ভোট গ্রহণের ৫ দিন আগে থেকেই রাজ্যে অঘোষিত রাষ্ট্রপতি শাসন জারি করতে চাইছে কমিশন। সমস্ত থানাকে কীভাবে নিষ্ক্রিয় করা যায়, নয়া ষড়যন্ত্র শুরু কমিশনের! শুক্রবার জেলাশাসক, পুলিশ সুপার, পর্যবেক্ষক ও মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের সঙ্গে বৈঠকে ইঙ্গিত দিলেন জাতীয় নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার।
আবার, মনোনয়নপত্রে নিজেদের সমাজমাধ্যম অ্যাকাউন্টের বিস্তরিত বর্ণনা দিতে হবে প্রার্থীদের। হলফনামায় জানাতে হবে, কার সমাজমাধ্যমে কতগুলি স্বীকৃত অ্যাকাউন্ট রয়েছে, কী কী অ্যাকাউন্ট রয়েছে এবং কোন কোন প্ল্যাটফর্মে অ্যাকাউন্ট রয়েছে তা হলফনামায় জানানোর নির্দেশ জারি করল কমিশন।
এদিকে, শুক্রবার অতিরিক্ত তালিকা প্রকাশের কথা থাকলেও ইদের কারণে তা করা হয়নি। সোমবার প্রথম দফার তালিকা প্রকাশ হবে। ওই সপ্তাহেই দ্বিতীয় তালিকা প্রকাশ হতে পারে। এখনও পর্যন্ত ২৭লক্ষ ২৩ হাজরের নিষ্পত্তি হয়েছে। কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে, এই মাসের মধ্যেই আরও দু'হাজার কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী আসছে।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি জমানায় দেশ জুড়ে অঘোষিত রাষ্ট্রপতি শাসন চলছে বলে বারবারই অভিযোগ করেছে বিরোধীরা। সোচ্চার হয়েছেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এবার বিধানসভার ভোটকে কেন্দ্র করে তেমনই দেখতে হতে পারে বঙ্গবাসীকে। ভোটের আগে থানাগুলিকে নিষ্ক্রিয় করে আধা সেনার উপর দায়িত্ব তুলে দেওয়ার পরিকল্পনা শুরু করল কমিশন।
সূত্রের খবর, এদিন দফায় দফায় বৈঠকে জাতীয় নির্বাচন কমিশনের তরফে নির্দেশ দেওয়া হয়, ভোটগ্রহণের পাঁচদিন আগেই আধা সেনার হাতে এলাকার আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্ব ছেড়ে দিতে হবে। পুলিশ শুধু কেস ডায়েরি লিখবে ও আইনি পদক্ষেপ করবে। ভোটের দিনও যাতে পুলিশকে নিষ্ক্রিয় রাখা যায় সেই পরিকল্পনাও শুরু করেছে কমিশন। আগে বুথে ভোটার লাইন ঠিক রাখার পাশাপাশি ভোটারদের সুযোগ-সুবিধা দেখত কলকাতা ও রাজ্য পুলিশ। এবার সেই কাজ করতে হবে সংশ্লিষ্ট বুথের বিএলও ও আধা সেনাকে।
এ ছাড়াও প্রার্থীদের প্রচারের ক্ষেত্রেও আগের তুলনায় আরও কড়া পদক্ষেপ করল কমিশন। শুক্রবার বিবৃতি জারি করে কমিশন জানিয়েছে, ভোটের আগে সমাজমাধ্যমে ভুয়ো প্রচার রুখতে বিজ্ঞাপন দেওয়ার জন্য আগে সংশ্লিষ্ট কমিটির কাছ থেকে অনুমোদন নিতে হবে। অনুমোদন ছাড়া সমাজমাধ্যম বা ইন্টারনেটের কোথাও বিজ্ঞাপন দিলে তা নিয়মভঙ্গ হিসাবে ধরা হবে ও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করা হবে। কমিশনের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, রাজনৈতিক বিজ্ঞাপনের জন্য যে কোনও দল বা প্রার্থী বা সংগঠনকে মিডিয়া সার্টিফিকেশন অ্যান্ড মনিটরিং কমিটির অনুমোদন নিতে হবে।
সমাজমাধ্যমে বিজ্ঞাপনের ক্ষেত্রেও এই নিয়ম প্রযোজ্য। জেলার এমসিএমসি-তে বিজ্ঞাপনের অনুমোদনের জন্য আবেদন করতে পারবেন প্রার্থীরা। স্বীকৃতি দলের সদর দপ্তর থেকে নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে আবেদন করতে হবে। কমিশন জানিয়েছে, রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের নেতৃত্বে একটি আপিল কমিটিও তৈরি করা হয়েছে। বিজ্ঞাপন সংক্রান্ত এমসিএমসি-র সিদ্ধান্তে কারও আপত্তি থাকলে ওই কমিটিতে পালটা আবেদন করা যাবে। তবে অনুমোদন ছাড়া কোনও ইন্টারনেট মাধ্যম বা ওয়েবসাইটে রাজনৈতিক বিজ্ঞাপন দেওয়া যাবে না। কমিশন জানিয়েছে, ভোটের মুখে সংবাদমাধ্যমে টাকা দিয়ে কোনও খবর প্রকাশ করা হচ্ছে কি না, এমসিএমসি তার উপর কড়া নজর রাখবে। এই বিষয় নিয়ে শুক্রবার পুলিশ, নোডাল অফিসার এবং অন্য আধিকারিকদের সঙ্গে কমিশন একটি বৈঠক করেছে। তাতে ভুয়ো প্রচার সম্বন্ধে আলোচনা হয়েছে। বিভিন্ন সমাজমাধ্যম কর্তৃপক্ষও সেই বৈঠকে ছিলেন। কমিশন সূত্রে খবর, ভোটের আগে সমাজমাধ্যমকে ব্যবহার করে ভুয়ো খবর প্রচার করেন অনেকে। তাতে সাধারণ মানুষ বিভ্রান্ত হন।
