অভিরূপ দাস: ফাল্গুনে রাজপথ ভাসল জলের তোড়ে। বৃষ্টি নয়। শনিবার সকাল ১০টা কুড়ি নাগাদ আচমকাই টালা ট্যাঙ্কের ২০ ইঞ্চি ব্যাসার্ধের একটি জলের পাইপ ফেটে বিপত্তি বাঁধে। প্রায় ৫ ঘণ্টা জল সরবরাহ বন্ধ রইল কাশীপুরের বিস্তীর্ণ এলাকায়। সমস্যায় পড়েন কাশীনাথ দত্ত রোড, খগেন্দ্র চ্যাটার্জি রোড, রুস্তমজি পারসি রোড, পাইকপাড়া রো।
প্রথম দেখতে পান পথচারীরা-সমুদ্রের স্রোতের মতো জল বেরিয়ে আসছে রাস্তায়। মোবাইলে ছবি তুলতে শুরু করেন ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকা কয়েকজন। খবর যায় মেয়র ফিরহাদ হাকিমের কাছে। জল সরবরাহ বিভাগের ডিজি মৈনাক মুখোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে টিম পৌঁছয় টালায়। যুদ্ধকালীন তৎপরতায় শুরু হয় পাইপ মেরামতির কাজ। বিকেলের জল আসার আগেই মেরামত করা হয়েছে পাইপটির।
[আরও পড়ুন: জামিন কৌস্তভ বাগচির, আদালতে খারিজ পুলিশের আরজি]
কিন্তু প্রশ্ন একটাই, কী করে ফাটল পাইপ? যে পাইপটি ফেটেছে তা দিয়ে জল সরবরাহ হয় উত্তর কলকাতার বিটি রোড, কাশীপুর-সহ বিস্তীর্ণ এলাকায়। অধুনা উত্তর কলকাতায় জলের চাপ যথেষ্ট। এতদিন পলতা জল প্রকল্প থেকে ২১০ মিলিয়ন গ্যালন জল সরবরাহ করা হত টালা জলাধারে। তা আরও ২০ মিলিয়ন গ্যালন বৃদ্ধি পাওয়ার জেরে স্বাভাবিকভাবেই জলের গতি বেড়েছে। আগে উত্তর কলকাতার বিস্তীর্ণ এলাকায় আগে এক বালতি জল ভরতি হতে যে সময় লাগত এখন লাগে তার অর্ধেক। পুরসভা সূত্রে খবর, জলের অত্যধিক চাপেই ফেটে গিয়েছে টালা ট্যাঙ্কের পাইপ। ৪০ ফুট উঁচু থেকে জল উপচে পড়ে রাস্তা নদীর চেহারা নিয়েছিল।
এদিন পাইপ মেরামতির জন্য জল বন্ধ রাখা হয়েছিল। যার ফলে কলকাতা পুরসভার ১ থেকে ৬ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দারা বিপাকে পড়েন। তবে সবচেয়ে অসুবিধায় পড়েন বসতির বাসিন্দারা। টালার এই পাইপ থেকে পুরসভার ১ নম্বর বরোর জল পৌঁছয়। সে বরোর চেয়ারম্যান তরুণ সাহা জানিয়েছেন, এখন অধিকাংশ বাড়িতেই রিজার্ভার। জলের যা গতি তাতে সকালে আধ ঘন্টার মধ্যেই ভরে যায় বাড়ির রিজার্ভার। সেই জলই দিনভর ব্যবহার করেন বাসিন্দারা। ফলে জল বন্ধ থাকায় খুব যে অসুবিধা হয়েছে তা নয়। কারণ তার আগেই রিজার্ভার ভরতি হয়ে গিয়েছিল।
[আরও পড়ুন: বেতন নেই, মিলছে না পর্যাপ্ত খাবারও, আর্থিক বিপর্যয়ে বেহাল দশা পাক সেনার]
কিন্তু এই বরোর ৬ নম্বর ওয়ার্ডে ৮০ শতাংশ বসতি থাকার কারণে সে সুবিধা নেই। এখানকার বাসিন্দারা নির্ভর করে থাকেন রাস্তার ধারের কলের উপরে। জল বন্ধ থাকায় সকালে দীর্ঘক্ষণ তারা জল পাননি। ৬ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর সুমন সিং জানিয়েছেন, “আমার ওয়ার্ডে ঘোষ বাগান, ঘেষিয়াড়া, তালপট্টি জু়ড়ে অসংখ্য দিন মজুরের বাস। তারা সকালে দীর্ঘক্ষণ জল পাননি। তবে দুপুর তিনটের মধ্যেই সমস্যা মিটে গিয়েছে বিকেলের জল পেয়েছেন ওই সমস্ত এলাকার বাসিন্দারা।” শনিবার দুপুর সাড়ে তিনটে নাগাদ শেষ হয় মেরামতির কাজ।
