দলের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিমের উদ্দেশে আক্রমণের ঝাঁজ আরও বাড়িয়েছেন প্রতীক উর রহমান (Pratik Ur Rahaman)। এই পরিস্থিতিতে সমাজমাধ্যমে একটি ছবি প্রকাশ্যে এনে তরুণ সিপিএম নেতা প্রতীকের গায়ে কাদা ছোড়ার অভিযোগ উঠল সিপিএমের একাংশের বিরুদ্ধে। প্রতীকও তার পালটা জবাব দিলেন। যুবনেতার বক্তব্য, ছবিটি এখন উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ভাবেই ছড়ানো হচ্ছে।
সমাজমাধ্যমের যে ছবিটি ঘিরে বিতর্ক, তাতে দেখা যাচ্ছে, ফিতে কেটে একটি বইয়ের স্টলের উদ্বোধন করছেন প্রতীক (Pratik Ur Rahaman)। তাঁর বাঁ পাশে দাঁড়িয়ে কলতান দাশগুপ্ত। আর প্রতীকের ঠিক পিছনেই রয়েছেন সেলিম। এই ছবিটি প্রকাশ্যে এনে সিপিএম সমর্থকদের একাংশের বক্তব্য, নিজে উপস্থিত থেকেও প্রতীকের মতো নতুন প্রজন্মের নেতাকে সামনে এগিয়ে দিচ্ছেন রাজ্য সম্পাদক! একটি ফেসবুক পোস্টে লেখা হয়েছে, "রাজ্য সম্পাদক কতটা সম্মান ও ভালোবাসা দিলেন প্রতীক উরকে, ভাবুন।"
বইয়ের স্টল উদ্বোধনের এই ছবিটিই প্রকাশ্যে এনেছেন সেলিমপন্থীদের একাংশ।
সন্দেহ নেই, গত কয়েক দিন ধরে প্রতীক সেলিমের বিরুদ্ধে তাঁকে কোণঠাসা করার যে অভিযোগ তুলে আসছেন, এই পোস্টের বয়ান তারই পালটা ভাষ্য তৈরি করে। শুধু তা-ই নয়, প্রতীকের তৃণমূলে যোগদান নিয়ে যে জল্পনা তৈরি হয়েছে, তা নিয়েও তরুণ নেতাকে কটাক্ষ করা হয়েছে। লেখা হয়েছে, "আজকের সমাজ ব্যবস্থায় শিরদাঁড়া সোজা রেখে রাজনীতিতে সৎ কোনও দলে থাকতে হিম্মত লাগে, অসৎ দলে যাওয়া ভীষণ ভীষণই সহজ...।"
যদিও প্রতীকের বক্তব্য, ছবিটি অন্তত বছর দুয়েকের পুরনো। সম্ভবত সেটি শিয়ালদহ বা কলেজ স্ট্রিটে কোনও বইয়ের স্টল উদ্বোধনের ছবি। প্রতীক বলেন, "ছবিটি যে সময়ে তোলা হয়েছে, সেই সময় আমি এসএফআইএ-এর সভাপতি। আর এই কর্মসূচিটাও এসএফআই-এরই। সেখানে মহম্মদ সেলিমের (Md Salim) থাকার কথা ছিল না। উনি খবর পেয়ে এসে পড়েছিলেন। কিন্তু আমারই ফিতে কাটার কথা ছিল।"
প্রতীকের এই বক্তব্যকে সমর্থনও করেছেন সিপিএমের অন্য একটি অংশ। তাঁদের মত, যাঁরা এই ছবি প্রকাশ্যে এনেছেন, তাঁরা আদতে সেলিমপন্থী বলেই পরিচিত। প্রতীকের বিরুদ্ধে কুৎসা রটাতেই এ কাজ করা হচ্ছে এখন। প্রতীক ঘনিষ্ঠ একজনের কথায়, "মহম্মদ সেলিম ওই অনুষ্ঠানে আচমকাই এসেছিলেন। এই উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ভাবেই সে দিন তোলা হয়েছিল। সেলিম ছবি তুলতে ভীষণ ভালোবাসেন। যুবনেতাদের সামনে এগিয়ে দেওয়া হচ্ছে, সেই দৃশ্যই ক্যামেরাবন্দি করে রাখতে চেয়েছিলেন উনি। কিন্তু আদতে তা সত্য নয়।"
সেলিম যে যোগ্যদের দলে গুরুত্ব দেননি, প্রকাশ্যে আসা ছবিটিকে হাতিয়ার করে আবার সেই প্রশ্ন তুলেছেন প্রতীক। তিনি বলেন, "এই ছবিটিই ভালো করে দেখুন। এখানে আমি আর কলতান আছি। কিন্তু এখন কলতান কোথায়? কলতান কি যোগ্য নয়? কিন্তু ওঁকে জায়গা দেওয়া হয়নি। ঠিক একই ভাবে আমাকেও দিনের পর দিন কোণঠাসা করা হয়েছে। ছবিটি এখন উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ভাবে ছড়িয়ে আমার ভাবমূর্তি নষ্টের চেষ্টা করা হচ্ছে।"
এ বিষয়ে সেলিমের সঙ্গেও যোগাযোগ করেছিল সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল। কিন্তু তিনি ফোন ধরেননি।
