রাষ্ট্রপতির রাজ্য সফরে কোনও প্রোটোকল লঙ্ঘন করা হয়নি। প্রামাণ্য নথি এবং সফরের ঘটনাক্রম তুলে ধরে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের কাছে রিপোর্ট পাঠাল নবান্ন। গত শনিবার রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু (President Droupadi Murmu) আন্তর্জাতিক আদিবাসী ও সাঁওতাল সম্মেলনে যোগ দিতে উত্তরবঙ্গে আসেন। সেই সফরকে ঘিরেই বিতর্ক দানা বাধে। রাষ্ট্রপতির সফরের জন্য নির্দিষ্ট প্রোটোকল মানা হয়নি, এই অভিযোগ তুলে রাজ্যকে চিঠি পাঠায় অমিত শাহর কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক।সূত্রের খবর, রবিবার রাজ্যের মুখ্যসচিব নন্দিনী চক্রবর্তী কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রসচিব গোবিন্দ মোহনের কাছে রাষ্ট্রপতির সফর এবং প্রোটোকল সংক্রান্ত নথি ও উত্তরবঙ্গ সফর সংক্রান্ত ঘটনা সংবলিত তথ্য রিপোর্ট আকারে পাঠিয়ে দিয়েছেন।
সূত্রের খবর, রবিবার রাজ্যের মুখ্যসচিব নন্দিনী চক্রবর্তী কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রসচিব গোবিন্দ মোহনের কাছে রাষ্ট্রপতির সফর এবং প্রোটোকল সংক্রান্ত নথি ও উত্তরবঙ্গ সফর সংক্রান্ত ঘটনা সংবলিত তথ্য রিপোর্ট আকারে পাঠিয়ে দিয়েছেন।
সেই রিপোর্টে সুষ্পষ্ট ব্যাখ্যা দিয়ে রাজ্য সরকার বুঝিয়ে দিয়েছে, এ ক্ষেত্রে প্রোটোকলের কোনও নির্দেশই অমান্য করা হয়নি। রিপোর্টে ওইদিনের পুরো ঘটনাক্রম, সফর সংক্রান্ত প্রতিটি পর্যায়ে গৃহীত প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের রেকর্ড ও প্রাসঙ্গিক নথি দেওয়া হয়েছে। এমনকী, রাষ্ট্রপতি যে অনুষ্ঠানে এসেছিলেন, তার স্থান পরিবর্তনের বিষয়টিও কেন্দ্রকে জানানো হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের না থাকা নিয়ে যে প্রশ্ন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক তুলেছে, তারও ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে রিপোর্টে।
আগেই মুখ্যমন্ত্রী ধরনা মঞ্চ থেকে জানিয়েছেন যে, তিনি রাষ্ট্রপতির উপস্থিতিতে ওই অনুষ্ঠানের কথা জানতেনই না। মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে রাষ্ট্রপতির রাজ্য সফর সম্পর্কে অবহিত থাকলেও সংশ্লিষ্ট অনুষ্ঠানের উদ্যোক্তা কারা, কী নিয়ে এই অনুষ্ঠান, এ সব নিয়ে তাঁর ধারণাই ছিল না। রাষ্ট্রপতির সচিবালয় এবং নবান্নের মধ্যে নথি চালাচালির তথ্য সামনে এনে মুখ্যমন্ত্রী বুঝিয়ে দেন, রাষ্ট্রপতিকে স্বাগত বা বিদায় জানাতে কারা উপস্থিত থাকবেন, তা দু'পক্ষের আলোচনার মাধ্যমেই স্থির হয়েছে। সেই 'লাইনআপ'-এ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা তাঁকে স্বাগত এবং বিদায় জানানোর সময়ে উপস্থিত ছিলেন। ওই 'লাইনআপ'-এ মুখ্যমন্ত্রীর নাম ছিল না। এমনকী সফরের আগে গত ৫ মার্চ রাষ্ট্রপতির সচিবালয়ের প্রতিনিধিরা এলাকা পরিদর্শন করে। তখনও আয়োজক বেসরকারি সংস্থার তরফে পর্যাপ্ত প্রস্তুতি ছিল না। এ বিষয়ে জেলা প্রশাসনের তরফে রাষ্ট্রপতির সচিবালয়ে লিখিতভাবে জানানো হয়েছিল। ফোন করেও এই উদ্বেগের কথা জানানো হয়।
এছাড়াও কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক চিঠিতে রাষ্ট্রপতি, উপরাষ্ট্রপতি এবং প্রধানমন্ত্রী এবং তাঁদের পরিবারের নিরাপত্তার নিয়ম এবং প্রোটোকল তালিকাভুক্ত 'ব্লু-বুক'-এর নিয়ম মানা হয়নি বলেও রাজ্যকে জানিয়েছিল। মুখ্যসচিব তাঁর রিপোর্টে এসবের বিস্তারিত তথ্যপ্রমাণ ও নথি উল্লেখ করে রিপোর্ট পাঠিয়েছেন বলে প্রশাসনিকে সূত্রে খবর।
