এসআইআরের চূড়ান্ত তালিকা অনুযায়ী বিবেচনাধীন ভোটারের সংখ্যা ছিল ৬০ লক্ষ। মঙ্গলবার কলকাতা হাই কোর্টের তরফে সুপ্রিম কোর্টে জানানো হয়েছে, ১০ লক্ষের ইতিমধ্যে নিষ্পত্তি হয়ে গিয়েছে। ভোটের আগে এখনও বাকি ৫০ লক্ষের ভাগ্য নির্ধারণ কি সম্ভব? বিবেচনাধীনরা আদৌ ভোট দিতে পারবেন? মঙ্গলবারের সাংবাদিক বৈঠকে এই প্রশ্নের জবাব কার্যত এড়িয়ে গেলেন খোদ মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার। এর আগে রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক (সিইও) মনোজ আগরওয়ালও বিবেচনাধীন ভোটারদের কোনও দিশা দেখাতে পারেননি।
জ্ঞানেশ কুমার জানান, বিবেচনাধীন ভোটারদের নথি খতিয়ে দেখার কাজ করছেন জুডিশিয়াল অফিসাররা। তাঁরা ইতিমধ্যে সুপ্রিম কোর্টে রিপোর্ট জমা দিয়েছেন। জানিয়েছেন ১০ লক্ষের কাজ শেষ হয়েছে। এরপর বাকি ৫০ লক্ষ ভোটারকে নিয়ে একটি শব্দও খরচ করেননি জ্ঞানেশ। তবে তিনি বলেন, "যত তাড়াতাড়ি সম্ভব সাপ্লিমেন্টারি তালিকা প্রকাশ করা হোক।"
সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী গত ২৮ ফেব্রুয়ারি এসআইআরের চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। তারপর প্রয়োজনমতো সাপ্লিমেন্টারি তালিকা প্রকাশের কথা। প্রার্থীদের মনোনয়নের আগের দিন পর্যন্ত এই তালিকা প্রকাশ করা হবে। সেক্ষেত্রে আদৌ ভোটাধিকার রয়েছে কিনা, তা নিয়ে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত দোলাচলেই কাটাতে হবে বিবেচনাধীন ভোটারদের। রাজনৈতিক দলগুলি বিবেচনাধীন ভোটারদের নিষ্পত্তি না হওয়ার আগে ভোট হোক, তা চায় না। আগামী সপ্তাহেই হয়তো ভোটের নির্ঘণ্ট প্রকাশ করবে নির্বাচন কমিশন। সুতরাং শিয়রে ভোট। হাতে সময় প্রায় নেই বললেই চলে। সবে ১০ লক্ষের নথি খতিয়ে দেখার কাজ সম্পূর্ণ রয়েছে। সিংহভাগেরই বাকি। এই অল্প সময়ের মধ্যে আদৌ কি বাকিদের নিষ্পত্তি সম্ভব? সে প্রশ্ন যে তিমিরে ছিল, পড়ে রয়েছে সেই তিমিরেই। কমিশনের তরফেও পাওয়া যাচ্ছে না সদুত্তর। সুতরাং ঝুলেই রইল বিবেচনাধীনদের ভাগ্য।
