদন। প্রায় ২ ঘণ্টা সন্দীপনের বাবা অর্থাৎ এন্টালির প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক স্বর্ণকমল সাহার সঙ্গে বৈঠক করেন তিনি। এরপর থেকেই মদনের শিবির বদল নিয়ে জল্পনা তৈরি হয়। আর আজ দুপুরেই বিধানসভায় গিয়ে ঋতব্রত-তৃণমূলে যোগ দিলেন তিনি।
ঋতব্রতদের সঙ্গে বৈঠকে মদন মিত্র। নিজস্ব ছবি।
এদিন ঋতব্রতর পাশে বসে মদন বলেন, "তৃণমূলে ছিলাম। তৃণমূলেই রইলাম। শুধু এক ঘর থেকে আর এক ঘরে এলাম। দল একজনের জন্য নয়, সবার জন্য। একজনের জন্য দলের এই অবস্থা। তাঁর নাম অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। অভিষেকের জন্য গোটা দল ধ্বংস হয়েছে। দলের নৌকাডুবি হয়েছে।"
