ছাব্বিশের নির্বাচনী লড়াইয়ে এবার জন-মন বুঝতে উদ্যোগী গেরুয়া শিবির। দলের নতুন সর্বভারতীয় সভাপতি নীতীন নবীন রাজ্য নেতাদের নির্দেশ দিয়েছিলেন পথে নামার। সেইমতো শনিবার থেকে কার্যত পথে নামল বঙ্গ বিজেপি। তবে তাতে তাদের সাংগঠনিক দুর্বলতা আরও প্রকাশ্যে চলে এল। নিচুস্তরের নেতা-কর্মীদের উপর আস্থা রাখতে না পেরে এবার জনতার পরামর্শ নিয়ে ইস্তেহার তৈরির পথে হাঁটল পদ্ম ব্রিগেড। শনিবার থেকে সেই যাত্রা শুরু হল। সল্টলেকে বিজেপির কার্যালয় থেকে রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের হাত ধরে সূচনা হল 'সংকল্প পত্র পরামর্শ যাত্রা কর্মসূচি'র। পশ্চিমবঙ্গে ১০০০ টি জায়গায় থাকবে এই ড্রপ বক্স।
বিজেপি কার্যালয়ে সংকল্প পত্র পরামর্শ যাত্রা কর্মসূচির সূচনায় শমীক ভট্টাচার্য, তাপস রায়, স্বপন দাশগুপ্ত। ছবি: ফেসবুক
এদিন সাংবাদিক বৈঠকে শমীক ভট্টাচার্য জানিয়েছেন, ‘‘আমাদের সংকল্প পত্র (ইস্তেহার) যেন সর্বব্যাপী হয়, সেই কারণে সংকল্প পত্র পরামর্শ যাত্রা কর্মসূচি আজ থেকে শুরু হচ্ছে। ২ কোটি ৩৮ লক্ষ মানুষ বিজেপিকে ভোট দিয়েছে। পশ্চিমবঙ্গে পরিবর্তন আনতে পারে বিজেপি - এটা মানুষ মনস্থির করেছে। তাঁদের পরামর্শ গ্রহণ করতে পশ্চিমবঙ্গের ১০০০ টি জায়গায় থাকবে এই ড্রপ বক্স। এই কমিটির সকল সদস্য যাবে বিজেপির ৪৩ টি সাংগঠনিক জেলায়।'' শমীক আরও জানান, ‘‘১৭ ও ১৮ ফেব্রুয়ারি কলকাতায় ভ্রাম্যমাণ গাড়ি এই ড্রপ বক্স নিয়ে ঘুরবে। ৯৭২৭২৯৪২৯৪ এই নম্বর এর মাধ্যমে মেল আইডি, কিউআর কোড বা সরাসরি দলীয় দপ্তরে চিঠির মাধ্যমে মানুষ তাঁর মতামত জানাতে পারেন। আমাদের লক্ষ্য বেকার শিক্ষিত যুবকদের চাকরি, আমাদের অনুরোধ শিল্পপতিদের কাছে যাঁরা শিল্পক্ষেত্রে বিনিয়োগ চাইছেন, আমরা পরামর্শ চাইছি। সাধারণ মানুষের কাছে কীভাবে রাজ্যে বিভিন্ন ক্ষেত্রে উন্নয়ন সম্ভব।''
এবার জনতার পরামর্শ নিয়ে ইস্তেহার তৈরির পথে হাঁটল পদ্ম ব্রিগেড। শনিবার থেকে সেই যাত্রা শুরু হল। সল্টলেকে বিজেপির কার্যালয় থেকে রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের হাত ধরে সূচনা হল 'সংকল্প পত্র পরামর্শ যাত্রা কর্মসূচি'র। পশ্চিমবঙ্গে ১০০০ টি জায়গায় থাকবে এই ড্রপ বক্স।
কী কারণে তাঁদের 'সংকল্প পত্র পরামর্শ যাত্রা কর্মসূচি', তাও জানিয়েছেন শমীক। কেন্দ্রীয় সরকারের বিরোধিতা করতে গিয়ে ১৩ টি কেন্দ্রীয় প্রকল্প থেকে রাজ্যের মানুষকে বঞ্চিত করা হয়েছে বলে অভিযোগ তাঁর। সেসব প্রকল্পের সুফল ব্যাখ্যা করে ১০ হাজার চিঠি পৌঁছবে সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষের কাছে, সরাসরি তাঁদের পরামর্শ জানতে চাওয়া হবে। এই তালিকায় থাকবেন সেনাবাহিনী, শিক্ষক, অধ্যাপক, ছোট-বড় ব্যবসায়ী, অসংগঠিত শ্রমিক, প্রান্তিক মানুষ সকলে। ১৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত এই মতামত সংগ্রহের কাজ চলবে। বারবার বঙ্গের নির্বাচনী ময়দানে মুখ থুবড়ে পড়ার পর ছাব্বিশের ভোটে তাঁদের এহেন কর্মসূচি কতটা ফলপ্রসূ হবে, তা নিয়ে সংশয় রাজনৈতিক মহলের একটা বড় অংশ।
