রীতিমতো ঢাকঢোল পিটিয়ে ভিনরাজ্যের বাসিন্দা, প্রাক্তন এনএসজি কমান্ডো দীপাঞ্জন চক্রবর্তী বিজেপিতে যোগ দিয়েছিলেন। তার ঘণ্টা কয়েকের মধ্যেই সোশাল মিডিয়ায় তাঁর পুরনো মোদি বিরোধিতার পোস্ট ফাঁস করলেন আদি বিজেপি কর্মীরা। তাৎপর্যপূর্ণ হল, শুধু মোদি নন, অমিত শাহ-সহ কেন্দ্রের বিজেপি সরকারকে সোশাল মিডিয়ায় দিনের পর দিন নানা ধরনের কার্টুন ও কটূক্তিতে জর্জরিত করার সেই সমস্ত ছবি একেবারে ভাইরাল। আদি বিজেপি কর্মীদের একাংশ আবার দীপাঞ্জনের এই সমস্ত ছবি ও কার্টুন তৃণমূল কর্মীদের কাছে পাঠিয়ে দিয়ে সত্য প্রকাশ্যে আনতে বলেছেন। গেরুয়া শিবিরের পুরনো কর্মীদের ক্ষোভ, দীর্ঘদিন ধরে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, অমিত শাহদের আক্রমণ করে এখন ভোটের মুখে বঙ্গ বিজেপিতে যোগ দিয়ে আসন খুঁজতে এসেছেন।
দীপাঞ্জন চক্রবর্তীর আগেকার ব্যঙ্গচিত্র ফাঁস করলেন আদি বিজেপি কর্মীরা।
উনি বাংলায় থাকেন না, মহারাষ্ট্রে বসে টিভি চ্যানেলে বাংলার বিরুদ্ধে কুৎসা করেন। দীপাঞ্জন (Dipanjan Chakraborty) বঙ্গ সংস্কৃতির কিছুই জানেন না বলেও তোপ দেগেছেন আদি বিজেপি কর্মীরা। পদ্ম শিবিরে যোগ দেওয়ার আগে ফেসবুকে মোদি বিরোধিতার পোস্টগুলি তিনি মুছে দিলেও এক্স হ্যান্ডলে সেসব থেকে গিয়েছে। ২০২২ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি দীপাঞ্জন তাঁর পোস্টে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে লেখেন, ডেরা প্রধান বাবা রাম-রহিম যিনি ২০ বছর জেলে ছিলেন, তাঁকে প্রধানমন্ত্রী জেড প্লাস সিকিউরিটির কেন ব্যবস্থা করেছেন? আবার ওই বছরই ২০ মার্চ জয় শ্রীরামের পালটা জয় বাবা ফেলুনাথ বলে বিজেপিকে তীব্র কটাক্ষ করে সোশাল মিডিয়ায় আক্রমণ করেছিলেন দীপাঞ্জন। এখানেই শেষ নয়, হায়দরাবাদের একটি মূর্তির সঙ্গে চিনের প্রসঙ্গ উত্থাপন করে ফেব্রুয়ারি মাসের ৫ তারিখেও আক্রমণ করেছেন সদ্য বিজেপিতে যোগ দেওয়া মহারাষ্ট্রবাসী এই বাংলার কুৎসাকারী।
২০২২ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি দীপাঞ্জন তাঁর পোস্টে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে লেখেন, ডেরা প্রধান বাবা রাম-রহিম যিনি ২০ বছর জেলে ছিলেন, তাঁকে প্রধানমন্ত্রী জেড প্লাস সিকিউরিটির কেন ব্যবস্থা করেছেন? আবার ওই বছরই ২০ মার্চ জয় শ্রীরামের পালটা জয় বাবা ফেলুনাথ বলে বিজেপিকে তীব্র কটাক্ষ করে সোশাল মিডিয়ায় আক্রমণ করেছিলেন দীপাঞ্জন।
চমকে দেওয়ার মতো তথ্য হল সরাসরি প্রধানমন্ত্রী মোদিকে আক্রমণ করে কেন্দ্রে বিজেপি ক্ষমতায় আসার ৮ বছর পার হওয়ার ঘটনা নিয়ে কটাক্ষ করা। প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরুর পিঠে মোদিকে চাপিয়ে সেদিন দীপাঞ্জন লিখেছিলেন, ৮ বছর বয়স হয়ে গেল, এবার অন্তত নিজের পায়ে দাঁড়াও। মোদির পাশাপাশি চে গুয়েভারার ছবিও পোস্ট করে বামপন্থীদের সঙ্গে তাঁর যে নৈকট্য, তা বোঝাতে চেয়েছেন একাধিকবার। বিজেপির জাতীয়তাবাদ যে জনগণকে পুরোপুরি উলঙ্গ করে দিচ্ছে, তা বোঝাতে ২০২২ সালের ১০ মার্চ দুজন শিশুর দুটি কার্টুন পোস্ট করেছিলেন দীপাঞ্জন। বিজেপির সময়ে ভারতীয় অর্থনীতির বেহাল দশা তুলে ধরার সঙ্গে বেকারত্বের যে ভয়ংকর চিত্র তাও নানা সময়ে সোশাল মিডিয়ায় তুলে ধরে আক্রমণ করেছেন দীপাঞ্জন। আদি বিজেপি শিবিরের এই অভিযোগ নিয়ে অবশ্য তাঁর বক্তব্য জানা যায়নি।
