তিনি তৃণমূলের অন্যতম রাজ্য সাধারণ সম্পাদক। দলের অন্যতম প্রধান মুখপাত্র। প্রাক্তন সাংসদ। দলের যে কোনও দুঃসময়ে সবার আগে ঢাল তলোয়ার নিয়ে নেমে পড়েন। তবে পদের প্রতি সেভাবে মোহ তাঁর কোনওদিনই দেখা যায়নি। বরাবরই তিনি দলের 'সৈনিক' হিসাবে লড়াই করে এসেছেন। তৃণমূলের সেই অনুগত 'সৈনিক' এবার সরাসরি লড়বেন জনতার দরবারে। রাজ্যের শাসকদলের তরফে বিধানসভায় (West Bengal Assembly Election 2026) লড়বেন কুণাল (Kunal Ghosh)।
কুণালের রাজনৈতিক জীবন বহু উত্থান-পতন দেখেছে। বহুবার তাঁকে বিরোধী আক্রমণের মুখে পড়তে হয়েছে। সোশাল মিডিয়ায় তাঁকে নিয়ে রীতিমতো 'কুৎসা' হয়েছে। কেন্দ্রীয় এজেন্সিও তাঁর বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন তদন্ত করেছে। গ্রেপ্তার হয়ে জেলেও থাকতে হয়েছে। আবার কখনও দলের অন্দর থেকেও যে কোণঠাসা করার চেষ্টা হয়নি তেমনটা নয়। কিন্তু কোনও পরিস্থিতিতেই কুণাল দল ছাড়েননি। দলের দীর্ঘদিনের কর্মী তিনি, নানা ঘাত-প্রতিঘাত পেরিয়েও জোড়াফুল শিবিরেই রয়ে গিয়েছেন। অতীতে দল তাঁকে রাজ্যসভার সাংসদ করেছে। সাংসদ হিসাবেও তাঁর পারফরম্যান্স ঈর্ষণীয় ছিল। এবার সরাসরি ভোট রাজনীতিতে কুণাল।
২০২১ সালে যখন একের পর এক নেতা দল ছাড়ছেন, তখনও টেলিভিশন, সোশাল মিডিয়ায় একা কুম্ভের মতো কুণাল দলের প্রচার সামলেছেন। নিঃস্বার্থে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে চষে বেড়িয়েছেন। সেসময় স্পষ্ট করে দিয়েছিলেন, দলের টিকিট তিনি চান না।
বেলেঘাটা আসনে বিধায়ক ছিলেন পরেশ পাল। এবার তাঁর বদলে কুণালকে টিকিট দেওয়া হল। এমনিতে বেলেঘাটা তৃণমূলের 'নিরাপদ' আসন। গতবার উত্তর কলকাতার এই আসনে পরেশ পাল ৬১ হাজারের বেশি আসনে জেতেন। সাংগঠনিক দিক থেকে এই কেন্দ্রে বেশ শক্তিশালী রাজ্যের শাসকদল। টিকিট পেয়ে কুণাল দলের শীর্ষ নেত্রী এবং সেনাপতি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে ধন্যবাদ জানিয়েছেন তিনি। তাঁর কথায়, "মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ধন্যবাদ আস্থা রাখার জন্য। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে ধন্যবাদ। আমি এতদিন দলের সৈনিক হিসাবে কাজ করেছি। বরাবরই বলেছি, দল আমাকে যে ভূমিকায় চাইবে, আমি সেই ভূমিকায় দলের কাজ করব।" তবে বিরোধীদের কোনওভাবেই হালকাভাবে নিতে চান না কুণাল। আসলে তাঁর রাজনৈতিক লড়াই বরাবরই কঠিন। তাই কোনও লড়াইকেই তিনি সহজভাবে নেন না।
কুণালের টিকিট পাওয়াকে দলের কর্মীদের অনেকেই দলের প্রতি প্রশ্নাতীত আনুগত্য এবং কঠোর পরিশ্রমের 'পুরস্কার' হিসাবে দেখছেন। বস্তুত কুণাল নিজের ব্যক্তিগত এবং রাজনৈতিক জীবনে যতই ঝড়ঝাপটার মধ্যে দিয়ে যান না কেন, দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গ কখনও ছাড়েননি। জেলে যে সময় তাঁর প্রাণ সংশয়, তখনও নিয়মিত দলে চাঁদা দিয়ে গিয়েছেন। ২০২১ সালে যখন একের পর এক নেতা দল ছাড়ছেন, তখনও টেলিভিশন, সোশাল মিডিয়ায় একা কুম্ভের মতো কুণাল দলের প্রচার সামলেছেন। নিঃস্বার্থে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে চষে বেড়িয়েছেন। সেসময় স্পষ্ট করে দিয়েছিলেন, দলের টিকিট তিনি চান না। এরপর আর জি কর কাণ্ডে তৃণমূলকে যখন ব্যাকফুটে ফেলার চেষ্টা করছে বিরোধীরা, সোশাল মিডিয়ার শাসকদলের বিরুদ্ধে সোচ্চার অনেকেই, তখনও একা ঢাল তলোয়ার হাতে নেমে পড়েছিলেন এই কুণালই। এর মধ্যে যে দলের সঙ্গে সবসময় সম্পর্ক মসৃণ গিয়েছে, তা নয়। দলের একাংশের ষড়যন্ত্রে প্রকাশ্যে কাঁদতেও দেখা গিয়েছে। কিন্তু তাঁর প্রত্যয়কে টলানো যায়নি কখনও। সেই বহু যুদ্ধের সৈনিককে এবার ভোটযুদ্ধে নামালেন নেত্রী। শাসকদলের আস্থা যতটা জিততে পেরেছেন, ততটাই আমজনতার মন জয় করতে পারেন কি না, এখন তারই অপেক্ষা।
