shono
Advertisement
Jadavpur

কাগজকুড়ুনি সেজে দামী ক‌্যামেরা চুরি! বিক্রি করতে গিয়েই যাদবপুর থেকে পুলিশের জালে ২

দামি ক‌্যামেরা, ফ্ল‌্যাশ লাইট, স্ট‌্যান্ড, ট্রাইপড চুরি করলেও কোথায়, কত দামে বিক্রি করবে, তা বুঝতে পারছিল না তারা।
Published By: Sucheta SenguptaPosted: 01:08 PM Sep 15, 2026Updated: 02:09 PM Sep 15, 2026

কাগজকুড়ুনি সেজে স্টুডিও থেকে কয়েক লাখ টাকার দামী ক‌্যামেরা, ফ্ল‌্যাশ লাইট চুরি! কিন্তু সেসব বিক্রি করতে গিয়েই বিপাকে দুই চোর। যাদবপুরের (Jadavpur) ঘটনায় তারা ধরা পড়ল পুলিশের হাতে। ধৃতরা দক্ষিণ ২৪ পরগবার ঘুটিয়ারি শরিফের মাখালতলার বাসিন্দা। দু’জনের নাম কায়ুম শেখ ও লুৎফার শেখ। গ্রেপ্তারির পর ধৃতদের জেরা করে সবটা জানতে মরিয়া তদন্তকারীরা।

Advertisement

ঘটনা ঠিক কী? পুলিশ সূত্রে জানা যাচ্ছে, ধৃত কায়ুম ও লুৎফর কাঁধে ঝোলা নিয়ে ভোরের ট্রেনে করে কলকাতায় আসে। দক্ষিণ কলকাতার গড়িয়া থেকে বালিগঞ্জের মধ্যে পছন্দমতো যে কোনও স্টেশনে নেমে পড়ে। কাগজকুড়ুনি সেজে ঘুরে বেড়ায় রাস্তায় রাস্তায়। যদিও তাদের নজরে থাকে বাড়ি আর দোকানপাট। তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে ফাঁকফোকর খুঁজতে থাকে তারা। এভাবেই সম্প্রতি তাদের নজরে পড়েছিল যাদবপুরের একটি স্টুডিও। দিনের বেলায় কাগজ কুড়ানোর নাম করে বাইরে থেকে ভিতরে রাখা ক‌্যামেরা আর অন‌্য জিনিসগুলি দেখে নেয় তারা। এর পর গভীর রাতে চলে তাদের অভিযান। স্টুডিওর পিছনের দিকের দরজার লক ভেঙে তারা ভিতরে প্রবেশ করে। স্টুডিওর ভিতরে থাকা যাবতীয় দামি ক‌্যামেরা, ফ্ল‌্যাশ লাইট, স্ট‌্যান্ড, ট্রাইপড ও অন‌্যান‌্য আনুষঙ্গিক সামগ্রী হাতিয়ে নেয় তারা।

তারপর বস্তাবন্দি করে সেই সামগ্রীগুলি নিয়ে লুৎফর, কায়ুম পৌঁছয় যাদবপুর স্টেশন থেকে ঘুটিয়ারি শরিফে নিজেদের ডেরায় পৌঁছে যায়। পরের দিন থেকেই তারা সেই চোরাই ক‌্যামেরা আর জিনিসগুলি বিক্রির চেষ্টা করে। ইতিমধ্যে স্টুডিওর মালিক যাদবপুর থানায় এসব দামি সামগ্রী চুরির অভিযোগ দায়ের করেন। তদন্ত শুরু করেন লালবাজারের গোয়েন্দারা। এলাকার সিসিটিভির ফুটেজ দেখে প্রাথমিকভাবে দু’জনকে গোয়েন্দা পুলিশ শনাক্ত করে। অন্যদিকে, একইসঙ্গে কায়ুম আর লুৎফর ক‌্যামেরা, ফ্ল‌্যাশ লাইটের ক্রেতার সন্ধান চালাতে থাকে। সেগুলির দাম কত হতে পারে, তা নিয়েও তারা সংশয়ে ছিল। তাই সহজে বিক্রি হচ্ছিল না।

গোয়েন্দাদের কাছে এই খবর পৌঁছতেই। সেই সূত্রেই তাঁরা ঘুটিয়ারি শরিফে ফাঁদ পাতেন। দামী ক‌্যামেরা সস্তায় বিক্রি করতে এসেই গোয়েন্দা পুলিশের ফাঁদে ধরা পড়ে যায় কায়ুম আর লুৎফর। তাদের ডেরায় তল্লাশি চালিয়ে উদ্ধার হয় পুরো চোরাই সামগ্রী। কাগজকুডুনি সেজে এভাবে হাতসাফাই করাই কি তাদের পেশা? দু'জন ছাড়া আর কেউ এর সঙ্গে যুক্ত কিনা, নেপথ্যে বড় কোনও চক্র রয়েছে কিনা, এসব জানতে পুলিশ তাদের জেরা করছে বলে খবর।

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

হাইলাইটস

Highlights Heading
Advertisement