এসআইআরের চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় ৬০ লক্ষের বেশি মানুষের নাম বিচারাধীন। শেষপর্যন্ত তাঁরা ভোট দিতে পারবেন কিনা, সেই নিয়ে চলছে চর্চা। নির্বাচন কমিশনকে কাঠগড়ায় তুলে ধর্মতলার মেট্রো চ্যানেলে ধরনায় বসেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এদিকে রবিবার রাতেই রাজ্যে আসছে নির্বাচন কমিশনের ফুল বেঞ্চ। সেই আবহে এবার দক্ষিণ কলকাতার কালীঘাটে দেখা গেল হোর্ডিং। আর সেগুলি নজরে আসতেই দেখা দিয়েছে রাজনৈতিক বিতর্ক। নির্বাচন কমিশনকে নিশানা করে এই হোর্ডিং পড়েছে বলে মত ওয়াকিবহাল মহলের।
কালীঘাটের ৮৩ নম্বর ওয়ার্ডের একাধিক জায়গাজুড়ে পড়েছে এইসব হোর্ডিং। শুটপরা, চোখে চশমা আঁটা এক ব্যক্তি ভূপতিত। মহিলার মুষ্টিবদ্ধ একটি হাত ওই ব্যক্তিকে কার্যত চেপে ধরে আছে। ওই হাতের চাপে বাঁচার চেষ্টা করছে ওই ব্যক্তি। অদূরে লেখা আছে, 'আমার ভুল হয়েছে। ক্ষমা করে দিন ম্যাডাম!!!' ওই মুষ্টিবদ্ধ হাতের উপর লেখা 'বাঘিনী'। হোর্ডিংয়ের উপরের দিকে আরও একজনকে দেখা যাচ্ছে। ওই ব্যক্তি চেয়ারে বসে। হোর্ডিংয়ের উপরের দিকে নীল রঙে বড় বড় করে লেখা, 'বাংলা মাথা নত করবে না'। এই হোর্ডিং নিয়েই দেখা দিয়েছে বিতর্ক।
রাজ্যে আসছে নির্বাচন কমিশনের ফুল বেঞ্চ। সেই আবহে এবার দক্ষিণ কলকাতার কালীঘাটে দেখা গেল হোর্ডিং। আর সেগুলি নজরে আসতেই দেখা দিয়েছে রাজনৈতিক বিতর্ক।
প্রশ্ন উঠেছে, ভূপতিত ওই ব্যক্তি কি নির্বাচন কমিশনার? চেয়ারে বসে থাকা ব্যক্তি বিচারপতি! আর ওই মুষ্টিবদ্ধ হাত? সেটি কি জননেত্রীর? গোটা বিষয়টিই কার্টুন আকারে তৈরি করা হয়েছে। তৃণমূল সূত্রে খবর, ওই হাত বাংলার মায়ের, মেয়েদের হাত। এসআইআরের নামে যে কর্মকাণ্ড চলছে বাংলাজুড়ে, তার প্রতিবাদেই ওই হোর্ডিং তৈরি হয়েছে বলে খবর। তৃণমূল নেত্রী তথা বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বারবার অভিযোগ করছেন, নির্বাচন কমিশন বিজেপির হয়ে কাজ করছে। বাংলার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র চলছে। বাংলার মানুষদের অধিকার রক্ষার জন্য কমিশনের বিরুদ্ধে লড়াই করছেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।
আগামী কাল রবিবার রাতেই বাংলায় আসছে নির্বাচন কমিশনের ফুল বেঞ্চ। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারও থাকবেন বলে খবর। বাংলায় ভোটের সম্ভাব্য দিনক্ষণ একাধিক বৈঠকের পরে স্থির হবে বলে মনে করা হচ্ছে। তার আগে এই হোর্ডিং ঘিরে রাজনৈতিক শোরগোল ছড়িয়েছে। বিজেপির তরফে এই হোর্ডিংকে ক্ষমার অযোগ্য, অশালীন বলে দাবি করা হয়েছে। নির্বাচন কমিশনকে অপমান করছে তৃণমূল। এই অভিযোগ গেরুয়া শিবিরের। যদিও সেই বক্তব্যকে কানে তুলতে নারাজ তৃণমূল নেতৃত্ব। মমতা, অভিষেক যে লড়াইয়ে নেমেছেন, এই হোর্ডিং তারই অন্যতম অঙ্গ বলে স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্বের দাবি।
