পার্টির মধ্যে চাপে থাকার পরেও রানিনগর বিধানসভায় দাঁড়ানোর চেষ্টা করছেন সিপিএম রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম (Md Salim)! তাৎপর্যপূর্ণভাবে, সোমবার বামফ্রন্টের প্রথম দফার প্রার্থী তালিকায় মুর্শিদাবাদের রানিনগর বিধানসভা আসনে কোনও প্রার্থীর নাম ঘোষণা করা হয়নি। প্রসঙ্গত, গত ২০২৪-এর লোকসভা ভোটের নিরিখে এই রানিনগর বিধানসভায় এগিয়ে ছিল সিপিএম (CPM)। তাই এই আসনে লড়ার ইচ্ছাপ্রকাশ করেছেন সেলিম। এমনটাই সূত্রের খবর।
হুমায়ুন কবীরের (Humayun Kabir) সঙ্গে গোপন যোগাযোগ, অধীর চৌধুরীর সঙ্গে সুসম্পর্ক রাখা সেলিম যে কোনওভাবে মুর্শিদাবাদের নিজের প্রার্থী হওয়ার পথ যে খোলা রাখতে চেয়েছিলেন তা এদিন স্পষ্ট হয়েছে। আবার টালিগঞ্জ আসনটিও প্রথম দফার প্রার্থী ঘোষণায় ফঁাকা রাখা হয়েছে। টালিগঞ্জে শেষমেশ সিপিএমের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সুজন চক্রবর্তীর নাম ঢোকে কি না তা নিয়েও চর্চা শুরু হয়েছে।
হুমায়ুন কবীরের সঙ্গে গোপন যোগাযোগ, অধীর চৌধুরীর সঙ্গে সুসম্পর্ক রাখা সেলিম যে কোনওভাবে মুর্শিদাবাদের নিজের প্রার্থী হওয়ার পথ যে খোলা রাখতে চেয়েছিলেন তা এদিন স্পষ্ট হয়েছে।
সিপিএমের রাজ্য সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্যদের মধ্যে একমাত্র মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায় ছাড়া আর কেউ প্রার্থী হবেন না, সেটাই প্রাথমিকভাবে সিদ্ধান্ত হয়েছিল। কিন্তু দেবলীনা হেমব্রমকে প্রার্থী করা হয়েছে। কিন্তু খবর যেটা তা হচ্ছে বিশেষ অনুমতি করে সেলিম (Md Salim) দাঁড়াতে পারেন রানিনগরে। অন্যদিকে, সুজন চক্রবর্তী লড়তে না চাইলেও তাঁকে টালিগঞ্জে প্রার্থী করা হতে পারে। যাদবপুরে সুজনের সঙ্গে বিকাশ ভট্টাচার্যর নাম উঠেছিল। বিকাশকে যাদবপুরে প্রার্থী করা হয়েছে। তাই এবার টালিগঞ্জ ফঁাকা রাখা হয়েছে সুজন যদি দঁাড়ায়।
অন্যদিকে, চাপে পড়ে এবার বামফ্রন্টের প্রথম দফার প্রার্থী তালিকায় শরিকদের অনেকটা গুরুত্ব দিয়েই আসন ছেড়েছে সিপিএম। কিন্তু পঁাচটি আসন নিয়ে সমঝোতা হয়নি। শরিকি দ্বন্দ্ব সামনে এসেছে। এদিনের ঘোষিত তালিকায় কোচবিহার উত্তর, জলপাইগুড়ি সদর, হরিশচন্দ্রপুর ও গলসি আসনে প্রার্থী দিয়েছে সিপিএম। এই চার আস ছিল ফরওয়ার্ড ব্লকের ভাগে। এতেই ক্ষুব্ধ ফরওয়ার্ড ব্লকের রাজ্য সম্পাদক নরেন চট্টোপাধ্যায় সোমবার রাতে ফ্রন্ট চেয়ারম্যান বিমান বসুকে চিঠি দিয়ে বলেছেন বন্ধুত্বপূর্ণ লড়াই হবে। নরেন বলে, ঐক্য বিঘ্নিত হচ্ছে। আর কালীগঞ্জ আসনে সিপিএম তাদের প্রার্থীর নাম ঘোষণা করে দেওযায় চটেছে আরএসপি। এই আসনটির দাবিদার ছিল তারা। এই সমস্যা মেটার পরই দ্বিতীয় দফার তালিকাও প্রকাশ করে দেওয়া হবে বলে বামফ্রন্ট চেয়ারম্যান বিমান বসু জানিয়েছেন।
অন্যদিকে, চাপে পড়ে এবার বামফ্রন্টের প্রথম দফার প্রার্থী তালিকায় শরিকদের অনেকটা গুরুত্ব দিয়েই আসন ছেড়েছে সিপিএম। কিন্তু পাঁচটি আসন নিয়ে সমঝোতা হয়নি। শরিকি দ্বন্দ্ব সামনে এসেছে।
প্রথম দফার প্রার্থী তালিকায় ১৯২ জন প্রার্থীর নাম ঘোষণা করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে ফরওয়ার্ড ব্লকের ২১ জন, সিপিআইয়ের ১৬ জন, আরএসপির ১৩ জন, আরসিপিআই ও মার্কসবাদী ফরওয়ার্ড ব্লকের ১ জন করে রয়েছেন। সিপিএমের ১৪০ জন প্রার্থী। বামফ্রন্ট চেয়ারম্যান বিমান বসু সোমবার সাংবাদিক সম্মেলন করে ১৯২ জন প্রার্থীর তালিকা প্রকাশ করেছেন। উপস্থিত ছিলেন নরেন চট্টোপাধ্যায়, স্বপন বন্দে্যাপাধ্যায়, তপন হোড় প্রমুখ শরিক দলের নেতৃত্ব। বামফ্রন্ট চেয়ারম্যান বিমান বসু এদিন বলেন, ‘‘যে সব আসন নিষ্পত্তি হয়েছে সেই তালিকা প্রকাশ করা হল। প্রার্থী তালিকায় শরিকরা যেমন থাকবে তেমনই বাম সহযোগী হিসাবে লিবারেশন, আইএসএফ, কিছু নির্দল এবং কিছু বিশেষ ব্যক্তি থাকবে। এবার প্রচারের ধঁাচাও ভিন্ন প্রকৃতির হবে। রাজনৈতিক প্রচার পরিকল্পিতভাবে করতে চাই।’’
এদিকে, এতদিন বিজেপিকেই একমাত্র রাজনৈতিক ‘শত্রু’ বলে চিহ্নিত করা সিপিআই (এমএল) লিবারেশন এবার তৃণমূল-বিজেপিকে এক সারিতে বসিয়ে ভোটে লড়াইয়ের সিদ্ধান্ত নিল। সোমবার লিবারেশনের রাজ্য সম্পাদক অভিজিৎ মজুমদার বিজ্ঞপ্তি দিয়ে জানিয়েছেন, ছাব্বিশের ভোটে (West Bengal Assembly Election) তাঁরা ১০ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। বৃহত্তর বাম ঐক্য পুনর্গঠনের লক্ষ্যে সিপিএমের সঙ্গে আলোচনা সেরেই এই সিদ্ধান্ত বলে জানান তিনি।
