''অবাধ শান্তিপূর্ণ ভোট করানোই কলকাতা পুলিশের লক্ষ্য।'' সোমবারই কলকাতা পুলিশ কমিশনার পদে যোগ দিয়েছেন অজয় নন্দ। দায়িত্ব নেওয়ার একদিন পর প্রথম সাংবাদিক বৈঠকেই শান্তিপূর্ণ ভোট করানোর ক্ষেত্রে কলকাতা পুলিশ যে তৈরি তা বুঝিয়ে দিলেন তিনি। শুধু তাই নয়, শান্তিপূর্ণ নির্বাচন করতে যা দরকার সেটাই করা হচ্ছে বলেও এদিন দাবি করেছেন কলকাতা পুলিশ কমিশনার। পাশাপাশি রাজ্যের মন্ত্রী শশী পাঁজার বাড়িতে হামলার ঘটনাকে দুর্ভাগ্যজনক বলেও এদিন মন্তব্য করেছেন তিনি। এমনকী ঘটনার দিন সঠিক সময়ে কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা নিয়ে যে অভিযোগ উঠছে, তাও এদিন উড়িয়ে দিয়েছেন অজয় নন্দ।
রবিবার বঙ্গ বিধানসভার (West Bengal Assembly Election) নির্ঘণ্ট প্রকাশ করে নির্বাচন কমিশন। সেদিনই তাৎপর্যপূর্ণভাবে রাজ্যের মুখ্যসচিব এবং স্বরাষ্ট্রসচিবকে পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। শুধু তাই নয়, রাজ্য পুলিশের ডিজি-সহ কলকাতা পুলিশ কমিশনার সুপ্রতিম সরকারকেও সরিয়ে দেয় নির্বাচন কমিশন। যা নিয়ে প্রকাশ্যে ক্ষোভ উগরে দেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এমনকী এই বিষয়ে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে চিঠিও দেন তিনি। এর মধ্যেই সোমবার কলকাতা পুলিশ কমিশনার পদে যোগ দিয়েছেন অজয় নন্দ। দায়িত্ব নেওয়ার পরেই এদিন সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন তিনি। আর সেখানেই তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, অবাধ এবং শান্তিপূর্ণ ভোট করানোটাই কলকাতা পুলিশের লক্ষ্য। পাশাপাশি কেন্দ্রীয় বাহিনীর সঙ্গে 'সংঘাতে'র বিষয়টি উড়িয়ে দিয়েই অজয় নন্দ বলেন, ''দফায় দফায় বাহিনী নির্বাচনে মোতায়েন করা হয়। পরোক্ষভাবে সাহায্য করে তারা। সিএপিএফ-কে কাজে লাগানোর বিষয়ে স্পষ্ট নির্দেশ থাকা উচিৎ।''
অন্যদিকে গত শনিবার একদিকে যখন ব্রিগেডে মোদির সভার প্রস্তুতি চলছে, সেই সময় রাজ্যের মন্ত্রী শশী পাঁজার বাড়িতে হামলার ঘটনা ঘটে। এই ঘটনায় নাম জড়ায় বিজেপি। প্রশ্ন ওঠে কেন্দ্রীয় বাহিনীকে কেন মোতায়েন করা হয়নি? সেই প্রসঙ্গে অজয় নন্দ বলেন, ''সেই সময় বাহিনী কাছে ছিল না। রাজ্যে এখন খুব বেশি বাহিনীও নেই।'' তবে আইনশৃঙ্খলা কলকাতা পুলিশ যথেষ্ট দায়িত্ব নিয়ে যে সামলাতে সক্ষম তাও এদিন স্পষ্ট করেন কলকাতা পুলিশের নয়া কমিশনার। শুধু তাই নয়, এই ঘটনার তদন্ত চলছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।
