দেখতে দেখতে ১৫২টা বসন্ত পার করে ফেলেছে সে। বয়সের ভারে আজ কার্যত অস্তমিত। বারে বারে বদল এসেছে তার চেহারায়। তবুও যেন গতিময় শহরের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে পারেনি সে। তবুও আজ তো তার জন্মদিন।
ঠিক যেন ‘অতীতের প্রেম’। ১৮৭৩ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি যার চাকা গড়িয়েছিল এই শহরে, সেই আজ অস্তিত্ব বাঁচাতে লড়ছে। যার ভবিষ্যত নিয়ে রয়েছে বড়সড় জিজ্ঞাসাচিহ্ন। শহরের আবেগ-অনুভূতি, নস্ট্যালজিয়া যে ট্রামকে ঘিরে তার আজ ১৫৩ তম জন্মদিন। শহরে আপাতত দুটি রুটে কোনওমতে চাকা গড়াচ্ছে তার। তার ভবিষ্যত এখনও আদালতে বিচারাধীন। তবু আজ মঙ্গলবার তো জন্মদিন।
তাই এই বিশেষ দিনটি পালনে কসুর করছেন না শহরের ট্রামপ্রেমীরা। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়কার একটি ট্রামকে আজ সাজিয়ে গুজিয়ে বের করা হবে। গড়িয়াহাট থেকে বেরিয়ে সেই ট্রাম আসবে প্রথমে ধর্মতলা তারপর সেখান থেকে শ্যামবাজার। ভিতরে হবে নানা অনুষ্ঠান। কাঠের তৈরি বডির এই ট্রামটির বয়স প্রায় একশো বছর। গোটা বছর ধরে এটি সংরক্ষিত করা থাকে নোনাপুকুর ট্রামডিপোয়। সেই ট্রামটিই আজ এঁকেবেকে চলবে শহরের রাস্তা ধরে।
১৮৭৩ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি যার চাকা গড়িয়েছিল এই শহরে, সেই আজ অস্তিত্ব বাঁচাতে লড়ছে। যার ভবিষ্যত নিয়ে রয়েছে বড়সড় জিজ্ঞাসাচিহ্ন। শহরের আবেগ-অনুভূতি, নস্ট্যালজিয়া যে ট্রামকে ঘিরে তার আজ ১৫৩ তম জন্মদিন।
ট্রাম মানে কলকাতার (Kolkata Tram) নস্টালজিয়া। ট্রাম মানে প্রেম, খুনশুঁটি, প্রচুর স্মৃতি। কিন্তু সেই নস্টালজিয়াই যেন হারিয়ে যেতে বসেছে শহর থেকে। শ্যামবাজার-ধর্মতলা এবং গড়িয়ায়াট-ধর্মতলা এই দুই রুটে আপাতত চলে ট্রাম। তাও অনিয়মিত। তাও এই ট্রামকে বাঁচিয়ে রাখতেই নিরলস প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে ট্রামপ্রেমী সংগঠনের প্রতিনিধিরা। ক্যালকাটা ট্রাম ইউজার্স অ্যাসোসিয়েশনের তরফেই আজকের এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। সংগঠনের প্রতিনিধিরাই জানাচ্ছেন, ২০১১ সালে যেখানে ৩৭টি রুটে ট্রাম চলতে, তা এখন দুটি রুটে এসে ঠেকেছে। যেখানে দূষণের তাণ্ডবে নাভিশ্বাস শহরবাসীর সেখানে ট্রামকে তার আধুনিক রূপ দিয়ে বাঁচিয়ে রাখা প্রয়োজন ছিল। তার বদলে ট্রাম উঠে গেল!
গোটা বিশ্বে ৪০০ শহরে ট্রাম চলে। অথচ এই শহর থেকেই ট্রাম (Kolkata Tram) হারিয়ে যাচ্ছে যেন। তাই তাঁরা ট্রাম বাঁচাতে সাধারণ মানুষের কাছে ভোট চাইছেন। তাঁদের দাবি, ২০২৫ সালেই ১.০৯ লক্ষ গাড়ি নথিভুক্ত হয়েছে শহরে। মোট সংখ্যা ২৩.৬ লক্ষ। এই বিপুল গাড়ির চাপেই কলকাতার বাতাস কালো হচ্ছে। অন্যান্য দেশও এই দূষণের কারণেই ট্রামকে ফিরিয়ে আনছে। এখানেও এই ট্রাম ফিরিয়ে আনা হোক।
১৮৭৩ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি প্রথম ঘোড়ায় টানা ট্রাম ছুটেছিল শহরে। তারপর সময়ের বদলে সে নিজের চেহারা বদলেছে। এসেছে এক কামরার এসি ট্রামও।
১৮৭৩ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি প্রথম ঘোড়ায় টানা ট্রাম ছুটেছিল শহরে। তারপর সময়ের বদলে সে নিজের চেহারা বদলেছে। এসেছে এক কামরার এসি ট্রামও। কিন্তু চেহারা বদলেও গতির সঙ্গে টিকে থাকতে সে যেন খাপ খাওয়াতে পারছে না। এবার ১৫৩তম জন্মদিন তার। সেই উপলক্ষ্যে সেজেগুজে তিলোত্তমার বুকে চলতে প্রস্তুত ৪৯৮ নম্বর ট্রামটি। সকাল সাড়ে ৯টায় গড়িয়াহাট ডিপো থেকে রওনা হয়। আয়োজকদের তরফে সাগ্নিক গুপ্ত বলেন, ‘‘ট্রামকে বঁাচিয়ে রাখতেই হবে। সেই উদ্দেশেই আমাদের এই অনুষ্ঠান। ট্রামকে ঘিরে শহরবাসীর অনেক আবেগ, অনুভূতি। তা হারিয়ে যেতে দেওয়া যায় না।’’
