স্টাফ রিপোর্টার: পানীয় জলের অপচয় রুখতে একটি নতুন আইন আনার কথা ভাবছে রাজ্য সরকার। বুধবার এ কথা জানিয়েছেন রাজ্যের জনস্বাস্থ্য কারিগরি মন্ত্রী পুলক রায়। তাঁর কথায়, পানীয় জলকে চাষের জমি-সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে যেভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে, তা বন্ধ করতেই এই বিল আনার ভাবনা। পাশাপাশি রাজ্যে বিদ্যুতের ব্যবহারে আরও স্বচ্ছতা আনতে ৩৭ লক্ষেরও বেশি ডিজিটাল স্মার্ট মিটার বসানো হচ্ছে বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎমন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস।
এদিন বিধানসভায় এক প্রশ্নের উত্তরে জনস্বাস্থ্য কারিগরি মন্ত্রী পুলক রায় বলেন, ‘‘জল জীবন মিশনের অধীনে এখনও পর্যন্ত ৬২ লক্ষ ৮২ হাজার ২৮১টি পরিবারে জলের সংযোগ দেওয়া হয়েছে। ২০২৫ সালের মার্চ মাসের মধ্যে রাজ্যের গ্রামীণ এলাকার প্রতিটি বাড়িতে পরিস্রুত জল পৌঁছে দিতে আমরা প্রতিজ্ঞাবদ্ধ।” এসময় ইটাহারের বিধায়ক মোশারফ হোসেন অভিযোগ করেন, তাঁর এলাকায় বেআইনি সংযোগের সাহায্যে পানীয় জল নিয়ে নিচ্ছে কিছু লোক। পাশাপাশি জলের পাইপলাইন ন্যাশনাল হাইওয়ের ওপার পর্যন্ত এসে থেমে যাওয়ায় বেশ কিছু গ্রামের বহু মানুষ পরিস্রুত পানীয় জল থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
[আরও পড়ুন: ‘অন্ধকার চাঁদে’ আলো ছড়িয়ে যাত্রা শুরু প্রজ্ঞানের, চাঁদের মাটিতে জলের খোঁজ চালাবে রোভার]
জবাবে মন্ত্রী বলেন, বেআইনি ভাবে পানীয় জলের সংযোগ নেওয়ার বিরুদ্ধে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদেরই সচেতন হতে হবে এবং এলাকার মানুষকে নিয়ে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। এই অশুভ প্রবণতা রুখতে আগামীদিনে একটি বিল আনার চিন্তাভাবনা সরকারের রয়েছে বলে তিনি জানান। মন্ত্রীর কাছে এদিন জামুড়িয়ার বিধায়ক হরেরাম সিং অভিযোগ করেন, আসানসোল পুর এলাকায় পানীয় জলের সংযোগ দেওয়ার জন্য পাঁচ থেকে দশ হাজার টাকা দাবি করচ্ছে একশ্রেণির কর্মী-আধিকারিক। জবাবে মন্ত্রী বলেন, জলের সংযোগের জন্য কোনও টাকা নেওয়া হয় না। এরকম অভিযোগ পেলে পুলিশে এফআইআর দায়ের করুন। অভিযোগ পেলেই পুলিশ ওই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করবে।
এদিন প্রশ্নোত্তর পর্বে বিদ্যুৎমন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস জানান, রাজ্যের প্রতিটি গ্রামে বিদ্যুৎ পৌঁছে গিয়েছে। এমন কোনও গ্রাম নেই যেখানে বিদ্যুতের সংযোগ পৌঁছয়নি। ২০২২-২৩ অর্থবর্ষে রাজ্যের ৭৪ লক্ষ পরিবারকে ‘হাসির আলো’ প্রকল্পের আওতায় আনা হয়েছে বলে তিনি জানান। বাঁকুড়ার শালতোড়ার বিজেপি বিধায়ক এদিন অভিযোগ করেন, তাঁর এলাকার বেশ কিছু গ্রামে বিদ্যুতের খুঁটি বসলেও সংযোগ আসেনি। উত্তরে বিদ্যুৎমন্ত্রী বলেন, ‘‘আবেদন না করলে কীভাবে বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়া হবে? আপনি সবাইকে এক করে আবেদন করতে বলুন।”
